০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন সমর্থন করে জাপান

রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন সমর্থন করে জাপান - ছবি : সংগৃহীত

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর পরিস্থিতিকে অত্যন্ত মারাত্মক হিসেবে বর্ণনা করে জাপান রোহিঙ্গাদের দ্রুত তাদের দেশ মিয়ানমারে ‘নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও মর্যাদার’ সাথে প্রত্যাবাসনের জন্য নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মঙ্গলবার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যাওয়া বাংলাদেশে নবনিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত নওকি ইতো বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে এ পরিস্থিতিতে যারা ভুগছেন তাদের সবার প্রতি আমাদের হাত বাড়িয়ে দিতে জাপান ও তার জনগণ দ্বিধা করবে না।’

রাষ্ট্রদূত জানান, তারা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও মর্যাদার সাথে ‘দ্রুত প্রত্যাবাসন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের পাশে আছেন।

‘শিবিরগুলোর লোকজনের চারপাশের পরিস্থিতি যা আমি মাত্রই দেখলাম তা অত্যন্ত মারাত্মক,’ বুধবার বলেন জাপানি রাষ্ট্রদূত। গত মাসে ঢাকায় আসার পর প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করলেন তিনি।

বাস্তুচ্যুত মানুষদের সাহায্যের জন্য এমন অত্যন্ত মারাত্মক পরিস্থিতিতেও নিজেদের নিবেদিত করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওগুলোর কর্মীদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রদূত ইতো শিবিরগুলোর ভেতরে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ক্লিনিক, পরিবেশ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ই-ভাউচার বিতরণকেন্দ্র, নারীদের পরিচালিত কমিউনিটি সেন্টার, শিক্ষাকেন্দ্র ও নিবন্ধনকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশ বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন শুরুর পর কক্সবাজারের উদ্বাস্তু শিবির ও স্থানীয়দের খাদ্য, আশ্রয়, চিকিৎসা সেবা ও মানবসম্পদ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিতে জাপান আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওগুলোকে মোটামুটি ৯৯ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মঞ্জুর করেছে বলে ঢাকার জাপানি দূতাবাস জানিয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন। তাদের বেশিরভাগই নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এ দেশে প্রবেশ করেছেন।

মিয়ানমার গত দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি। তবে দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘বিভ্রান্ত’ করতে দাবি করেছে যে মোট ৩৯৭ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরে গেছেন।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মধ্যে থাকা ‘আস্থার ঘাটতি দূর করতে ব্যর্থ হওয়ায়’ এবং তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনে ‘অনুকূল পরিবেশের অভাব’ থাকায় দুই বার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সূত্র : ইউএনবি


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik