২২ জুলাই ২০১৯

আমাদের শিল্প ও শিল্প নির্মাণ বিধি

-

সুকুমার শিল্পের সংক্ষিপ্ত নাম ‘শিল্প’। যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে চিত্র ও ভাস্কর্য। চিত্র এবং ভাস্কর্যই শিল্পের প্রধান দু’টি অংশ। তবে চিত্রের স্থান সর্বোচ্চ। এই চিত্রচর্চার অর্থ হলো সৌন্দর্যচর্চা। মানুষ জন্মগতভাবেই সুন্দরকে পছন্দ করে। আর এ জন্য অনেকেই সুন্দরের চর্চায় মনোনিবেশ করে। সুন্দরকে নিজের আয়ত্তে নিতে চায়। সুন্দর কোনো কিছু পেলে এজন্যই তার দখল ছাড়তে চায় না। একসময় সুন্দর বিষয়গুলো মনের ক্যানভাসে স্থান করে নেয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেগুলো আবার মনের ক্যানভাস থেকে মুছে যায়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মন থেকে মুছে যাওয়ার আগেই সেগুলোকে কেউ কেউ চিত্রে রূপ দিতে চায়। শুরু হয় আঁকাআঁকি। যেমনটি অশিক্ষিত গুহাবাসী মানুষ শুরু করেছিল। কিন্তু এই আঁকাআঁকির কাজ সবাই করে না। কেউ কেউ করে। যারা আঁকাআঁকিতে মনোনিবেশ করে এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ হয় তারাই চিত্রকৃৎ বা চিত্রশিল্পী। আর যারা শিল্পী হতে পারে না তারা আবার বিস্ময়ে শিল্পীর আঁকা চিত্র দেখে অভিভূত হয়।
অশিক্ষিত গুহা মানবদের দ্বারা খ্রিষ্টের জন্মের ত্রিশ হাজার বছর পূর্বে চিত্রাঙ্কনের শুরু হয়েছিল বলে জানা গেলেও আমাদের অঞ্চলে ঠিক কবে কখন কার দ্বারা চিত্রাঙ্কনের যাত্রা শুরু হয়েছিল সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে অনেকেই মনে করেন যে, ভারতের প্রাচীন চিত্রের ইতিহাসও ত্রিশ হাজার বছরের পুরনো। স্পেনের আলতামিরা আবিষ্কারের ১২ বছর আগে ভারতের রক পেইন্টিং আবিষ্কৃত হয়েছে। যাকে ভারতের প্রাচীনতম চিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। ভারতের উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর নামক জেলার সোহাগহাট নামক স্থানে এ চিত্রের সন্ধান পাওয়া যায় ১৮৬৭-৬৮ সালে। ভারতের বহু প্রাচীনগ্রন্থে প্রাচীন আমলের চিত্রকলা বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। যেমন আর্য সাহিত্যে রয়েছে চিত্র ও চিত্রবিদ্যাবিষয়ক অসংখ্য দৃষ্টান্ত। এ সব চিত্রের দৃষ্টান্ত থেকে অনেকেই মনে করেন যে, প্রাচীন ভারতে চিত্রের শুরু প্রয়োজনের তাগিদে। নাটকে প্রকৃতির দৃশ্যাবলি প্রদর্শনের প্রয়োজনে শিল্পীরা দৃশ্য চিত্রের চর্চা শুরু করেন। এসব চিত্রে উঠে আসে বনজঙ্গল, জলাশয়, রাস্তাঘাট, পর্বত, ঘরবাড়ি, নদীনালা, পশুপাখি, জীবজন্তু