২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সৌদি কারাগারে বাড়ছে বাংলাদেশীর সংখ্যা

সৌদি কারাগারে বাড়ছে বাংলাদেশীর সংখ্যা - ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের জেদ্দা, দাম্মামসহ বিভিন্ন কারাগারে খুন, রাহাজানি, পাসপোর্ট জটিলতা, অবৈধভাবে অবস্থান করাসহ নানা অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে শত শত বাংলাদেশী বন্দী হয়ে আছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপে অনেকে কারামুক্ত হচ্ছেন। আবার অনেকে আইনি জটিলতার কারণে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। 

সম্প্রতি ‘জাল আউটপাসে’ বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার অভিযোগে এনামুল্লাহ নামে এক বাংলাদেশীকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই ফিরতি ফ্লাইটে সৌদি আরবে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই ব্যক্তি এক বছরের সাজা মাথায় নিয়ে দাম্মাম সেন্ট্রাল কারাগারে বন্দী। তিনি প্রকৃত বাংলাদেশী নাগরিক কিনা তার সত্যতা নিশ্চিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জরুরি চিঠি পাঠানো হয় প্রায় তিন সপ্তাহ আগে। তবে ওই চিঠির ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে কী মতামত পাঠানো হয়েছে তা গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা সম্ভব হয়নি। 

এর আগে গত ২ জুলাই সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এনামুল্লাহর সাজার মেয়াদ শেষে তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে ইমারজেন্সি ট্রাভেল পারমিট প্রদানের ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ড থেকে মতামত চাওয়া হয়।

গত ১৬ আগস্ট ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ড থেকে দূতাবাসের চিঠিটি টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পাঠানো হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবের দাম্মাম সেন্ট্রাল জেলে আটক এনামুল্লাহ, পিতা মোহাম্মদ হোসেন, গ্রাম দেলপাড়া ওয়ার্ড নম্বর-৬, পোস্ট ও উপজেলা টেকনাফ, জেলা কক্সবাজারের সাজা শিগগিরই শেষ হবে। জেল কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক তাকে দূতাবাস থেকে আউটপাস সরবরাহ করতে হবে। এনামুল্লাহর বাংলাদেশী নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ তার জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেটের কপি দূতাবাসে দাখিল করেছেন। সেটির সঠিকতা যাচাই করা প্রয়োজন। চিঠিতে বলা হয়, এনামুল্লাহর দূতাবাসে দাখিল করা জন্মনিবন্ধনের সঠিকতা যাচাইপূর্বক জরুরি ভিত্তিতে এ কার্যালয়কে অবহিত করার জন্য নিবন্ধনের কপি সাথে পাঠানো হলো।

এর আগে গত ২ জুলাই সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, এনামুল্লাহ ২০১৭ সালের ১৬ জুন সৌদি সরকার ঘোষিত সাধারণ ক্ষমায় একজিট ভিসা সংগ্রহ করে বাংলাদেশে ফিরে যান। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে জাল আউটপাস দিয়ে ভ্রমণ করার অভিযোগে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দিয়ে সৌদি আরবে ফেরত পাঠানো হয়। সৌদি ইমিগ্রেশন তাকে আউটপাস জাল করার অপরাধে এক বছর জেল এবং পাঁচ হাজার রিয়াল জরিমানা করে। বর্তমানে তিনি কারা ভোগ করছেন। শিগগিরই তার সাজার মেয়াদ শেষ হবে এবং জেল কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক তাকে দূতাবাস থেকে আউটপাস সরবরাহ করতে হবে। এনাম তার বাংলাদেশী নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ জন্মনিবন্ধনের একটি কপি সরবরাহ করেছেন। কিন্তু তিনি তার অনুকূলে ইস্যুকৃত বাংলাদেশী পাসপোর্টের কোনো তথ্য দূতাবাসকে সরবরাহ করতে পারেননি বলে দূতাবাসের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে। 

এ দিকে সৌদি আরবে অবস্থানরত একাধিক বাংলাদেশী গতকাল নয়া দিগন্তকে আপেক্ষ করে বলেন, আমরা এদেশে এসে অনেক কষ্টে আছি। ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর নবায়ন না হওয়ায় পুলিশি অভিযানে শত শত বাংলাদেশী ধরা পড়ে জেলে আছে। কেউ কেউ নানা অপরাধ করে আটক আছে। তবে এদের মধ্যে অনেকে আবার আউট পাসে দেশেও ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরও ঢাকায় দালালদের খপ্পরে পড়ে এখনো লাখ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে শ্রমিক আসছেন। অসহায় শ্রমিকদের একটি অংশ প্রতিদিন নানা সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নিচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme