১৮ নভেম্বর ২০১৮

চালের বর্ধিত মূল্য চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে

চাল আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করেছে সরকার। এই অজুহাতে বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপনের পর থেকেই চালের দাম বাড়ছে। প্রথমাবস্থায় ঢাকাসহ সারা দেশে চালের দাম বাড়লেও গত সপ্তাহে পাইকারি বাজারে বাড়েনি। ঢাকায় নতুন করে কেজিতে আরো এক টাকা বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির জন্য পাইকারি বিক্রেতারা আড়তদারদের এবং আড়তদাররা মিলমালিকদের দায়ী করছেন। যদিও পাইকারি বিক্রেতাদের তুলনায় খুচরা বিক্রেতারা অধিক হারে দাম বাড়িয়েছেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। এক মাসের ব্যবধানে মিলমালিকেরা কেজিতে এক টাকা এবং পাইকাররা দুই টাকা বাড়ালেও খুচরা বিক্রেতারা বাড়িয়েছেন তিন থেকে চার টাকা। সরকারের নজরদারির অভাবে এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে মধ্যস্বত্বভোগীরা চালের বর্ধিত মূল্য পকেটে ভরছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) রিপোর্ট অনুযায়ী, এক মাস আগে সরু চাল বিক্রি হয়েছিল ৫৮ থেকে ৬৬ টাকায়। গতকাল সে চাল বিক্রি হয় ৬০ থেকে ৬৮ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে দুই টাকা। একই অবস্থা মোটা চালের দামের ক্ষেত্রেও। এক মাস আগে বিক্রি হয়েছিল ৩৬ থেকে ৪০ টাকা এবং গতকাল বিক্রি হয় ৩৮ থেকে ৪২ টাকায়। যদিও খুচরা বিক্রেতাদের দাবি ঈদের পরে চালের পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছিল, এখনো সে দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে। কমেওনি বাড়েওনি। 

বাজারের এই অবস্থার জন্য সরকারের মনিটরিং দুর্বলতাকে দায়ী করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমানের দাবি, ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার মানসিকতার কারণে সাধারণ মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর উচিত শক্ত হাতে এসব বিষয়ে মনিটরিং করা।

তবে চালের বাজার নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। উৎপাদক পর্যায়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তারা ব্যবসায়ী নেতাদের ডেকেছেন। কয়েক দিন আগে সিটি গ্রুপকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে, যেন চালের বস্তার গায়ে দাম লেখা থাকে। খুব শিগগিরই আড়তগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। 
গতকাল রাজধানী ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফার্মের লেয়ার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। গত সপ্তাহে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া ফার্মের লেয়ার মুরগি গতকাল খুচরা বাজারে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। পাকিস্তানি জাতের কক মুরগি ২০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হয় ২৪০ টাকা পর্যন্ত। মাঝারি আকারের এক হালি কক মুরগির দাম হাঁকা হয় ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। আর দেশী মুরগির দাম তো আকাশছোঁয়া। কেজি পড়ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

বাজারে গতকাল পটোল, ঢেঁড়স, বরবটি, চিচিঙ্গা প্রভৃতি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। কাঁকরোল পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। কাঁচামরিচ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, শসা ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৩০ থেকে ৫০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, প্রতি পিস জালি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ধনিয়া পাতার কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫ থেকে ২৮ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর ছড়ার কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, লেবুর হালি ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে সব ধরনের মাছের। বাজারে গতকাল মাঝারি আকারের একেকটি ইলিশ বিক্রি হয় ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা দরে। খুচরা বাজারে গতকাল প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০ থেকে ১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতি কেজি পাঙ্গাস ১৪০ থেকে ২৫০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, প্রকারভেদে চিংড়ি ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।


আরো সংবাদ