প্রভৃতি। বেদান্তের পঞ্চদশী গ্রন্থের ‘চিত্রদীপ’ নামক এক পরিচ্ছেদেও এ বিষয়ে উল্লেখ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও শ্রাব্যকাব্য, দর্শনশাস্ত্র, ধর্মশাস্ত্র এবং উপাসনাগ্রন্থেও এ প্রসঙ্গে নানা তথ্য রয়েছে। এসব তথ্যে জানা যায় যে, প্রাচীনকালে চিত্রাঙ্কনের ক্ষেত্রে শিল্পীদের স্বাধীনতা ছিল না। এর প্রধান কারণ ধর্ম। উল্লেখ্য, হিন্দুধর্মে নানা দেব দেবীর বিষয় রয়েছে। এ জন্য হিন্দুদের উপাসনাকে বলা হয় ‘সাকার উপাসনা’। এই সাকার উপাসনার প্রয়োজনে চিত্রের ব্যবহার হয়ে থাকে হিন্দু সমাজে। আর এ জন্যই পূজার অন্যতম আঁধার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে চিত্র। এ জন্যই চিত্রাঙ্কনকেই অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ফলে যেনতেন প্রকারে কোনো চিত্র আঁকার কোনো সুযোগ ছিল না। অর্থাৎ বেঁধে দেয়া নিয়ম কানুন মেনে চিত্রাঙ্কন করতে হতো। আর এ জন্যই ‘চিত্রসূত্রের’ উৎপত্তি হয়েছে। চিত্রসূত্র অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চিত্রাঙ্কন করা হতো বলেই শিল্পীর কোনোরূপ স্বাধীনতা চিত্রাঙ্কনের ক্ষেত্রে ছিল না।
কলাশ্রেষ্ঠ চিত্রের কথা বলা হলেও প্রাচীনকালে নৃত্যুকেও সম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। চিত্রসূত্র নামক গ্রন্থের চিত্রসূত্র অধ্যায়ের পূর্বের অধ্যায়ে নৃত্যসূত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, চিত্রের সঙ্গে নৃত্যের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। বলা হয়েছে নৃত্যে যেরূপ দৃষ্টি, ভাব, অঙ্গপাঙ্গ ও হস্তদ্বয়ের নির্দেশ হয়েছে চিত্রের ক্ষেত্রেও সেরূপই বুঝতে হবে। অর্থাৎ এসবের ব্যবহার চিত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব বিষয়ের যথার্থ ব্যবহার না হলে চিত্র কিংবা চিত্রের ফিগার অর্থবহ কিংবা আকর্ষণীয় রূপ ধারণ করে না। চিত্রসূত্রের এসব বিধিবিধান অন্যান্য গ্রন্থ যেমনÑ বৃহৎসংহিতা এবং চিত্রলক্ষণেও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব গ্রন্থের তথ্য মতে, ভারতের শিল্পনীতি ও উন্নয়ন পদ্ধতি পশ্চিমা জগতের রেনেসাঁস সময়ের অনুরূপ। সঠিকভাবে কিংবা বলা যায় যে, নির্ভুলভাবে মানুষের শরীর গঠনের যেসব বিভাজন রেনেসাঁ এবং রেনেসাঁর পরবর্তী সময়ে করা হয়েছে তদ্রƒপ বিভাজন বা হিসাব নিকাশ প্রাচীন ভারতের চিত্রনির্মাণের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। যদিও হিসাব নিকাশের পদ্ধতি ভিন্ন।
রেখা যে শিল্পের প্রাণ একথা সমগ্র পৃথিবীর শিল্পী এবং শিল্পবিষয়ক পণ্ডিতেরা মনে করেন। প্রাচীন ভারতের পণ্ডিত এবং শিল্পীরাও রেখার প্রতি যে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন সে বিষয়ে বিভিন্ন গ্রন্থে তথ্য পাওয়া যায়। তারা মনে করতেন বর্ণ ব্যতিরেকেই বিষয়ের যথাযথ রূপ দেয়া সম্ভব শুধু রেখার সাহায্যে। রেখা এবং রঙ বা বর্ণের সাহায্যে অঙ্কিত চিত্রের দীর্ঘস্থায়িত্বের বিষয় নিয়েও কাজ করেছেন তারা। চিত্রাঙ্কনের ক্ষেত্রে তারা ধৌত, ঘট্টিত, লাঞ্ছিত এবং রঞ্জিত পদ্ধতি গ্রহণ করতেন। পটচিত্রের ক্ষেত্রে কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করার পর ভাতের গলিত মণ্ড দ্বারা প্রলেপ দেয়া হতো। যাকে বলা হয়েছে অন্নবিলেপন। দেয়াল বা ভিত্তিভূমির ওপর চিত্রাঙ্কনের ক্ষেত্রে তিন প্রকার ইটের গুঁড়া, তিন ভাগ সাধারণ মাটি, গুগগুল (এক প্রকার বৃক্ষ ও তার সুগন্ধ নির্যাস), মোম, মধুক (রঙ অথবা যষ্টিমধু), মরুক (একপ্রকার গন্ধ দ্রব্যবিশেষ), গুড়, কুসুম্ভ ও তেলের ব্যবহার করা হতো। উল্লেখ্য যে, এসব দ্রব্য নিয়ে এর সঙ্গে তিন ভাগ চুন মিশ্রিত করতে হবে। এরপর দুই ভাগ অপক্ব বিল্বচূর্ণ মিশিয়ে প্রয়োজন মতো বালু মেশাতে হবে। সব শেষে পিচ্ছল বলকল জল দ্বারা সবটুকু ভিজিয়ে এভাবে এক মাস রেখে দিতে হবে। পরে এই উপকরণের প্রলেপ দিয়ে দেয়াল বা ভূমিকে চিত্রাঙ্কনের উপযোগী করতে হবে। তবে চিত্রাঙ্কনের পূর্বে দেয়াল বা ভূমিকে ঘষে মসৃণ করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় অঙ্কিত চিত্র শত বছরেরও অধিক সময় অবিকৃত থাকবে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রাচীনকালে কাগজ, ক্যানভাস এবং রঙ সহজলভ্য ছিল না। এ কারণেই কাপড়ের তৈরি পট এবং দেয়াল ও ছাদই ছিল চিত্রাঙ্কনের মূল ক্ষেত্র। রঙের জন্য ব্যবহার করা হতোÑ স্বর্ণ এবং পাতলা স্বর্ণের পাত, রজত, তাম্র বা তাম্রের পাত, অভ্র, রাজবন্ত, সিন্দুর সীসক, হরিতাল, চুন, লক্ষা, হিঙ্গুল এবং নীলসহ আরো অনেক ধরনের পদার্থ। এসব উপকরণ চিত্রাঙ্কনের উপযোগী করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হতো। পরিশ্রমলব্ধ এ সব উপকরণ প্রস্তুতের পর শাস্ত্রবিধি অনুসরণ করে চিত্রাঙ্কন করতে হতো। যার চিত্র যেমন হওয়ার কথা ঠিক সেভাবেই করতে হতো। যেমনÑ রাজাদেরকে মহাপুরুষ লক্ষণযুক্ত করতে হতো। শুধু তাই নয়, আঁকা চিত্রের দৈহিক লাবণ্যে চক্রবর্তীলক্ষণ যুক্ত করতে হতো। হস্ত হতো জালপাদের অনুরূপ (হাঁসের আঙ্গুলের মতো পাতলা চামড়া দ্বারা সংযুক্ত)। ভ্রƒদ্বয়ের মাঝে লোমশভাব দেখাতে হতো। হস্তদ্বয়ের মধ্যে তিনটি করে মনোহর রেখা দেখাতে হতো এবং রেখাগুলোকে শশকের রক্তের অনুরূপ রূপ দিতে হতো, মাথার চুল হতো ঢেউখেলানো সুন্দর পরিপাটি এবং সূক্ষ্ম ও ইন্দ্রনীলমণির অনুরূপ বর্ণযুক্ত ও তৈলাক্তভাব বিশিষ্ট এবং দক্ষিণাবর্ত তরঙ্গান্বিত। রাজা-মহারাজা, দেবতাদের বয়স হতে হতো ষোড়শ বর্ষীয় অনুপম দেহের অধিকারী যুবকদের অনুরূপ। নৃপতি, ঋষি, গন্ধব, দানব, মন্ত্রী, পুরোহিত এবং জ্যোতির্বিদের চেহারা কেমন হবে, তাদের কার জন্য কি ধরনের প্রতীক ব্যবহার করতে হবে শিল্পীদের জন্য সবই নির্দিষ্ট করা রয়েছে শিল্পশাস্ত্রে। অংকিত এ সব চিত্রের কার ক্ষেত্রে কী ধরনের চোখ ব্যবহার করতে হবে তারও নির্দেশ আছে শাস্ত্রে। যেমন বলা হয়েছেÑ ধনুকের মতো বাঁকা চোখ ব্যবহৃত হবে ধ্যানমগ্ন ব্যক্তি বা ঋষিদের ক্ষেত্রে, নারীদের চক্ষু হবে মৎস্যদরাকৃতির, যে ব্যক্তি নীরব এবং নির্বিকারচিত্ত তার চোখ হবে উৎপল-পত্রাভ, ত্রস্ত ও ক্রন্দনরত ব্যক্তির চোখ হবে পদ্মপত্রনিভ এবং ক্রদ্ধ বা রাগান্বিত ও বেদনাপীড়িত ব্যক্তির চোখ হবে শশাকৃতির, দেবতাদের ক্ষেত্রে চোখ হবে মনোঞ, বিশাল, প্রসন্নতাব্যঞ্জক কৃষ্ণবর্ণÑতারকাযুক্ত ও পদ্মযুক্ত, অর্থাৎ চোখের পাতা হবে লোমশ, যা দেখতে পাখির পালকের অনুরূপ। দেবতাদের বয়স হবে তেজদীপ্ত, ষোড়শবর্ষীয় পূর্ণযুবকসুলভ। উল্লেখ্য যে, এ কারণেই প্রাচীনকালের ভাস্কর্যগুলো দেখতে কমবয়সী এবং প্রায় একই রকম। চিত্রের ্েক্ষত্রেও একই দৃশ্য লক্ষ করা যায়।
প্রতিকৃতি বা পোট্রেইট অঙ্কন এবং সংরক্ষণ বর্তমান সময়ের মতো আগেও জনপ্রিয় ছিল। তবে বর্তমানে যেমন শিল্পীদের দিয়ে প্রতিকৃতি আঁকিয়ে নেয়া হয় আগে আমাদের অঞ্চলে তেমনি ছিল না। তাছাড়া গৃহে চিত্র সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিবিধান ছিল। বিধি অনুসারে পূর্বে গৃহে যেকোনো ধরনের চিত্র সংরক্ষণ করা যেত না। শৃঙ্গারাদি নবরসের ব্যঞ্জক চিত্রের মধ্যে কেবল মাত্র শৃঙ্গার, হাস্য ও শান্তরসের চিত্রই গৃহে স্থাপন করা হতো। বিধানে বলা হয়েছে যে, রাজার সভাগৃহে এবং দেবালয়ে সমস্ত রসের চিত্র আঁকতে হবে। কিন্তু রাজা ও সাধারণ মানুষের বাসগৃহে যুদ্ধ, শ্মশান, দুঃখিত ব্যক্তি, কুৎসিত আকৃতির চিত্র ও অমঙ্গলব্যঞ্জক চিত্র আঁকা বা স্থাপন করা যাবে না। সেকালে আরো একটি বিধি ছিল আর তা হচ্ছেÑ নিজ গৃহে নিজ হাতে কখনো কোনো চিত্র অঙ্কন করা যাবে না। অন্যের দ্বারা সেটা করাতে হবে। এই যে, চিত্রের কথা বলা হলো এই চিত্র দর্শকদের মধ্যে কারা কিভাবে দেখেন এবং মূল্যায়ন