১৯ নভেম্বর ২০১৯

ঘনিষ্ট বন্ধুর স্ত্রী-কন্যাকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন

টাঙ্গাইল শহরের ভাল্লুককান্দী এলাকায় শনিবার রাতে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মা লাকী বেগম ও তার চার বছরের মেয়ে আলিফাকে টাকার লোভে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যে মূল আসামীকে গ্রেফতার করে হত্যারহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

এই মা-মেয়ের হত্যাকারী আর কেউ নন; নিহত লাকী বেগমের স্বামী আলামিনের ঘনিষ্ট বন্ধু রাইজ উদ্দিন। তিনি টাঙ্গাইল শহরের চরপাতুলি এলাকার মৃত সুকুম উদ্দিনের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ৮ লাখ টাকার লোভে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। রোববার রাতে নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত রাইজ উদ্দিনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির মুরগীর ‘খোয়াড়’ থেকে নগদ ৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ও ঘরের ভেতর থেকে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছোরা পাশের এক ধান ক্ষেত থেকে এবং হত্যাকাণ্ডের সময় আসামীর পরনে থাকা রক্তাক্ত শার্ট ও লুঙ্গিও উদ্ধার করা হয়। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, আসামীকে প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এক পর্যায় সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। টাকার জন্যই সে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে উল্লেখ করে আসামী পুরো ঘটনা খুলে বলে। সোমবার বিকেলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার জন্য তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

টাঙ্গাইল শহরের ভাল্লুককান্দী এলাকায় শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ব্যবসায়ী আলামিনের স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা লাকি বেগম ও তার চার বছরের কন্যা আলিফাকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। পরে ঘরের ড্রয়ার থেকে আট লাখ টাকা লুট করা হয়। পরদিন রোববার বিকেলে নিহত লাকী বেগমের বাবা হাসমত আলী অজ্ঞাতদের আসামী করে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।


আরো সংবাদ