২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ক্রেডিট কার্ডে গলাকাটা চার্জ

ক্রেডিট কার্ডে গলাকাটা চার্জ - ছবি : সংগৃহীত

বলা হয়েছিল ব্যাংক যে খাতে সর্বোচ্চ সুদ আদায় করবে ক্রেডিট কার্ডে তার চেয়ে ৫ শতাংশের বেশি সুদ বা চার্জ আদায় করা যাবে না। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কোনো কোনো ব্যাংক ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি সুদ আদায় করছে। এ আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ের কারণে ১৮টি ব্যাংককে জবাবদিহিতার আওতায় এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ দিকে ক্রেডিট কার্ড নিয়ে ব্যাংকগুলোর আমলনামা উঠছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে। আগামী ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ব্যাংকগুলো হলো- জনতা, ঢাকা, ইস্টার্ন এক্সিম, আইএফআইসি, যমুনা, মিডল্যান্ড, মধুমতি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল, এনসিসি, এনআরবি কমার্শিয়াল, ওয়ান, দি প্রিমিয়ার, প্রাইম, স্ট্যান্ডার্ড, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন-

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে ৩২টি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। এ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে উচ্চ সার্ভিস চার্জ নেয়ার অভিযোগ ছিল। সার্ভিস চার্জ গ্রহাকদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেডিট কার্ডের জন্য একটি গাইডলাইন দেয়া হয়। এতে বলা হয় ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ড বাদে অন্য সেবাগুলোর মধ্যে যে সেবায় সর্বোচ্চ সুদ বা চার্জ আরোপ করে তার চেয়ে ৫ শতাংশের বেশি মুনাফ বা চার্জ আদায় করা যাবে না ক্রেডিট কার্ডের ওপর। যেমন, একটি ব্যাংক সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ সুদ আদায় করে ভোক্তা ঋণের ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ২৩ (১৮+৫) শতাংশের বেশি সুদ বা চার্জ আদায় করা যাবে না। গত ১ জানুয়ারি থেকে এ নীতিমালা পরিপালনের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। 

গত মে মাসে ব্যাংকগুলোর ঋণ বা বিনিয়োগের সুদ বা মুনাফার হার বিবরণী পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক দেখতে পায় ৩২টি ব্যাংকের মধ্যে ১৮টি ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনা মানেনি। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে আলোচ্য ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করেছে ক্রেডিট কার্ডের ওপর। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদ আদায় করেছে ওয়ান ব্যাংক সাড়ে ৩১ শতাংশ। অন্য খাতে সর্বোচ্চ সুদ আদায় করা হয় ১৮ শতাংশ। এতে সর্বোচ্চ সুদের সাথে পার্থক্য হয়েছে সাড়ে ১৩ শতাংশ, যা ৫ শতাংশের নিচে থাকার কথা ছিল। এভাবে সর্বোচ্চ সুদের সাথে সবচেয়ে বেশি পার্থক্য হয়েছে এনসিসি ব্যাংকের ১৬ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ১৫ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের ১৩ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ১২ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংকের সাড়ে ১১ শতাংশ, জনতা ব্যাংকের সাড়ে ১০ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের সাড়ে ৯ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৯ শতাংশ, মধুমতি ব্যাংকের সাড়ে ৯ শতাংশ।

নির্দেশনা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত চার্জ আদায় করায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গত ২৭ জুন ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। এজন্য ওই দিন ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেশির ভাগ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠির জবাব দিয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়া হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরো সংবাদ