২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

প্রথম বিদেশ যাত্রায় দিল্লি যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী 

প্রথম বিদেশ যাত্রায় দিল্লি যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী  - সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারির শুরুতেই প্রথম বিদেশ সফরে যাবেন নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি সফরের মাধ্যমে তার এই যাত্রা শরু হবে। দুই দেশের কূটনীতিকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ ধরে নিয়েই ঢাকা-নয়া দিল্লির কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ যাত্রা সম্পর্কে ড. একে আব্দুল মোমেন জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়া দিল্লিই হবে তার প্রথম বিদেশ সফর।

ঢাকা-নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের খুব ভালো সময় যাচ্ছে। যে কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আব্দুল মোমেন প্রতিবেশী ভারতে প্রথম সফরে যাচ্ছেন। যেমনটি করেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও।

তবে আসন্ন সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন দুই দেশের পঞ্চম যৌথ কনসালটেটিভ কমিশনের বৈঠকে অংশ নেবেন। যেখানে দুই দেশের সম্পর্কের সব বিষয়ের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এই প্রসঙ্গে ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘ভারত আমাদের খুব কাছের বন্ধু। একাদশ সংসদের প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ হাসিনা শপথ নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সবার আগে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে নিয়োগ পাওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’

ঢাকার কূটনতিকরা বলছেন, আসন্ন পঞ্চম যৌথ কনসালটেটিভ কমিশনের বৈঠকের প্রস্তুতি নিতে গেল সপ্তাহে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি বিষয়ের আলোচনা আসন্ন সফরে না ওঠানোর জন্য কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন। পানি নিয়ে গঠিত দুই দেশের কমিটির পরবর্তী সময়ের বৈঠকে তিস্তা নিয়ে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। যতদিন এই ইস্যুতে সুরাহা না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যাব। আসন্ন নয়া দিল্লি সফরেও তিস্তা নিয়ে আলোচনা করব।’

ঢাকার কূটনীতিকরা আরও বলছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন সফরে ঢাকার পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা, বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা খাতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অগ্রাধিকার বিষয় হিসেবে অর্থনৈতিক কূটনীতির আওতায় ভারতের বেসরকারি খাতের আরও বিনিয়োগ চাইবে ঢাকা।

ভারতের বিনিয়োগকারীদের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দ, আরো ৬ থেকে ১০টি সীমান্ত হাট চালু, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর উন্নয়নে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড ব্যবহার, বেনাপোল স্থলবন্দর উন্নয়নসহ একাধিক দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলাপ করবেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে সমাঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। ওই সমাঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে গত বছরের ৯ মে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মোট ৩টি সমাঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

সমাঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে (গত ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে) বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়নে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দেয় ভারত। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন সফরে প্রতিরক্ষা খাতের এই বিষয়েও আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের সর্বশেষ যৌথ কনসালটেটিভ কমিশনের বৈঠক ২০১৭ সালের অক্টোবরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme