১৬ জুলাই ২০১৯

 কী আছে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিবেদনে

 কী আছে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিবেদনে - সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার শ্রম বাজারের হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটি প্রতিবেদন  ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মোঃ সায়েদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত  গত ২৭ আগস্ট পাঠানো ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশের কিছু মিডিয়া ‘মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ’ বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করেছে। প্রকৃতপক্ষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়নি। এদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে বাংলাদেশ হাইকমিশনের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই উভয় সরকারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মালয়েশিয়ায় জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উভয় সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিতে চলমান এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য মালয়েশিয়া সরকার সিনারফ্লেক্স এসডিএন-বিএইচডি নামের সেদেশের একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়। মালয়েশিয়া সরকারের প্রস্তাবিত ১০টি  এজেন্সির মাধ্যমে এই রিক্রুটিং কার্যক্রম চলমান আছে। গত ৯ মে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার আরও সুশৃঙ্খল রাখার জন্য দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে ১৪ আগস্ট মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এক প্রেস ব্রিফিং করেন।’

এতে বলা হয়, ‘প্রেস ব্রিফিংয়ে উপপ্রধানমন্ত্রী এবং মানবসম্পদ মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বর্তমানে নিয়োজিত ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি সৃষ্ট মনোপলির পরিবর্তে অধিক সংখ্যক বা সব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান। এছাড়া, কর্মী প্রেরণকারী সব দেশ থেকে একই পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু করা হবে বলে জানান। আরও  জানানো হয়, বাংলাদেশের সাথে যেমন সমঝোতা স্মারক রয়েছে, নেপালসহ অন্যান্য দেশের সাথেও মালয়েশিয়া একই ধরনের সমঝোতা স্বাক্ষর করবে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘ওই প্রেস ব্রিফিংয়ের ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়া সরকারের নতুন চিন্তাভাবনাকে পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে সিনারফ্লেক্স কোম্পানির (এসপিপিএ) সিস্টেম ১ সেপ্টেম্বর থেকে অকার্যকর হবে বলে গত ২১ আগস্ট মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সিনারফ্লেক্সের নির্বাহী পরিচালককে জানানো হয়েছে। ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে— পরবর্তী কার্যক্রম উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আলোকে নির্ধারিত হবে। অন্য সব দেশের কর্মী নিয়োগেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশের কিছু মিডিয়া ‘মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ’ বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করছে। প্রকৃতপক্ষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়নি। এদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই উভয় সরকারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

মালয়েশিয়া শ্রম বাজার নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। তারা চিঠি দিয়েছে তাদেরই নিয়োগকৃত কোম্পানিকে। আমাদের জানালে আমরা অবশ্যই জানতে চাইতাম। মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার বন্ধ করা হয়েছে কিংবা শ্রমিক নিয়োগ আর করবে না, এমন কিছু তারা বলেনি। তারা সিস্টেম বদলানোর কথা বলছে।’

এদিকে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) বিকালে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে মালয়েশিয়ায় জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে শ্রমিক পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্টরা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকারের যেকোনও বক্তব্যকে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অতিরঞ্জিত করে দেশ ও মিডিয়াকে বিভ্রান্ত করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এখনও ৭০ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়া যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাদের ভিসা হয়ে গেছে। অনেকের কলিং ভিসা আসার অপেক্ষায় রয়েছে। অসম্পূর্ণ সংবাদ প্রকাশের কারণে এই ৭০ হাজার শ্রমিকের মনে সন্দেহ জাগবে এবং তারা হয়তো আর যেতে চাইবে না। বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেবে না— এমন কথা মালয়েশিয়া সরকার কখনও বলেনি। মালয়েশিয়া সরকার কোন পদ্ধতিতে কলিং ভিসা প্রসেস করবে, এটা তাদের রাষ্ট্রীয় ব্যাপার। এতদিন এসপিপিএ পদ্ধতিতে ভিসা প্রসেস করতো, এখন ১৪টি দেশের জন্য একই পদ্ধতিতে ভিসা প্রসেস করবে। এতে কাজের স্বচ্ছতা এবং গতি দুটোই বাড়বে।

ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী নূর আলী বলেন, ‘মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়নি। অনলাইন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসবে। সেটা খুবই স্বাভাবিক। যে কোনও সিস্টেমকে একটি পর্যায় গিয়ে আপডেট করতে হয়।’  


আরো সংবাদ

বেসরকারি টিটিসি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি কলেজ শিক্ষার্থীদের শতাধিক মোবাইল জব্দ : পরে আগুন ধর্ষণসহ নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির কমিটি রাজধানীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নারীসহ দু’জন নিহত রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের কাল এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এরশাদের মৃত্যুতে ড. ইউনূসের শোক ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না : রাষ্ট্রপতি ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের হজ প্রতিনিধিদল সৌদি আরব যাচ্ছেন

সকল




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi