১৬ অক্টোবর ২০১৯

‘এটিই হয়তো শেষ কথা, দেখতে মন চাইলে ছবি-টবি দেখো’

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে সাগরের পানিতে ডুবে নিহত দুই যুবকের লাশ ফরিদপুরে এসে পৌঁছেছে। আজ রোববার তাদের মৃতদেহ ফরিদপুরে এসে পৌঁছলে সেখানে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহত এই দুই যুবক হলো ফরিদপুরের সদর উপজেলার ডোমরাকান্দি গ্রামের বেলাল মোল্যার ছেলে সায়েম মোল্যা (১৭) ও সালথার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামের আব্দুল আলিমের পুত্র সেলিম মিয়া (৩০)।

নিহতদের মধ্যে ফরিদপুরের এই দু’জন ছাড়াও সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে সানি (২১) নামে আরেক যুবক রয়েছেন যার মৃত্যুও একই সাথে হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সানির লাশ এখনো ফরিদপুরে এসে পৌঁছেনি।

নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৮০ হাজার টাকা বেতনে কাজ দেয়ার প্রলোভনে তাদেরকে ইতালি নেয়ার কথা ছিলো। গত ১০ মে তারা বাংলাদেশ হতে প্রথমে লিবিয়া যায়। এরপর লিবিয়া হতে প্রথমে একটি ট্রলারযোগে ও পরে একটি ছোট নৌকায় করে ইতালি যাচ্ছিলো তারা। সাত লাখ টাকা চুক্তিতে ফরিদপুরের ডোমরাকান্দির ইতালি প্রবাসী জনৈক মফিজুর রহমানের মাধ্যমে তারা এই চাকরির সন্ধান পান বলে জানান।

নিহত সায়েমের বোন সুমাইয়া (২১) জানান, গত ৩ জুন তার ভাইয়ের সাথে শেষ কথা হয়। একটি নৌকায় করে তারা সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি রওনা হয়েছিলো। ভূমধ্যসাগরে নৌকা থেকে মোবাইলে সায়েম জানিয়েছিলো ‘আমাদের নৌকা ফুটো করে দিয়েছে। এটিই হয়তো শেষ কথা। আমাদের দেখতে মন চাইলে ছবি-টবি দেখো।’

একথা বলেই কান্নায় ভেঙে পরেন তার বোন। এটিই ছিলো শেষ কথা। এরপর থেকে আর যোগাযোগ হয়নি সায়েমের সাথে।

পরে বিদেশে থাকা অন্যদের নিকট থেকে ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ পান তারা।

নিহত সায়েমের পিতা বিল্লাল মোল্লা জানান, আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের খোঁজ নিযে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই দুই জনের লাশ ফেরত আনা হয় দেশে।

লাশের সাথে আগতদের বরাদত দিয়ে তিনি আরো জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যে সানির লাশ দেশে আসতে পারে। এদিকে সানির বাবা মফিজ মাতুব্বর দ্রুত তার সন্তানের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবী জনিয়েছেন।

রোববার সকালে নিহত সায়েম মোল্লা ও সেলিমের লাশ বাড়িতে আসলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে কোন তথ্য (দাপ্তরিকভাবে) নেই বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এনায়েত হোসেন।

তিনি বলেন, লোকমুখে জেনেছি বিদেশে মৃত্যু হওয়া একজনের লাশ এসেছে, পরিবার তার দাফন করেছে।

ফরিদপুর জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ষষ্টী পদ রায় জানান, নিহতরা জনশক্তি কার্যালয়ের মাধ্যমে জায়নি বিধায় তাদের বিষয়ে আমাদের অফিসে কোন রেকর্ড নেই। ফলে তাদের লাশ আনার বিষয়েও আমাদের জানা নেই।

ফরিদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা জানান, লাশ আসার পর প্রশাসনকে অবহিত করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করেন।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum