film izle
esans aroma Umraniye evden eve nakliyat gebze evden eve nakliyat Entrumpelung wien Installateur Notdienst Wien
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

জীবন যুদ্ধে হার না মানা ‘মিলনীর’ গল্প

মিলনী রাজবংশী - ছবি : নয়া দিগন্ত

জীবন যুদ্ধে হার না মানা এক সংগ্রামীর নাম মিলনী রাজবংশী। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার এই নারী ৭৫ বছর বয়সেও মাছ বিক্রি করে সংসার চালান। প্রতিদিন ভোর হলেই বেরিয়ে পড়েন মাছ সংগ্রহ করতে। তারপর পড়ায় ঘুরে ডাকতে থাকেন ‘এ মাছ লাগবে, মা-আ-ছ’।

মিলনী থাকেন উপজেলার ছনকা এলাকায়। ১৩ বছর আগে স্বামী নিতাই রাজবংশী মারা যান। তার চার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে বেশ কয়েক বছর আগে। এখন তিনি একা। কিন্তু পেট তো চালাতে হবে। অভাবের তাড়নায় জীবনের তাগিদে মাছের ঝুড়ি মাথায় করে নিয়ে গ্রামের আনাচে কানাচে ছুটে বেড়ান বিক্রির জন্য।

সবক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ সমানভাবে থাকলেও ফেরিওয়ালার কাজে সাধারণত তাদের খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু মিলনী মেয়ে জামাইয়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে এ পেশাকেই বেছে নিয়েছে জীবিকা নির্বাহের জন্য।

সাহসী এই পথচলায় তাকেও সহ্য করতে হয়েছে হাসি-ঠাট্টা। তবে কিছু লোক তাকে সহযোগিতাও করেছেন।

বুধবার মিলনী রাজবংশীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, কিশোরী বয়সে তার বিয়ে হয় নিতাই রাজবংশী নামে এক যুবকের সাথে। বিয়ের দুই বছরের মাথায় পেটে আসে লহ্মী নামে এক কন্যা সন্তান। এরপর আসে আরো তিন জন। মোট চার মেয়েকে নিয়ে অভাব-অনটনের সংসারে বাড়তে থাকে ঋণের বোঝা। টাকা পরিশোধ করতে বাড়ি-ভিটা বিক্রি করতে হয়েছে। এখন বেচে থাকার জন্য মাছ বিক্রিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন তিনি।

কষ্ট হলেও এই পেশাকে তিনি সম্মান করেন। যা মিলনীর কথাই স্পষ্ট হয়, ‘মেয়েদের অল্প বয়সে পরের ঘরে দিয়ে দিছি। সামান্য কিছু টাহা জোগাইয়ে ব্যবসায় নামছি। জামাইয়ের বোজা অইতি চাই না। হাত পায় এহনও বল আছে। তাই তো ফেরি কইরা খাই।’

মিলনীর কাছে চিংড়ি, রুই, কাতলা, কই ও বোয়ালসহ স্থানীয় বিলের মাছ পাওয়া যায়। এই মাছ বিক্রি করে প্রতিদিন তার ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। মিলনী বলেন, দেশীয় মাছের চাহিদাই বেশী। কোনোদিন ভালো বেচাকেনা হয়, কোনোদিন আবার হয় না। বেচাকেনা ভালো হলে ওই দিন খেতে পারি, তা না হলে না খেয়ে থাকতে হয়।

৭৫ বছর বয়সী মিলনীর মাথা গুজার ঠাই নাই। তাই আপেক্ষ করে তিনি বলেন, নিজের বাড়ি নাই, জমি নাই। মাত্র দেড় শতাংশ জায়গায় ঘর তুইলে থাহি। টাহা নাই বলে ঘর উঠাতে পারি না।’

মিলনী দেশের সব নারীকে নিজের কাজকে ভালোবাসতে বলেছেন। লোকে কী বললো, তার দিকে না তাকিয়ে কাজ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াটাকেই তিনি সবচেয়ে সম্মান মনে করেন।

১নং বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, মিলনী রাজবংশী অবিরাম জীবন যুদ্ধে হার না মানা এক নারী। দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে প্রতিনিয়ত বেঁচে আছেন। এখন নিজেই মাছের ঝুড়ি মাথায় নিয়ে মাছ ফেরি করেন। তাকে বয়স্ক ভাতার আওতার আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো কাজকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। নারীরা অনেক সময় চক্ষুলজ্জার ভয়ে ঘর থেকে বের হতে চান না। কিন্তু মিলনী সেসব কথায় কান না দিয়ে নিজেই নিজের মতো করে কাজ করে চলেছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জহুরা জানান, বিধবা মিলনী রাজবংশীকে কর্মসংস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে লিখিত ভাবে অবহিত করা হবে। এছাড়াও তিনি মাছ চাষে আগ্রহী হলে তাকে সব রকম সহায়তা দেয়া হবে।

জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার সামনে সকল বাধাকে তুচ্ছ করতে যে মনোবলই যথেষ্ট তার জীবন্ত প্রমাণ মিলনী রাজবংশী।

 


আরো সংবাদ

মহান একুশে উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাতায়াতের রুট ম্যাপ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংসদ অধিবেশন সমাপ্ত মুজিববর্ষ নিয়ে অতি উৎসাহী না হতে দলীয় এমপিদের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর আ’লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা আজ চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বুড়িগঙ্গারনৌকা মাঝিদের মানববন্ধন আজ থেকে সোনার দাম আবার বেড়েছে ভরি ৬১৫২৭ টাকা আজ থেকে ঢাকার ১৬ ওয়ার্ডের সবাইকে খাওয়ানো হবে কলেরার টিকা ঘুষ দাবিকে কেন্দ্র করে টঙ্গী ভূমি অফিসে তুলকালাম কোম্পানি (সংশোধন) বিল পাস সংসদে সিটি ইউনিভার্সিটির ভিসিকে তলব আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী পিডি নিয়োগ চায় ইউজিসি

সকল