২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

অপেক্ষায় থাকা ৭৩ হাজার বাংলাদেশী মালয়েশিয়া যেতে পারবেন

অপেক্ষায় থাকা ৭৩ হাজার বাংলাদেশী মালয়েশিয়া যেতে পারবেন - ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশী ১০ রিক্রুটিং এজেন্সি ও তাদের মনোনীত মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে টাকা দিয়ে অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৭৩ হাজার বাংলাদেশীর মালয়েশিয়াতে আসতে কোনো ধরনের সমস্যা নেই বলে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। 
তবে ওই সূত্র আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, সিনারফাক্স কোম্পানির তৈরি করা ফরেন ওয়ার্কার অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের (এসপিপিএ) সাথে কর্মীদের মেডিক্যাল (স্বাস্থ্য পরীক্ষা) ও সিকিউরিটি ওতোপ্রতভাবে জড়িত রয়েছে। যেহেতু এসপিপিএ সিস্টেম মালয়েশিয়া সরকার পুরোপুরি স্থগিত করেছে, সে কারণে মেডিক্যাল ও সিকিউরিটি এখন কোন প্রক্রিয়ায়, কিভাবে সম্পন্ন হবে সেটির দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। এর জন্য দুই দেশের সরকারকে দ্রুত আলোচনায় বসতে হবে। নতুবা শ্রমবাজারে কিছুটা জটিলতা থেকেই যাবে। 
এ দিকে গতকাল মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (কেডিএন) উদ্ধৃতি দিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত একজন উচ্চপদস্থ কূটনীতিক নয়া দিগন্তকে বলেন, শ্রমবাজার নিয়ে পত্রপত্রিকায় যেভাবে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে, তাতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার হুমকির মধ্যে পড়ছে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধের ব্যাপারে যেভাবে দুই দেশে চাওর হয়েছে, তাতে দেশে অপেক্ষায় থাকা ৭৩ হাজার ২০০ লোকের ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। তারা তো আমাদেরই ভাই ব্রাদার। তাদের অনেকেই কত কষ্ট করে, জমিজমা বিক্রি করে, হাওলাত করে লাখ লাখ টাকা জোগাড় করে রিক্রুটিং এজেন্সির মনোনীত দালালদের হাতে তুলে দিয়েছে। এখন তারা যদি শুনে বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। তাহলে তাদের অবস্থাটা কি হবে? ওই কূটনীতিক এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি ওইসব লোকদের উদ্দেশ বলতে পারি, ড. মাহাথির মোহাম্মদ সরকার মালয়েশিয়ার অনলাইন সিস্টেমে শ্রমিক আনতে সিনারফাক্সের এসপিপিএ সিস্টেম স্থগিত করলেও তারা সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে নতুন নামে এসপিপিএ সার্ভিস সিস্টেম চালু করবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে ওই কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বর্তমান সিস্টেম দেখে মালয়েশিয়া সরকারের অনেকে অবাক। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার আমরা ওপেন করেছি। আড়াই লাখ অবৈধ শ্রমিককে এ দেশে বৈধতা দেয়ার কাজ সম্পন্ন করেছি। আমরা এখন সোর্স কান্ট্রিভুক্ত দেশের মর্যাদা পেয়েছি। শ্রমবাজার ডেভেলপ করার জন্য মাহাথির মোহাম্মদ সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাথে ২৪ ঘণ্টাই আলোচনা করছি। কোথাও সমস্যা থাকলে সেগুলো শেয়ার করছি। শ্রমিকদের সিকিউরিটি নিশ্চিত করেছি। একটা শ্রমিকও সমস্যায় নেই। এখন ঢাকা থেকে শ্রমিক আসতে কারা কত টাকা নিচ্ছে, সেটা আমরা এখান থেকে বসে কিভাবে বলব? 
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মাহাথির মোহাম্মদ চাচ্ছেন অন্যান্য সোর্সকান্ট্রিভুক্ত দেশ থেকে যে প্রক্রিয়ায় শ্রমিক আসছে, একই সিস্টেমে বাংলাদেশ থেকেও যাতে আসে। তিনি ১৪ আগস্ট ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সিস্টেমটাকে মডেল হিসেবে ব্যবহারের কথা বলেছেন। সেজন্য তিনি একটি স্পেশাল কমিটি করে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন, সিনারফাক্সের সিস্টেম দিয়ে হবে না। এটা চেঞ্জ করতে হবে। মোট কথা সবাইকে একটি নতুন সিস্টেমের মধ্যে আনার কথা বলেছেন। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে কম টাকায় মালয়েশিয়ায় লোক আসুক। তার এই উদ্যোগ খুব ভালো জানিয়ে ওই কূটনীতিক বলেন, নীতিগতভাবে আমরাও চাই শ্রমিকেরা কম পয়সায় এ দেশে আসুক।
গতকাল ঢাকার আল রাবেতা রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও বায়রার সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি আবুল বাশার নয়া দিগন্তকে বলেন, ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে মালয়েশিয়া সরকার শ্রমিক নেবে। এখন আমরা কিভাবে শ্রমিক পাঠাতে পারব সেটি জানতে অধীর আগ্রহে বসে আছি। আমরা যদি নিয়োগ কর্তা থেকে চাহিদাপত্র নিয়ে হাইকমিশনে জমা দেই তাহলে সেগুলোতে এপ্রুভাল দেয়া হবে কি না জানতে চান? 
মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন দাতো গতকাল সকালে নাম না প্রকাশ করার শর্তে নয়া দিগন্তকে বলেন, এবার এসপিপিএ নতুন সিস্টেমে তৈরি হচ্ছে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে নতুন ফর্মেটে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আসতে পারে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার কেডিএন চাচ্ছে স্পেশালভাবে আর বাংলাদেশকে কোনো চাহিদাপত্র দেয়া হবে না। ১৫টি দেশের সাথে এক সিস্টেমে শ্রমিক যাতে আসে সেটি এখন তারা চাচ্ছে। আমার মনে হয় বাংলাদেশের এই পদ্ধতিটি আলোচনার মাধ্যমে লুফে নেয়া উচিত। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার জানা মতে, মালয়েশিয়া থেকে একজন যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা নতুন ফর্মুলা নিয়ে আলোচনার জন্য আজকালের মধ্যে বাংলাদেশে যাচ্ছেন।


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme