১৫ নভেম্বর ২০১৮

সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দেবে ৬ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক

সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দেবে ৬ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক - সংগৃহীত

আগামী ১ জুলাই থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ দেবে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। তবে নতুন এই ঋণ হার শুধুমাত্র সম্পূর্ণ নতুন ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অতীতে যারা উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েছেন সেগুলো এর আওতায় আসবে না। বুধবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল)-এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির এবং ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এখানে সিঙ্গেল ডিজিট বলতে ঋণের সুদের হার হবে সর্ব্বোচ্চ ১০ শতাংশ।

এদিকে বুধবার বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন ‘ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (বিএবি) এক সংবাদ সম্মেলনে জানায় যে, আগামী ১ জুলাই থেকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদের হার হবে ৬ শতাংশ এবং ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের বেশি হবে না। তবে আমানতের সুদের হার প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এই ঘোষণার বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি এটাকে ‘বেশ ভাল’ বলে মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো হচ্ছে একমাত্র ব্যাংক যাদের আমি ইন্সট্রাকশন দিতে পারি। তাদের আমানতের সুদের হার সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে আমানতের সুদের হার বেশি না-বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। কারণ এটা তাদের মুনাফার জন্য নয়, এটা মূলত বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য।

আর ঋণের সুদের হার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা আমরা এমন চাই। যেটা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। ঋণের সুদের হার এমন হওয়া উচিত নয়। যা বিনিয়োগ চায় না। সুতরাং ব্যাংকগুলোকে বলেছি যে, ঋণের সুদের হার যদি একটু নামিয়ে আনা যায় তাহলে ভাল হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকগুলোর সাথে আলোচনা করেছি, কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। ঋণের সুদের হার কত হবে এটা তারাই নির্ধারণ করবে।

এতে বাজারের ওপর কী প্রভাব ফেলবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা বাজারে ঋণের সুদের ওপর প্রভাব ফেলবে। এটা সর্বনিম্ন ৯ শতাংশে নেমে আসবে এবং ১০ শতাংশের বেশি হবে না।’
আগামী ১ জুলাই থেকে ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘এটা মনিটারি পলিসি সংক্রান্ত বিষয়।’

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ১ জুলাই থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আসবে। ফ্রেশ ঋণের ক্ষেত্রে নতুন এই হার প্রযোজ্য হবে।’
‘কিন্তু অতীতে যারা উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে কী হবে কিংবা এটা নিয়ে নতুন কোন অস্থিরতার সৃষ্টি হবে কি না’এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর কোন মন্তব্য করেন নি।

তবে সঙ্গে থাকা ডেপুটি গভর্নর এসএম নূরুজ্জামান বলেন, বৈঠকে এটা নিয়ে বা অত ডিটেলস কোন আলোচনা হয়নি। তবে বিষয়টি যখন অপারেশনে আসবে তখন কোন্ খাতে ঋণের হার কত হবে। সেটা ব্যাংকগুলো নিজেরাই ঠিক করবে। যদি তারা এক্ষেত্রে ফেল করে, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের গাইডলাইন দিয়ে সহায়তা দেবে।

এরআগে বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশানে জব্বার টাওয়ারে বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি) এর এক জররি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারের সভাপতিত্বে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শেষে সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ নির্ধারন করেছে। যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

বিএবি সভাপতি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের ধারা চাঙ্গা করতে জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে তিন মাস মেয়াদি আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৬ শতাংশ আর ঋণের সুদহার হবে ৯ শতাংশ। এর চেয়ে কোনো ব্যাংক সুদ বেশি নিতে পারবে না। যেসব ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ইতোমধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে বেসরকারি খাতের পাঁচটি ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংক প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যাংক খাতের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা যদি সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ নেয়ার ঘোষণা দেয় তাহলে আমরা কেন পারব না?


আরো সংবাদ