০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

জাবি ভিসির অপসারণ দাবিতে সংহতি সমাবেশ

-

জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে সংহতি সমাবেশ করেছে আন্দোলনকারীরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুইদিন আন্দোলনে বিরতি দেয়ার পর মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন রেজিস্ট্রারের সামনে এ সংহতি সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে দেশের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

এসময় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান আন্দোলননে সংহতি জানিয়ে বলেন,‘ভিসি ফারজানা ইসলাম ২৪ ঘন্টার মধ্যে পদত্যাগ করুন, সরকারকেও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সারাদেশে এ দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে তার পৃষ্টপোষকরাও পালাতে সময় পাবে না। অনতিবিলম্বে এ দুর্নীতিবাজ ভিসিকে অপসারণ না করলে মানুষ সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে বাধ্য হবে।’

সংহতি সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন,‘জাবিতে বিদ্যমান পরিস্থিতির জন্য প্রথমে দায়ী ভিসি,দ্বিতীয়ত দায় সরকারের। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যায়ের দুর্নীতির বিষয়ে সঠিক সমাধাণের চিন্তা না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আন্দোলন আরো উৎসাহিত হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর এখানে জায়গা নেই। তিনি রাষ্ট্রপতি, ইউজিসির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে পারতেন।’

এছাড়াও আনু মুহাম্মদ বলেন,‘জাবির বিষয়ে দুইটি তদন্ত কমিটি করতে হবে। একটি ভিসির দুর্নীতির বিষয়ে অন্যটি গত ৫ তারিখ ছাত্র শিক্ষকদের ওপর বর্বোরচিত হামলার বিষয়ে। তবে তদন্তের আগে মন্ত্রণালয় ও সরকারের বিরূপ মন্তব্যের পর তদন্ত নিয়েও আমরা শঙ্কিত।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন,‘মাননীয় ভিসি আপনি পদত্যাগ করুন,ভিসি পদ ছাডুন,অধ্যাপক পদে ফিরে আসুন। অধ্যাপক অনেক সম্মানিত পদবী। আমরা দেখেছি জাবির দুর্নীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘আন্দোলকারীদেরকে দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে’, যদি দুর্নীতির প্রমাণ আন্দোলনকারীদেকই দিতে হয় তাহলে সরকারের কাজ কি?

এছাড়াও জোনায়েদ সাকি বলেন,‘হামলার জন্য ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ দিয়ে ভিসি যে বক্তব্যে দিয়েছে,সেই বক্তব্যের জন্যও ভিসিকে অপসারণ করতে হতো। তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগের হামলাকে ভিসি যখন ‘গণঅভ্যুত্থান’ বলেছেন এখন এ ভিসি পদত্যাগ না করলে, দেশে সত্যিকার গণঅভ্যুত্থান শুরু হবে।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন,‘ছাত্রলীগ শুধু জাহাঙ্গীনগরের শিক্ষার্থীদের উপরই হামলা চালাচ্ছে না।ছাত্রলীগের হামলা সারাদেশেই চলছে। কিন্তু শিক্ষা উপমন্ত্রী ছাত্রলীগের পক্ষে সাফাই গাচ্ছেন। বর্তমানে রাষ্ট্রের কোন প্রতিষ্ঠানই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। সকল ঘটনাতেই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা তার প্রমাণ। আমরা দেখেছি ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলায় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ লাগে। তাহলে বিচার বিভাগের কাজ কি? বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন হলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। তাহলে ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি করে? দেশে এখন যখনই কোন আন্দোলন হচ্ছে তখনই সেখানে বিএনপি জামায়াতের তকমা দিচ্ছেন। অথচ সে আন্দোলনগুলোতে জনগণ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে। আর এটাই প্রমাণ করে আন্দোলনগুলো যৌক্তিক।

জাবি ভিসির উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, দেশের ১৭ টি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিজের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঠেকাতে আপনি (জাবি ভিসি) বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করেছেন। আপনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তাদের দাবি শুনে ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কিন্তু আপনি তা করেননি। আপনার বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যই প্রমাণ করে আপনি দুর্নীতিবাজ।

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, এ আন্দোলন শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পতনের আন্দোলন নয়। এটা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন। এই আন্দোলন ঠিকই ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে রুপ নেবে।

বাসদ (মাকর্সবাদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড আ ক ম জহিরুল ইসলাম বলেন,‘আজকাল ছাত্রলীগ কোটি টাকার কারবাবী হচ্ছে, শিক্ষকরা সকালে জিয়া পরিষদ, রাতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ করে। এ ক্যাম্পাসের অতিত ইতিহাস বলে জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্রদের পুলিশি হুমকি দিয়ে প্রতিহত করা যায় না। প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে হুমকি দিয়ে আন্দোলন প্রতিহত করা যায় না।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে আরো বক্তব্য রাখেন কমিউনস্টি পার্টির সাধারণ সম্পাদ কমরেড শাহ আলম, সঙ্গীত শিল্পী ও কবি অরূপ রাহী, অধ্যাপক রাহনুমা আহমেদ, ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা, রাষ্ট্র চিন্তার রাখাল রাহা, পরিবেশবাদী মিজানুর রহমান, আব্দুল খালেক তালুকদার, সিনেটর মহব্বত হোসেন, ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান, অধ্যাপক শামিমা সুলতানা।

এছাড়াও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, ছাত্র ফেড়ারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও অরণি সেমন্তী খান বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশ শেষে রাত সাড়ে সাতটায় গানে গানে সংহতির আয়োজন করে আন্দোলনকারীরা। সমাবেশে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিল্পীরা সংহতি জানিয়ে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করে। এর আগে সকাল এগারটায় গত শুক্রবারে তৈরীকৃত ভিসির দুর্নীতির ‘পটচিত্র পরিবেশ করা হয়।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik