১৬ জুন ২০১৯

নির্বাচন নিয়ে আবারো শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসঙ্ঘের

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মুখপাত্র ডোজারিক - নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ নিয়ে আবারো সংশয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ও জাতিসংঘের সদর দফতর। শুক্রবার এক পৃথক বিবৃতিতে এ সংশয়ের বিষয়টি সংস্থা দু’টির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে জানানো হয়।

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগ করা পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন- (এনএফআরইএল)-কে পর্যবেক্ষনের জন্য পরিচয়পত্র ও ভিসা দিতে বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশন অনীহা প্রকাশ করার বিষয়ে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক উষ্মা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মূখপাত্র রবার্তো পেলাডিনো বৃহস্পতিবার দেয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা জানান।

বিবৃতিতে জানানো হয়, একটি আন্তর্জাতিক মানের গ্রহনযোগ্য নির্বাচন মনিটরিং এর কাজ যথযথভাবে শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউশনের অর্থায়নে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান এএনএফআইএল-এর সদস্যদের ভিসা ও পরিচয়পত্র প্রদান করতে বাংলাদেশ সরকারের অপারগতায় যুক্তরাষ্ট্র হতাশা ব্যক্ত করছে। যার ফলশ্রুতিতে আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয় যেকোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে জরুরি হচ্ছে শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নির্বাচনের চালচিত্র তুলে ধরতে স্বাধীন গণমাধ্যমকে কাজ করতে দেয়া, নির্বাচনে প্রতিদ্ধন্ধী ও ভোটারদের তথ্য আদান প্রদানের অধিকার নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ব্যাক্তি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের অপমান, ভয়ভীতি কিংবা সহিংসতা ব্যাতিরেকেই যেনো অংশ নিতে পারে তা নিশ্চিত করা।

রবার্তো আরো বলেন, আসন্ন ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সকল বাংলাদেশিকে শান্তিপূর্নভাবে নিজেকে প্রকাশ ও অংশগ্রহণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সরকারের সমর্থন সুদৃঢ় করার জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারকে উৎসাহিত করছি।

বিবৃতিতে, নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার অনুপুস্থিতিতে হতাশা ব্যক্ত করে বলা হয় , যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ এর সমন্বয়ে বেশ কিছু স্থানীয় এনজিও, যারা কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে তাদের পরিচয়পত্র প্রদান করার ব্যবস্থা করবে সরকার। যাতে করে এসব সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সদর দফতরেও নিয়মিত প্রেসব্রিফিংয়ে উঠে আসে
বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গ।

বাংলাদেশের সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল জানতে চান, বাংলাদেশে এখনো বিরোধী নেতা-কর্মীদের উপর হামলা ও ধর-পাকড় অভিযান অব্যাহত রেখেছে ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ। এই কঠিন বাস্তবতায় আপনি কি এখনো মনে করেন বাংলাদেশে একটি নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব? শুধু তাই নয় সরকার আদালতকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে একের পর এক বিরোধী দলের প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করছে।

জবাবে মহাসচিবের মুখপাত্র ডোজারিক বলেন, আমরা এর আগেও বলেছি, বাংলাদেশে যা ঘটছে তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশে যে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটছে এবং বিরোধীদলের প্রার্থী ও সমর্থকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তা উদ্বেগের।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের এই মুখপাত্র বলেন, আমরা বাংলাদেশের সকল কর্তৃপক্ষকে বলবো নির্বাচন যেনো অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য হয় তার জন্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে। আর এটা করতে হলে যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর সদস্যদের অবশ্যই পক্ষপাতহীনভাবে সকল নির্বাচনী প্রার্থীদের প্রচারণার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে দিতে
হবে, যাতে করে তারা স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রচার কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে বাংলাদেশি নাগরিকরা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। সুশীল সমাজ এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে ও মতামত প্রদান করতে পারে।


আরো সংবাদ