১৫ অক্টোবর ২০১৯

এনআরসি নিয়ে ভারতের সাথে আলোচনা করবে বাংলাদেশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) বাংলাদেশের সমস্যা না। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তিনি বলেন, চলতি মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে এবং আগামী মাসে দিল্লিতে অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই দফা বৈঠক হবে। এ সব বৈঠকে দুই দেশের অনিষ্পন্ন ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন নিউ ইয়র্ক সফর নিয়ে বুধবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন এসব কথা জানান। তিনি বলেন, জাতিসঙ্ঘে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে কিছু প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হবে। এতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপত্তা ও তাদের অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিউ ইয়র্কে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় আলোচনা বসবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। তবে এতে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা কম।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ফোনালাপের ব্যাপারে জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তান তার অবস্থানের কথা তুলে ধরেছে। আমি বাংলাদেশের অবস্থান জানিয়েছি। বাংলাদেশ মনে করে কাশ্মির ইস্যুটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে নীতিগতভাবে বাংলাদেশ শান্তি ও জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশ্বাসী।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আদম পাচারকারী গ্রুপের সদস্যদের চিহ্নিত করা চেষ্টা করছে সরকার।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর হতে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশন নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে শুরু হয়েছে। ২৪ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর এই অধিবেশনের উচ্চ পর্যায়ের বিতর্ক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী আগামী শুক্রবার নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি কারণে এবারের অধিবেশনটি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ বিতর্ক পর্বের মূল প্রতিপাদ্যের আলোকে এবং বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সকলের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ, নারীর ক্ষমতায়ণ, অভিবাসন ও শরণার্থী সমস্যা নিয়ে বহুপাক্ষিক পর্যায়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ সব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এবারের অধিবেশনে সাধারণ বিতর্ক পর্বের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সভা হবে। এই সভাগুলোতে এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং এসডিজি'র লক্ষ্য পূরণে রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে একযোগে কাজ করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।

ড. মোমেন বলেন, জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা আলোচনায় আসবে। এ বিষয়ে বেশ কিছু ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এসব ইভেন্টে বাংলাদেশ অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরবে। এছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সাধারন পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ দফা এবং ৭৩তম অধিবেশনে দেয়া তিন দফা এখনো প্রাসঙ্গিক।

নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের সভাপতি।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum