২২ নভেম্বর ২০১৯
শ্রুতি ও স্মৃতির সোনালি শিখা

যেমন দেখেছি তাঁকে

-

তেত্রিশ.

গাড়ি এগিয়ে চলছে। গল্পও চলছে সমানতালে। দীর্ঘ জীবন হলে জীবনের গল্পও দীর্ঘ হয়ে ওঠে। এ দীর্ঘতার কোনো সীমানা থাকে না। চৌহদ্দিও থাকে না। থাকে না এর দিকপাশ। নানা বিষয়ে যেমন জমা হয় গল্প, তেমনি জমে অভিজ্ঞতা। পরিবর্তন হয় জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির। জীবন বদলে যায়। ক্রমাগত বদল হয়। হতে হতে গভীর হয়ে ওঠে অনুভূতির চোখ। তখন শুধু বাইরের অবয়ব দেখে শান্ত হয় না মন, বরং ভেতরের অদৃশ্যটি দেখার চেতনা তীব্র হয়ে ওঠে। যাকে স্পর্শ করা যায় না তা-ই ধরার লোভে হাত দীর্ঘ হয়ে ওঠে। অদেখাকে দেখার লোভ হয়ে ওঠে তীক্ষè। এভাবে জীবন মানুষকে দারুণ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। মানুষ তখন নিজের জীবনকে কাছ থেকে যেমন দেখে, তেমনি দূর থেকেও দেখে। যেমন নিজেকে ভালোবাসতে শেখে, তেমনি ঘৃণা করাও শেখে। নিজেকে করুণা করা অথবা অবহেলা করার সাহস সঞ্চয় করে। এভাবে মানুষ নিজের কাছে নিজেই হয়ে ওঠে প্রশংসাকারী এবং প্রয়োজনে নিন্দাকারী। প্রশংসা কতটা গ্রহণ করা যায়। কতটা সমালোচনা ত্যাগ করা উচিত, এমন মাপকাঠিতে দাঁড়িয়ে যায় সে। তার কাছে নিন্দা ও প্রশংসা দু’টি হাতের মতো। ভালো কাজের প্রশংসা থাকেই। খারাপের থাকে নিন্দা। দুটোকেই ছেঁকে নিতে হয় জীবন ও কাজের প্রয়োজনে। যারা জানে জীবনে কাজের গুরুত্ব তাদের কাছে প্রশংসা এবং নিন্দা অলস হাত। কেবল কর্মের চঞ্চল হাতই তার কাছে মান্যবর।
একজন কবির কাছে জীবনের এসব বিষয় অন্যরকম করে ধরা দেয়। কবি তার জীবনের অর্থ খোঁজেন কবিতার ভেতর দিয়ে। যেমন খুঁজেছেন আল মাহমুদ। খুঁজেছেন দীর্ঘ জীবনভর। কুমিল্লা ভ্রমণের গল্পটি শেষ করে তিনি চুপ হয়ে গেলেন। নিজের ভেতর নিজে সেঁধিয়ে থাকলেন খানিকক্ষণ। যেন ডুব দিলেন জীবন দীঘির গভীরে। ভাবলাম হয়তো নতুন কিছু টুপ করে পড়েছে তার মনের আয়নায়। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখছেন হয়তো তারই কোনো ছবি।
আমিও চুপ হয়ে তেতে ওঠা রোদের চাঁদরে বিস্তৃত প্রকৃতি দেখছি। কোথাও কোথাও রাস্তার দু’পাশে সোনালি ধানের ক্ষেত। মাঠজোড়া ধানক্ষেতের ওপারে যেন নেমে এলো আকাশ। মাটি ছুঁই ছুঁই আকাশের গোটা শরীর নীলে ছেয়ে আছে। এমন নীলাকাশ গ্রাম ছাড়া আর কোথায় দেখা যায়! কোথায় আকাশে ছেয়ে থাকে আরো অসংখ্য আকাশ! দূরে চিলপাখির প্রশান্ত ডানা পালের মতো খোলা। কী আনন্দে ভেসে বেড়ায় আকাশের বুকে। এসব দেখতে দেখতে আমিও ভীষণ আনমনা।
হঠাৎ বললেন আল মাহমুদÑ আমার একটি আকাক্সক্ষা ছিল সারা জীবন। সব কিছু ছেড়ে-ছুড়ে যদি শুধু লিখে যেতে পারতাম! লেখালেখি ছাড়া যদি আর কোনো ব্যস্ততাই না থাকত আমার! সে তো হলো না আর। সারাটি জীবন জীবিকার প্রয়োজন আমাকে তাড়া করেছে। একজন লেখকের জন্য স্থিরতা বড় বেশি প্রয়োজন। প্রশান্ত চিত্ত দরকার। পরিবারের চিন্তা যদি একজন কবিকে কাবু করে রাখে, তো তার লেখার সুযোগটি অবারিত হবে কী করে। আমি তো নিজেকে কবিতায় অবারিত করার প্রয়াস চালিয়েছি। সেরকম অবারিত কি হতে পেরেছি! কবিতার চিন্তা ছাড়া আর কোনো চিন্তা থাকবে না আমার এমনই ভেবেছি জীবনভর। কবিতার চিন্তাই করেছি। অন্য চিন্তায়ও কম ছিল না । এখনো ভাবি, একজন কবিকে পৃথিবীর যাবতীয় কাজ থেকে ছুটি নিয়ে কবিতার ঘোরে প্রবেশ করা উচিত। তবেই জগতে এমন কবিতা সৃষ্টি হতে পারে, যা আগে কখনো হয়নি।
বললামÑ আমাদের দেশে এটি কি সম্ভব মাহমুদ ভাই? যে দেশে শিল্পের তেমন মূল্যই নেই। যে দেশের বিত্তবানদের চিত্ত নেই। যে দেশের বিত্তবানেরা কবিদের আর্থিক প্রয়োজন স্বীকারই করে না। সে দেশের কবিদের উপায় কী হতে পারে এ তো বলার অপেক্ষা রাখে না। বললেনÑ এটাই তো এ দেশের দুর্ভাগ্য। এ জাতিরও দুর্ভাগ্য। দুর্ভাগ্য এ দেশের কবিদেরও। জীবনের দৈব দুর্বিপাকের ঘূর্ণিতে কবিতায় এসে পড়েছো মিয়া। মনে রেখো, এ পথ বড় বন্ধুর। বড় কষ্টের। এখানে শিল্পের মূল্য নেই, স্বীকৃতিও মেলে না। তার ওপর আছে তিরস্কারের ঝড়। অপমান-অপদস্থ হওয়ার ভয়। এটি পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত সর্বত্র। যে কারণে আমি ভাবি, একজন প্রকৃত কবিকে হিমালয় পাড়ি দেয়ার হিম্মত বুকে নিয়েই চলতে হয়। তাকে পার হতে হয় বারুদের নদী। পথে পথে তার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে হায়েনা। হাঁ করে থাকে হাঙ্গর। বাঘমানুষ আর সিংহমানুষ তো আছেই। যারা সম্ভব হলে ফুঁ-এর জোরে মুছে দেয়ার চেষ্টা করে। সাহিত্যের অঙ্গনও কি বিপদমুক্ত? না, আমি বরাবর বলে আসছিÑ সাহিত্যাঙ্গন হলো কালসাপের আস্তানা। যখন যে যাকে পারে ছোবলে নীল করে তোলে। কালসাপের আস্তানায় আমি বসবাস করে আসছি। আমার বুক সত্যিই ছোবলে নীল হয়ে আছে। আমি আমার বুকের এই বিষময় নীলের দিকে কখনো চোখ খাড়া করিনি, বরং বিষের জ্বালা দিব্যি হজম করে লিখে চলেছি। কখনো কখনো মনে হতো দম বন্ধ হয়ে আসবে। আমি দীর্ঘশ্বাস টেনে জীবনীশক্তি বাড়িয়ে তুলেছি।
মনে রেখো, কবিতা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। একান্ত সাধনার বিষয়। নিয়ত সাধনায় সৃষ্ট কবিতাটি যখন সবার হয়ে ওঠে তখনই সেখানে বয়ে যায় বিষের তুফান। সাহিত্যাঙ্গনের ধড়িবাজ ধুরন্ধর লোকেরা হামলে পড়ে। প্রকৃত কবিকে জর্জরিত করে তিরস্কার ও সমালোচনার তীরে। এমন একটি দেশে আমি গোটা জীবন প্রায় কবিতার পেছনে খরচ করে দিয়েছি। কিন্তু গোটা জীবন শুধু কি কবিতার জন্য দিতে পেরেছি? কবিতা বাঁচিয়ে রাখার জন্যও আমাকে সময় খরচ করতে হয়েছে। সত্যি কথা হলো, দারিদ্র্য সাহিত্যের শত্রু। অভাবের চেহারা বড় ভয়ঙ্কর। সে অজগরের মতো মানুষের জীবনীশক্তি খেয়ে ফেলে। গিলে ফেলে স্বপ্নের উপত্যকা। একজন অভাবীর বুকে স্বপ্ন দানা বাঁধতে পারে না। বলতে গেলে আমি একজন অভাবী মানুষই ছিলাম। অভাবের ভেতর দিয়েই আমার জীবনতরী পার করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমি আমার স্বপ্নকে মরতে দেইনি। শত যন্ত্রণার ভেতর দিয়েও আমি কবিতার স্বপ্নকে উচ্চে রাখার চেষ্টায় কিঞ্চিত সফল হয়েছি। যে কারণে কবিতা এবং লেখালেখি ছাড়া আর কোনো কাজে আমার দক্ষতা পোক্ত হয়নি। ‘কবিতা ছাড়া আর কোনো ব্যবসা শিখিনি’Ñ এ লাইনটি আমার কবিতারই। বললাম আমিÑ এ ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ভাগ্যবান। জমিদারির উত্তরাধিকার তাকে দারিদ্র্যের চেহারা দেখার দুর্ভাগ্য থেকে রক্ষা করেছে। আর বেচারা নজরুল? এক জীবনসংগ্রামী পুরুষ। অসম্ভব বুকের পাটা ছিল বলে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিজেকে অপরিহার্য করে তুললেন। নড়েচড়ে বসলেন মাহমুদ ভাই। বললেন, রবীন্দ্রনাথের বিষয়টি ব্যতিক্রম। কাজী সাহেবের বিষয়টি আরো ব্যতিক্রম। রবীন্দ্রনাথ ভাগ্যবান এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ভেবেছ কি জমিদারের সন্তান জমিদারি পেয়েও কেন লেখালেখির মতো একটি অসম্ভব পরিশ্রমের কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করলেন? তার তো আয়েশি জীবন ভোগ করার কথা। আমাদের সমাজে বিত্তশালীদের চরিত্রে যে ভোগবাদী তিলক তা পুরোমাত্রায় রবীন্দ্রনাথের থাকার কথা। অথচ রবীন্দ্রনাথ বিস্ময়করভাবে ভোগের আলস্যের জায়গায় লেখালেখির পরিশ্রম জাগিয়ে দিলেন। তবে এ কথা সত্য, তিনি জমিদারি দেখাশোনা করলেও তার চিন্তা-চেতনার যাবতীয় মসলা ছিল লেখালেখির রান্নায়। সেটা তিনি পেয়েছেন তার জমিদারির জৌলুশে। আমি তো এমন স্বপ্নের কথাই ভেবেছি। যদি আমার হতো শুধুই লেখালেখির অবকাশ তবে হয়তো আরো অনেক সৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল। অর্থের প্রয়োজন যাকে কবিতার ঘোর থেকে হাত ধরে টেনে তোলে তাকে আর যা-ই বলা যাক, সৌভাগ্য বলা যায় না। কবিতার ইতিহাসে এমন অনেক কবি আছেন, যারা এ ভয় থেকে ঘর-সংসার পর্যন্ত করেননি।
আবার অনেকে ঘটনার দৈব শিকারে পতিত হয়ে পরিবার বাঁধার চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতাই তাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশ্য যারা জীবনকে সংগ্রামের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করেছেনÑ হার মানেননি কখনো, তারা জয়ী হয়েছেন বৈকি। কাজী সাহেব তেমনি একজন পৌরুষদীপ্ত কবি, যিনি সব অনটন পায়ে দলিয়েছেন। সব সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন একাই। শরীরের কাপড় থেকে ঝেড়েঝুড়ে ধুলা পরিষ্কার করার মতো তিনি সব প্রতিবন্ধকতা ঝেড়েছেন। হয়েছেন তুমুল বিদ্রোহী। তাঁর মতো প্রাণশক্তি আর কোনো কবিরই ছিল না।
আমি তো আপস করেই পার করে এনেছি জীবন। তবে আমার আপসটি কোনোভাবেই কবিতার ক্ষেত্রে ছিল না। কবিতায় বরং সব সময় আপসহীন। আমি আপস করেছি জীবনের সাথে। আপস করেছি বাধ্য হয়ে।
আবারো চুপ করে গেলেন কবি। তার চোখ এখন আকাশের খোলা চোখে। হেমন্তের অখণ্ড আকাশ তার গাঢ় নীল হৃদয় বের করে ছড়িয়ে দিলো শূন্যতার ওপর। এতটা প্রকাণ্ড আকাশ হেমন্তের দুপুর ছাড়া দেখার সুযোগ কই। সবুজ পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে দূরের গ্রাম। নীলের বুকে সবুজের এমন বুক উঁচু করা দৃশ্য আহা কী যে স্বপ্নময়! কী যে মায়াবী! জীবনকে টেনে নিয়ে যায় সবুজ ও নীলের হৃদয়ের কাছে। এসব দেখে যখন আনমনা আমি তখন আবার বেজে উঠল তাঁর কণ্ঠÑ বললেন, আমার মনে হয় সুখ বলতে মানুষ যা বোঝে সেটি আসলে কোনো সুখ নয়। সেটি এক ধরনের পরিতৃপ্তি মাত্র। যেমন একজন মানুষের একটি জিনিস দরকার। তিনি চেষ্টা করে তা জোগাড় করলেন। তো তার চাহিদার পূর্ণতা পেল। এটি তৃপ্তি। হয়তো কারো ঠাণ্ডা পানির পিপাসা পেয়েছে। তিনি পান করলেন ঠাণ্ডা পানি। তার এটি পরিতৃপ্তি। কিন্তু সুখ যাকে বলে তা কি তার কাছে ধরা দেয়! তাই আমার মনে হয় পৃথিবীর জীবন সুখের উপযোগী জীবনই নয়। কেননা, যার নেই তার তো অভাব থাকেই। থাকবেই। যার অনেক আছে সেও কি অভাবমুক্ত! না অভাবমুক্ত কেউ নেই পৃথিবীতে। অভাব যার থাকে সে তো সুখী হতে পারে না। অভাবের যাঁতায় সুখ মরেই যায়। অথবা সে সুখ থাকেই না। আমি তাই খুঁজি পরিতৃপ্তির আরাম। সুখের অধরা প্রজাপতির দিকে হাত বাড়ানোর সাহস আমার নেই।
দেখতে দেখতে মাইজদী শহরে পৌঁছে গেল আমাদের গাড়ি। কবি পৌঁছে গেছেন এ খবর মুহূর্তেই চাওর হয়ে গেল। নানা দিক থেকে সাহিত্যামোদীদের উপস্থিতি জমে উঠল। তরুণ-তরুণীর দল এসেই পা ছুঁয়ে সালাম করে দাঁড়ায়। চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক ছড়ানো। আল মাহমুদের সাথে সাক্ষাৎ, এ যেন জীবনের শ্রেষ্ঠ ঘটনা। ফলে ছবি তোলার হিড়িক। অটোগ্রাফশিকারীদের চাঞ্চল্য! এ যেন এক স্বপ্নময় জগৎ। যেখানে একজন কবিকে ভালোবাসা দিয়ে গ্রহণ ও বরণের উচ্ছ্বাস।
দুপুরের খাবার আয়োজন হলো একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে। শহর থেকে একটু বেরিয়ে শহরতলি, কিন্তু একদম পরিপূর্ণ গ্রাম। গাছগাছালির পরস্পর জড়াজড়িতে ঝিমধরা সবুজ। নানা রকম পাখির কূজন। আর ঝিরি বাতাসের দোল। আমাদের গাড়িটি বাড়ির সামনে খোলা মাঠে দাঁড়াল। গাড়ি থেকে নামলাম আমরা। নাতিদীর্ঘ সরুপথ বেয়ে হাঁটছি আমরা। দু’পাশে বনজ বৃক্ষ আর গুল্মলতায় জড়ানো সারি। কাঁচা পাতার তীব্র গন্ধ আমাদের নাসারন্ধ্র বেয়ে পৌঁছে যাচ্ছে ফুসফুসের গোলায়। আহা সবুজ! আহা গ্রাম!
বেশ বড় একটি বাড়ি। চার কোনায় চারটি চারচালা টিনের ঘর। মাঝখানে বিরাট উঠান। উঠানের পাশে কোথাও কোথাও মেহেদি গাছের ঝোপ। কোথাও ডালিম গাছের ডাল। কোথাও ঝোপবাঁধা আমগাছের সারি।
একটি ঘরে নিয়ে বসাল আমাদের। কাঠের চেয়ার। একপাশের হাতল আছে তো অন্য পাশের নেই। কোনোটার খুঁটি নড়বড়ে। সাবধানে বসলাম। মাহমুদ ভাইয়ের চোখ ভীষণ কোতূহলী। দেখছিলাম কোনো বিরক্তি চেহারায় উঁকি দিচ্ছে কি না। কিন্তু না। বিরক্তির পরিবর্তে ঘটনাপরম্পরা উপভোগের রঙ ছড়িয়ে আছে মুখে। মধ্যবয়সী একজন মানুষ এ ঘরের মালিক। ইন্টারমিডিয়েট পড়ে আর এগোতে পারেননি লেখাপড়ায়। এখন তিনি একজন ব্যবসায়ী। দুই কন্যাসন্তানের জনক। ওরা যমজ বোন। ইন্টারমিডিয়েটে পড়ছিল তখন। আয়োজকদের একজন বললেনÑ আমরা অনেক করে বুঝিয়েছি খাবারের আয়োজনটি আমরাই করব। কিন্তু কিছুতেই তিনি মানলেন না। মানলেন না অবশ্য তার দুই কন্যার কারণে। তাদের আবেগের কাছে আমরা পরাজিত। আপনাদের উপযুক্ত পরিবেশ নেই এখানে। মনে কষ্ট নেবেন না স্যার।
আল মাহমুদ বেশ স্বগতকণ্ঠে বললেনÑ মনে কষ্ট নেয়ার মতো তেমন কিছু ঘটেনি এখানে। আপনারা শান্ত থাকুন।
খাবার পরিবেশন শুরু হলো। খাবারের রকমফের দেখে আমাদের চোখ কপালে। মাছ-গোশত তো থাকেই, থাকবে। তার সাথে নানা রকম মজাদার খাবারের পসরা। ১৫টির কম নয়, এমন সংখ্যক পদের সমাহার। এক রকম নাক ডুবিয়ে খেলাম আমরা। শহরের চেনা খাবার থেকে বেরিয়ে গ্রামীণ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত খাবার ভীষণ ভালো লাগল আমাদের। বেশ খেলেন মাহমুদ ভাইও।
খাওয়া পর্ব শেষ হলো। আলস্যে গা এলিয়ে দিলাম আমরা। চুপচাপ কিছু মুহূর্ত পার হলো আমাদের ওপর দিয়ে।
অনুষ্ঠানের সময় হয়ে এলো। উঠব আমরা। ঠিক এ সময় দুই বোন একসাথে প্রবেশ করল। হাতে লাল কাপড়ের ওপর সোনারঙ রেখায় বাঁধাই করা একটি বই। বইটি একটি সুন্দর চিনামাটির বর্তনের ওপর। সাথে দু’টি লাল গোলাপ। দুই বোন একসাথে বর্তনটি আল মাহমুদের দিকে এগিয়ে দিলো। মুখে হাসি টেনে হাত বাড়িয়ে নিলেন আল মাহমুদ। বললেন, কী এটি? আমি বর্তন থেকে বইটি তুললাম। চটি একটি বই। অত্যন্ত যতেœ বাঁধাই করা। খুললাম আমি। অল্প ক’টি পৃষ্ঠার বই। খোলার পর পৃষ্ঠায় চোখ পড়তেই ওয়াও বলে উঠলেন আল মাহমুদ। আনন্দে আমার মুখেও বেরিয়ে এলো ওয়াও। একটি একটি করে পাতা উল্টিয়ে গেলাম শেষ পর্যন্ত। ১৪টি পাতা। প্রতিটি পাতার এক পৃষ্ঠায় লেখা। লেখাগুলো হাতের। ভীষণ যতœ করে লেখা। কোথাও ডাবল আঁক নেই। পরিষ্কার অক্ষর। পৃষ্ঠার মাঝখানে সমান্তরাল করে প্রতিটি লেখার অবস্থান। আমার হাত থেকে বইটি টেনে নিলেন আল মাহমুদ। বুকে জড়ালেন বইটি। বললেন, আমার জীবনে একটি অন্য রকম আনন্দ এটি। খুব খুশি আমি। দুই বোনকে বললেন, তোমাদের দুই বোনের প্রতি অনেক প্রীতি রইল।
বইটির ১৪টি পাতায় জেগে ছিল হাতে লেখা সোনালি কাবিনের ১৪টি সনেট। আমার আনন্দও কম নয়। বর্তনে রাখা দু’টি লাল গোলাপের একটি আমার জন্য উপহার। [চলবে]


আরো সংবাদ

আজানের মধুর আওয়াজ শুনতে ভিড় অমুসলিমদের (২৫৪৫৭)ধর্মঘট প্রত্যাহার : কী কী দাবি মেনে নিয়েছে সরকার (২০৯৩৪)মানবতাকে জয়ী করেছে পাকিস্তান : রাবিনা ট্যান্ডন (১৯৪৬৭)কম্বোডিয়ায় কাশ্মির ইস্যুতে বক্তব্য, প্রতিবাদ করায় ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করা হলো বিজেপি নেতাকে (১৯১৮৮)ব্যাংকে ফোন দিয়ে তদবির করে ‘ছাত্রলীগ সভাপতি’ আটক (৯৮৭১)আবারো রুশ-চীনা অস্ত্র কিনবে ইরান, আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের (৯৭৬৩)৪ ভারতীয়কে জাতিসঙ্ঘের সন্ত্রাসী তালিকাভূক্ত করবে পাকিস্তান (৯৫৮৪)৩৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে নেপাল-ভারত তুমুল বিরোধ (৯৩৪৩)গৃহশিক্ষক বিয়েতে বাধা দেয়ায় ছাত্রীর আত্মহত্যা (৯০৫০)ইলিয়াস কাঞ্চনকে যে কারণে সহ্য করতে পারেন না বাস-ট্রাক শ্রমিকরা (৯০১৪)