১৯ জুলাই ২০১৮

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের লোকসান কমাতে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি!

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের লোকসান কমাতে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি! - সংগৃহীত

বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান অর্ধেকের কমিয়ে দেয়া হয়েছে। বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মোট লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মোট লোকসানের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিদায়ী অর্থবছরে লোকসান কমেছে ৩ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ থেকে সদ্য প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮’-তে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসানের এ খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লোকসানী প্রতিষ্ঠানের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ‘বাংলাদেশ বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড’ (বিপিডিবি)। যদিও প্রতিষ্ঠানটির লোকসান চলতি অর্থবছরে ৩ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা কমেছে। বছরের পর বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি টানা লোকসান দিয়ে আসছে। বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিপিডিবি’র লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ হাজার ২৪৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) বিপিডিবি ৫ হাজার ১৪১ কোটি ২৭ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছিল।
জানা গেছে, গত বছরের ২৩ নভেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয় ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এই হার গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যকরও করা হয়েছে। নতুন হারে আবাসিকে মাসে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের খরচ বেড়েছে ১৫ টাকা, ১৫০ ইউনিটে ৪৮ টাকা, ২৫০ ইউনিট পর্যন্ত ৯০ টাকা, ৪৫০ ইউনিট পর্যন্ত ১৯৬ টাকা এবং ১০০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের খরচ বেড়েছে ৬০৪ টাকা। এই বৃদ্ধি ফলে বিপিডিপি’র লোকসানের পরিমান কমে এসেছে। এবং এর একটি প্রভাব পরেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট লোকসানের ওপর।

এদিকে,লোকসানের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন’ (বিসিআইসি)। এ সংস্থাটির লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ৮৩৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা এর আগের বছরের তুলনায় ৩৮২ কোটি ২৯ লাখ টাকা বেশি। গত অর্থবছরে সংস্থাটি ৪৫৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছিল।

তৃতীয় লোকসানী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড’ (আরইবি)। টানা তিন বছর ধরে লোকসানে থাকা আরইবি’র লোকসান গত অর্থবছরের তুলনায় কমেছে। বিদায়ী অর্থবছরে এর লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬৪৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা। গত অর্থবছর সংস্থাটি ৯৭৫ কোটি ২ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছিল।

বিদায়ী অর্থবছরে ‘বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন’ (বিজেএমসি)-এর লোকসানের পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৮৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৫৩০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। গত দশ বছরের মধ্যে ২০১০-১১ অর্থবছরে বিজেএমসি মাত্র একবার ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করেছিল।

‘বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন’ (বিএসএফআইসি)-এর লোকসানের পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪০৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছর সংস্থাটি ৪৪০ কোটি ৪২ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছিল। টানা লোকসানে থাকা বিএসএফআইসি গত ২০০৫-০৬ অর্থবছরে মাত্র একবার ৩৫ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছিল।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিআরটিসি’র লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে লোকসান দিয়েছিল ৮৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বছরের পর পর টানা লোকসান দিয়ে যাচ্ছে বিআরটিসি।

‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ’ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর লোকসান গত অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে সংস্থাটির লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। গত অর্থবছর লোকসান দিয়েছিল ১৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

সড়ক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-এর লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে সংস্থাটি লোকসান দিয়েছিল ১৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

টানা লোকসানী ‘বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন’ (বিটিএমসি)-এর লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ২৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে বিটিএমসি লোকসান দিয়েছিল ৩০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা’ (বিএফডিসি)-এর লোকসান টানা চার বছর ধরে বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে সংস্থাটির লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে সংস্থাটি লোকসান দিয়েছিল ১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

অব্যাহত লোকসানে রয়েছে ‘বিএফএফডব্লিউটি’। এর লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে সংস্থাটি লোকসান দিয়েছিল ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।


আরো সংবাদ