২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯
কাশ্মির ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠক

কাশ্মিরী জনগণের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা

কাশ্মিরী জনগণের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা - ছবি : এএফপি

কাশ্মিরের বর্তমান পরিস্থিতিতে আজ শনিবার এক সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কাশ্মীরি জনগণের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করা হয় এবং বাংলাদেশের জনগণ কাশ্মিরী মজলুম মানুষের পাশে থাকবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। একইসাথে নেতারা ভারত সরকারকে সকল নিপীড়ন বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ কাশ্মীরিদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন, দলের মহাসচিব দেশের শীর্ষ আলেম আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী।

বৈঠকে নেতৃবৃন্দ ভারতের অধিকৃত জম্মু কাশ্মিরের বর্তমান পরিস্থতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশ থেকে স্বাধীনতাপরবর্তী ১৯৪৭ সালে ভারত যখন বিভক্ত হয়, তখন জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী কাশ্মীরের জনগনকে গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহনের যে অধিকার দেয়া হয়েছে, বর্তমান হিন্দুত্ববাদী উগ্র সন্ত্রাসবাদী বিজেপি সরকার তা বাতিল করে কাশ্মিরের জনগণের রক্ত নিয়ে হোলি খেলায় মেতে উঠেছে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ভারতের সংবিধানে ৩৭০ ও ৩৫/এ ধারায় কাশ্মীরকে অন্যান্য রাজ্য থেকে আলাদা স্বকীয়তা দেয়া হয়। সেখানে অকাশ্মীরি কোন লোক জমিজমা ক্রয় কিংবা চাকুরী-বাকুরী করতে পারবে না। নিরাপত্তা, পররাষ্ট্র ও অর্থ ব্যতীত বাকী সব ব্যাপারে তাদের স্বাধীনতা থাকবে। কিন্তু ভারত বিগত ৬৯ বছর ধরে জাতিসংঘ সনদ উপেক্ষা করে সেখানে গণভোট দেয়নি।

এ দীর্ঘ সময় ধরে ভারত কাশ্মিরীদের উপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে। হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নারী ধর্ষণের মতো জঘন্যতম বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ৩৭০ ও ৩৫/এ (ক) ধারা বাতিল করে কাশ্মীরকে দু’ভাগ করে দেয়া হয়েছে এবং বিধানসভা বাতিল করে পুরো কাশ্মির অঞ্চলকে কেন্দ্রীয় শাসনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে সেখানে কারফিউ ও ১৪৪ ধারা জারী করে তাদের উপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। কাশ্মীরের নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য জনগনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের খাদ্য-রসদপত্র বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে তাঁদের জীবন আরও দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আমরা নিরব থাকতে পারিনা।

বৈঠকে জাতীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ১৯৭১ সালে পাস্তিানের বিরুদ্ধে যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছে, তখন ভারত আমাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করেছে। ভারতের নাগরিক হিসাবে কাশ্মিরীরা এ সহযোগিতায় ছিল। আজ সময় এসেছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর। তাই আজকের এ সর্বদলীয় বৈঠক থেকে কাশ্মীরি জনগনের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করা হচ্ছে এবং বংলাদেশের জনগণ কাশ্মিরী মজলুম মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দিচ্ছে। আমরা ভারত সরকারকে সকল নিপীড়ন বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধ কাশ্মীরিদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।।

বৈঠকে দেশের সংখ্যাগরিষ্ট জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কাশ্মিরী মুসলমানদের পক্ষে বক্তব্য রাখার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয় যে, কাশ্মিরের জনগণের মানবাধিকার যেভাবে লংঘিত হচ্ছে তার প্রতিবাদ না করে সরকারের কতিপয় ব্যক্তির ভারত তোষণমূলক বক্তব্য খুবই দুঃখজনক। নেতৃবৃন্দ এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান ।

এছাড়া সকল আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ফোরামসমুহের প্রতি কাশ্মীরিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহবান জানানো হয়।

বৈঠকে আগামী শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয় এবং আসন্ন ঈদুলআজহাও জুমআর বয়ানে কাশ্মীরী জনগনের পক্ষে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও দোয়া করার জন্য খতিবদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীনের পরিচালনায় বৈঠকে স্বাগত বক্তৃতা করেন, জমিয়ত সহ সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী। বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্র্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (বীরপ্রতীক), ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির ড. মাওলানা ঈসা শাহেদী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক. জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করীম, বাংলাদেশ লেবার র্পাটির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশন্যাল আওয়ামী র্পাটির (ন্যাপ- ভাসানী) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ঢাকা মহানগর যুগ্মসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, এনডিপির চেয়ারম্যান কারী আবু তাহের, বাংলাদেশ পিপলস লীগের মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহমবুব হোসেন, মাওলানা মুস্তফা তারেকুল হাসান, মাওলানা আবদুল গফ্ফার ছয়ঘরী প্রমূখ।


আরো সংবাদ

সকল




portugal golden visa
paykwik