করেন সে বিষয়েও সতর্ক মন্তব্য করা হয়েছে বিভিন্ন গ্রন্থে। বলা হয়েছে যে, শিল্পের আচার্য কিংবা চিত্রবিদ্যা বিশারদগণ চিত্রের রেখাকেই অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। যারা চিত্রবিদ্যা বিষয়ে বিচক্ষণ তারা বর্তনা বা বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন। মহিলা দর্শক চিত্রের অলঙ্করণ বা সাজসজ্জা বা ভূষণের বাহুল্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আর যারা সাধারণ মানুষ তারা চিত্রে ব্যবহৃত বর্ণ বা রঙের চাকচিক্যকে অধিক ভালোবাসেন। সে সব দর্শকের কথা উল্লেখ করা হলো তারা চিত্রের বিষয়, বিষয় উপস্থাপনের উপকরণ এবং চিত্রাঙ্কন পদ্ধতি সম্পর্কে যেমন সচেতন তেমনি সচেতন ছিলেন চিত্রের আকার আকৃতি বিষয়েও। শুধু তাই নয়, তারা জানতেন কোন আকৃতির চিত্রকে কি নামে অভিহিত করা হয়। যে বিষয়ে বর্তমান সময়ের বেশির ভাগ মানুষই অজ্ঞ। যেমন প্রমাণাকৃতির কোনো বিষয়ের অবিকল চিত্রকে বলা হয় ‘সত্য’। প্রমাণাকৃতির না হয়ে একই চিত্র যদি চতুষ্কোণ ফ্রেমাবদ্ধ এবং অনাড়ম্বর হয় তাহলে তাকে বলা হয় ‘বৈনিক’। চিত্র যদি গোলাকৃতির হয় এবং সেই চিত্র যদি দৃঢ়াবয়বব্যঞ্জক ও অল্প মাল্যভূষণযুক্ত হয় তাহলে সেই চিত্রকে বলা হয় ‘নাগর’। আর উল্লিখিত বিষয়গুলোর মিশ্রলক্ষণান্বিত হয় তাহলে সেই চিত্রকে বলা হয় ‘মিশ্র’। যাকে অনেকেই মিক্সড মিডিয়া বলে উল্লেখ করে থাকেন। উল্লিখিত চিত্রসমূহে ব্যবহৃত রঙ, রেখা এবং বর্তনা বা বিষয়কে বলা হয়েছে চিত্রের ভূষণ।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, প্রাচীনকালে সব বিষয়ে সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও শাস্ত্রবিধি শিল্পীরা শতভাগ মেনে চিত্রাঙ্গন করতেন বলে চিত্র জীবন্ত রূপ ধারণ করত। চিত্র হতো গতিশীল এবং যতাযথ। কোথাও কোন অবহেলা বা দুর্বলতা দৃষ্টিগোচর হতো না। চিত্র দেখে মনে হতো যেন অতীতের ঘটনাগুলো এখনই সামনে ঘটে চলেছে। যেমন কংস এবং কৃষ্ণের যুদ্ধের চিত্র। চিত্র দেখে মনে হবে যেন উভয়ে উভয়কে কিংবা বলা যায় একে অপরকে প্রহার করছেন। একই অনুভূতি দর্শক হৃদয়ে জাগ্রত হতো যখন ঘুমন্ত মানুষের চিত্রে চেতনাযুক্তভাব এবং মৃত মানুষের চিত্রে সংজ্ঞাহীন ভাব উপলব্ধি করতেন। কিংবা কুণ্ডলী পাকিয়ে উপরে ওঠা ধোঁয়া, অগ্নীশিখা, ঊর্ধ্বে উড়ানো পতাকা দেখে অদৃশ্য বাতাসের প্রচণ্ড গতিকে অনুভব করতেন। এরূপ স্বার্থক শিল্পের স্রষ্টাদেরকেই বলা হয়েছে, শিল্পী।


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi