২৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৫
`

গোপালগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে বহিষ্কার নিয়ে তোলপাড়

-

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাময়িক বহিষ্কৃত ছাত্রী তার নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছেন। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া পড়ালেখার পাশাপাশি 'দ্য ডেইলি সান' নামে একটি জাতীয় দৈনিকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবেও কাজ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তাকে সম্প্রতি তার সাংবাদিকতা ও ফেসবুক স্ট্যাটাসের জের ধরে সাময়িক বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি তার সাথে অশালীন শব্দ ব্যবহার করে খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে ভিসি অধ্যাপক খন্দকার মোঃ নাসিরউদ্দীন অভিযোগ করেন, ছাত্রীটি অন্তত দুবার তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করেন। ভিসির ভাষায়, ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া আরেক ছাত্রের যোগসাজশে 'ভিসি, প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের মহাপরিকল্পনা' করছিল এই প্রমাণ তারা পেয়েছেন। এ কারণেই তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ভিসির বক্তব্য, ওই শিক্ষার্থী যদি তার দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে তবে তার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়া হবে। কিন্তু জিনিয়া বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আমি যেখানে অপরাধই করিনি, সেখানে কেন ক্ষমা চাইবো’।

ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে নানা সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন করেন। এসব সংবাদের জন্য বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে। এসবের ধারাবাহিকতায় গত ২৪শে অগাস্ট একটি সংবাদের জন্য ভিসির বক্তব্য নিতে গেলে, ভিসি একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের জের ধরে তাকে গালিগালাজ করেন বলে জিনিয়া অভিযোগ করেন।

যে ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে এই ইস্যু সেটিতে তিনি লিখেছিলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী হওয়া উচিত?' তার অভিযোগ, এক পর্যায়ে তার সংবাদের একজন সূত্র বা সোর্স, যিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন ছাত্র, তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যেদিন ছাত্রটিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, ওইদিন রাতে তার মেসেও হামলা চালানো হয় বলে জিনিয়া অভিযোগ করেন।

সর্বশেষ গত ১২ই সেপ্টেম্বর তিনি সাময়িক বহিষ্কারের নোটিশ পান, যেখানে কারণ হিসেবে দেখানো হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিয়ে একজন ছাত্রের সঙ্গে আপত্তিকর আলোচনা করা, বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া এবং ভিসির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা।

নোটিশে উল্লেখিত সবগুলো অভিযোগই অবশ্য অস্বীকার করেছেন ওই জিনিয়া।

ভিসির বক্তব্য

ওদিকে ভিসি হুমকি দেয়া বা অশালীন আচরণ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেছেন যে ছাত্রীটি আরেকজন ছাত্রের সঙ্গে মিলে বিশ্ববিদ্যালয় ও এর প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল। সেই সাথে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়েও একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছিল।

সূত্র : বিবিসি বাংলা


আরো সংবাদ



premium cement