১৭ নভেম্বর ২০১৮

গাজীপুর নির্বাচনে অনিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

নির্বাচন
বক্তব্য রাখছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। - ছবি : নয়া দিগন্ত

গাজীপুর নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে জোর করে ব্যালট বক্স ভর্তি করা, নির্বাচনের দিন এবং তার আগে রাজনৈতিক কর্মী ও পোলিং এজেন্টদের গ্রেফতার - ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ অনিয়মের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ কূটনৈতিক সংবাদদাতা সমিতির (ডিকাব) সাথে মতবিনিময়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট উদ্বেগের কথা জানান।

‘ডিকাব টক’ নামে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ মিশু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করে ডিকাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস।

বার্নিকাট বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন যা সহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রাখবে। সাংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সক্রিয় গণমাধ্যম, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও বিক্ষোভের অধিকার এবং সুষ্ঠু, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটির মধ্যে বাণিজ্য করার সুযোগ নেই।

রাষ্ট্রদূত বলেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই। বাংলাদেশ সরকার সুষ্ঠু, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন থাকবে। সরকার এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে বলে আমরা আশাবাদী।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একই গণতান্ত্রিক নীতি ও ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি দুই দেশকে শক্তিশালী করেছে। একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ ইন্দো-প্যাসেফিক অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিতে চায়। এ জন্য জাতিসঙ্ঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

আরো পড়ুন :

মানুষ চিরতরে ভোটাধিকার হারাবে : আমীর খসরু
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গাজীপুর এবং খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আওয়ামী লীগ করেনি, করেছে পুলিশ, ডিবির একটি। আর তাদের সহযোগী ছিলো নির্বাচন কমিশন। এভাবে চলতে থাকলে দেশের মানুষ চিরতরে তাদের ভোটাধিকার হারাবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘খুলনা ও গাজীপুরের নির্বাচনী প্রহসন : বিপর্যস্ত ভোটের অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তম্ভ ধ্বংস হয়ে গেছে। আর এখন চতুর্থ স্টেটস গণমাধ্যমকে ধ্বংস করতে চায়। ভোট ডাকাতি করতে গিয়ে তারা গাজীপুর নির্বাচনে গণমাধ্যমকেও বাধা দিয়েছে।

তিনি বলেন, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এখন নির্বাচন করতে হয় না। তাদের কাজ ডিবি, পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ করে দেয়।গাজীপুর ও খুলনা নির্বাচন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা করেনি। এগুলো করেছে পুলিশ, ডিবির একটি অংশ। আর নির্বাচন কমিশন তাদের সহযোগিতা করেছে।এখন নিজেদের নির্বাচন করতে হয় না আওয়ামী লীগকে।

আমীর খসরু বলেন, এটি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণকে একতাবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নয়তো এভাবে চললে চিরতরে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। দেশ শাসিত হবে অবৈধ সরকার দ্বারা আর অবৈধ স্থানীয় প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে। সুতরাং আমাদেরকে আইনের শাসন ফিরে পেতে হলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। বিএনপি এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, আমাদের সামনে দুটি শপথ- নিতে হবে আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করে আনা এবং দেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করা।

নাগিরক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা মো: মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আযম খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কৃষকদল নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ বক্তব্য দেন।


আরো সংবাদ