১৯ জুলাই ২০১৮

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ঢাকায়

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব (ডানে) বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট (বামে) - ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় খুঁজতে এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শনিবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরন করেন তিনি।

এসময় বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে অভ্যর্থনা জানান।

এর আগে জাতিসঙ্ঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার প্রধান হিসেবে ২০০৮ সালের ২৭ মে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন আন্তোনিও গুতেরেস।

একই দিন ঢাকায় পৌঁছান বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। তাঁরা দুজনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ সাক্ষাৎ করবেন বলে বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এতে উপস্থিত থাকবেন।


আগামীকাল সোমবার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব। তাঁর সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি।

অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক সাহায্যের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দিবেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে ।

আরো পড়ুন: জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবসহ সাত গুরুত্বপূর্ণ সফর হচ্ছে বাংলাদেশে 


কূটনৈতিক প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা ইস্যুটির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষন করতে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবসহ একযোগে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সফর হচ্ছে বাংলাদেশে। এ সব সফরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। এছাড়া উদ্বাস্তুদের স্বেচ্ছা, নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে।

জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ দুই দিনের সফরে শনিবার ঢাকা আসছেন। একই সময়ে আসছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিন ইয়ং কিম, জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রধান ফিলিপো গ্রান্ডি, আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট পিটার মরার ও জাতিসঙ্ঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) নির্বাহী পরিচালক ড. নাতালিয়া কানিম। শুক্রবার  ঢাকা এসেছেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড ও মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার ইয়াংহি লি। তারা সবাই কক্সবাজার সফর করে রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন প্রত্যক্ষ করবেন।

কর্মসূচি অনুযায়ী, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আজ রাত পৌনে দুইটায় ঢাকা এসে পৌঁছাবেন। রোববার সকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করবেন। গুতারেজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতিসঙ্ঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এরপর তিনি ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শন করবেন। দুপুরে তিনি হোটেল রেডিসনে জাতিসঙ্ঘের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টও একই সময়ে তার দফতরের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন। বিকালে হোটেল রেডিসনে জাতিসঙ্ঘ ও বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা পরষ্পরের সাথে মতবিনিময় করবেন। রাতে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের সৌজন্যে হোটেল সোনারগাঁওয়ে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

গুতারেজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে কক্সবাজার যাবেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ-মিয়ানমার নো ম্যানস ল্যান্ডে কুনারপাড়া পরিদর্শন করবেন। এখানে প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। এরপর তিনি কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে যাবেন।

কক্সবাজারে গুতারেজ জাতিসঙ্ঘ ও বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন। এখানে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। রাতে ঢাকা ছাড়ার আগে হোটেল রেডিসনে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আরো একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন।

মহাসচিবের দায়িত্ব নেয়ার পর অ্যান্তোনিও গুতেরেজের এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর। এক সময় তিনি জাতিসঙ্ঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালে ইউএনএইচসিআরের প্রধান হিসাবে গুতেরেজ বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিন ইয়ং কিম দায়িত্ব নেয়ার পর দ্বিতীয়বারের মত বাংলাদেশে আসছেন। গত বছর জুনে দারিদ্র বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য অর্জনের স্বীকৃতি দিতে তিনি ঢাকা এসেছিলেন। এবারের সফরে কিম রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংকের বড় অংকের সহায়তা ঘোষণা করতে পারেন।

আইসিআরসি প্রেসিডেন্ট পিটার মরার মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ আসবেন। মিয়ানমারে তিনি দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি এবং প্রেসিডেন্ট উ উইন মিন্টের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

 


আরো সংবাদ