১৮ নভেম্বর ২০১৮
মালয়েশিয়ান পত্রিকার খবর

অতিরিক্ত টাকায় লোক যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়, সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে এক বাংলাদেশী

মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে এক বাংলাদেশী ব্যবসায়ী - সংগৃহীত

সম্প্রতি যারা মালয়েশিয়ায় এসেছেন তারা জানিয়েছেন তাদের পরিবারকে এ জন্য অনেক বড় ত্যাগ শিকার করতে হয়েছে। মালয়েশিয়ায় আসতে ২০ হাজার রিঙ্গিত যোগাড় করা এবং সেখানে কাজের ব্যবস্থা করতে অনেকে জমি বিক্রি করছেন। অনেকে হালের গুরু বিক্রি করেছেন। আর অনেকে চড়া সূদে টাকা নিয়েছেন অন্যের কাছ থেকে।

মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দি স্টার অনলাইনে শনিবার কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

এর আগে গত শুক্রবার একই পত্রিকায় বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে ব্যাপক দূর্ণীতি বিষয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয় বাংলাদেশী এক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে ১০টি মাত্র কোম্পানীর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে এ অনিয়ম ঘটছে। যেখানে একজন শ্রমিক মালয়েশিয়ায় পাঠাতে মাত্র ২ হাজার রিঙ্গিত খরচ হওয়ার কথা সেখানে তারা গত দুই
বছর ধরে প্রতি শ্রমিকের কাছ থেকে ২০ হাজার রিঙ্গিত নিয়েছে। এভাবে দুই বছরে এ চক্র বাংলাদেশী টাকায় ৪ হাজার ২শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সেখানে যাওয়া ১ লাখ শ্রমিকদের কাছ থেকে। এ খবর প্রকাশিত হলে মালয়েশিয়া সরকার গত শুক্রবার অভিযুক্ত ১০ কোম্পানির কার্যক্রম স্থগিত করে। একই সাথে স্থগিত করেছে বর্তমান শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া।

যে বাংলাদেশীর নেতৃত্বে ১০টি কোম্পানীর সিন্ডিকেট এ অনিয়ম করছে তার রয়েছে উভয় দেশে প্রভাব। আর শ্রমিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অতিরিক্ত টাকার একটি অংশ তিনি বিতরণ করেন উভয় দেশের রাজনীতিবিদ এবং সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

শনিবার স্টারে প্রকাশিত কেস স্টাডি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শ্রমিকদের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয় অ্যাজেন্সির চাহিদামত অনেকে টাকা পরিশোধের পরও তাদেরকে তিনি থেকে নয় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে মালয়েশিয়া পৌঁছাতে।

Caption

 

৩২ বছর বয়সী রাশিদুল বলেন, মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমি খুশি। কিন্তু আমাকে এখন কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এখানে আসতে আমার পরিবার আমাকে যে টাকা যোগাড় করে দিয়েছে তা শোধ করতে। বাড়ির অবস্থা মোটেই ভাল নয়। এখানে আসতে আমার পরিবারকে টাকা ধার করতে হয়েছে । তারপরও নয় মাস পর আমি এখানে আসতে পেরেছি।

২২ বছর বয়সী আমিরুল বলেন, আমাকে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে আমার পরিবার জমি বিক্রি করেছে। আমি জানি এখানে আসতে যে টাকা খরচ হয়েছে তা তুলতে কয়েক বছর লাগবে। কিন্তু আমার এ ছাড়া আর কিছু করার ছিল না। আমি এখানে এসেছি আমার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য। ক্লিয়া টুতে আমিরুলের সাথে কথা বলার সময় সেখানে আরো ৫০ জন শ্রমিক ছিল।

৩৪ বছর বয়সী আব্দুল বলেন, তিনি আকটি অ্যাজেন্টকে ১৮ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত দিয়েছেন। তার চার মাস পর এখানে কাজ পেয়েছেন।

আব্দুল বলেন, আমি আশা করছি আমি এখানে ভাল বেতন এবং ওভারটাইম করার সুযোগ আছে এমন একটি চাকরি পাব যাতে আমি এখানে আসার আমার লোন শোধ করতে পারি। আব্দুল জানান তিনি নিলাইতে একটি কারখানায় কাজ পাচ্ছেন। মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে দুর্ণীতি বিষয়ে দি স্টার অনলাইনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশী কয়েকজন সাংবাদিকের সাথেও কথা বলেছে পত্রিকাটি।

বাংলা টিভি ব্যুরো চিফ গোলাম রব্বানী রানা জানান, শ্রমিকরা মালয়েশিয়া যাওয়ার এত উচ্চ খরচ বহনের সামর্থ্য রাখে না। কিন্তু মালয়েশিয়ায় গেলে খুব কম সময়ে এ খরচ তুলে আনা যাবে এসব কথা বলে তাদের প্রলুব্ধ করা হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে ১৮ থেকে ২০ হাজার রিঙ্গিত নেয়া হয়। কিন্তু মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পর তারা জানতে পারেন তাদের বেতন খুবই কম। আর এ টাকা তুলতে তাদের তিন থেকে চার বছর লেগে যাবে।

যমুনা টিভি সম্পাদক আহমাদুল কবির বলেন, বলেন, মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার এখনই উপযুক্ত সময়। আমরা আশা করছি মালয়েশিয়ার নতুন সরকার এ বিষয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেন নেবেন এবং আমাদের লোকজনকে সেখানে যেতে ২০ হাজার রিঙ্গিত দেয়া থেকে অব্যাহতি পাবেন।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী লেবার কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম স্টার অনলাইনকে জানান, বাংলাদেশ সরকার শুধুমাত্র ৮ রিঙ্গিত নেয় শ্রমিকদের কাছ থেকে কল্যাণ ফান্ডের জন্য। ২০ হাজার রিঙ্গিত কেন নেয়া হচ্ছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ প্রশ্ন সরকারকে করা উচিত। প্রতিবেদনে বলা হয় মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর অনিয়ম বিষয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমেও আলোচিত হচ্ছে।


আরো সংবাদ