২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভূমিকম্পের পর আফটার শক কোথায় আঘাত করবে তা এখন বলা যাবে

ভূমিকম্পের পর আফটার শক কোথায় আঘাত করবে তা এখন বলা যাবে - ছবি : নয়া দিগন্ত

ভূমিকম্পের পর আফটার শক কোথায় আঘাত করবে তা এখন বলা যাবে। ভূমিকম্পবিষয়ক বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ‘আফটার শক’ কোথায় হবে বলতে পারবেন।
আফটার শক একধরনের প্রতিধ্বনি। একটি বড় ভূমিকম্পের পরপরই যে ছোট আকারে ভূমিকম্প একই এলাকায় হয়ে থাকে তা ‘আফটার শক’ নামে পরিচিত। আফটার শক যেমন বড় ভূমিকম্প সংঘটনের পরপরই হতে পারে আবার এটা ঘটতে কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। ভূমিকম্প সংঘটনের এলাকায় যেসব মানুষ কাজ করেন অথবা বসবাস করেন তারা আফটার শক কখন সংঘটিত হবে তা নিয়ে বেশ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকেন। ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে ও মানুষের উদ্বেগ কমাবে নতুন এই পূর্বাভাস।

সিসমোলজিস্টরা একটি মডেলের মাধ্যমে এখন নির্ভুলভাবেই বলতে পারবেন কখন আফটার শক হবে এবং এটা কতটা শক্তিশালী হবে। সার্চ ইঞ্জিন গুগল এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নিয়ে গঠিত গবেষকরা পূর্বাভাস প্রদানের পদ্ধতি বের করেছেন। 

গবেষকরা প্রথমে এক লাখ ৩১ হাজার ভূমিকম্প এবং এর পর সংঘটিত আফটার শকের ড্যাটাবেজ তৈরি করেন। ভূমিকম্পের ড্যাটাবেজ-সংবলিত মেশিন এলগোরিদম ব্যবহার করেন বিজ্ঞানীরা। 
তারা বলছেন, ভূমি থেকে টেকটোনিক প্লেট পর্যন্ত ভূমিকম্প সংঘটনের অনেকগুলো পর্যায় রয়েছে। এটা একটি জটিল প্রক্রিয়া। প্রযুক্তি দানব ফেসবুক, এমাজন, গুগল ব্যবহার করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এ প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধরনের ভার্চুয়াল সহযোগিতা অথবা ফলাফলও বিক্রি করছে। 

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ ও প্ল্যানেটরি সায়েন্সের অধ্যাপক ব্রেন্ডেন মিয়েড বলেন, রিখটার স্কেলে ৫ অথবা এর চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের পর মানুষ অনেক সময় ব্যয় করে থাকে ভূমিকম্পের একটি ‘মানচিত্র’ তৈরি করতে অথবা ভূমিকম্পের চ্যুতি কোথায় রয়েছে তা জানতে। এটা কতটুকু ছড়িয়ে পড়েছে এটাও জানতে সময় ব্যয় করে তারা। তিনি বলেন, অনেক গবেষণা একটি অথবা দু’টি ভূমিকম্পের পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে থাকে; কিন্তু আমরা সমস্ত ড্যাটাবেজই ব্যবহার করেছি। আমরা এই ড্যাটাবেসকে পদার্থবিজ্ঞান ভিত্তিক মডেলে ব্যবহার করেছি এটা জানতে যে, পৃথিবী কিভাবে ভূমিকম্পের পর সঙ্কোচন ও প্রসারণ করে। এই সঙ্কোচন ও প্রসারণের পরেই আফটার শক হয়ে থাকে। 

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ব্রেন্ডেনই প্রথম যিনি কয়েক বছর আগে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুগলের সহযোগিতায় গবেষণার সময় আফটার শক কোথায় হতে পারে এর একটি পূর্বাভাস দেন। তখন অবশ্য ‘ডিপ লার্নিং এলগোরিদম’ প্রতিষ্ঠিত হয়নি যা এখন বাস্তবতা। 

এর এক বছর পরই ব্রেন্ডেন ও তার সহকর্মীরা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে আরো উন্নতমানের আফটার শকের পূর্বাভাস প্রদান করতে পারছেন। ‘ভন মিসেস ইয়েল্ড ক্রাইটেরিয়ন’ নামক অঙ্কের জটিল মডেল ব্যবহার করে এখন তারা বলতে পারছেন যে, চাপের কারণে একটি পদার্থ কখন ভেঙে পড়বে। এটা প্রকৌশলীরা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন ‘মেটালার্জি ফিল্ডে’ (কোনো পদার্থের উৎপাদন ও এর বিশুদ্ধতার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি)। এখন এটা ভূমিকম্পবিষয়ক বিজ্ঞানে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অধ্যাপক ব্রেন্ডেন নেচার সাময়িকীতে বলেছেন। 
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ভূমিকম্পবিষয়ক বিজ্ঞানে পূর্বাভাস-সংক্রান্ত এটা একটি বিপ্লব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সব ধরনের বৈজ্ঞানিক বিষয় পুনর্গঠনের এটি একটি বিপ্লবের অংশ।’


আরো সংবাদ