১৫ অক্টোবর ২০১৯

কাঁচপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে ৩০ জন আহত

মহাসড়ক অবরোধ, টিয়ার শেল-রাবার বুলেট নিক্ষেপ
-

বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টাকালে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে একটি রফতানিমুখী শিল্প কারখানার শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অর্ধশতাধিক টিয়ার শেল ও ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।

আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বেতন ভাতা ও অন্যান্য কয়েকটি সুযোগ-সুবিধার দাবিতে কাঁচপুরে সিনহা ওপেক্স গ্রুপের কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে এ সংঘর্ষ বাঁধে।

শিল্প পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপার বশির আহম্মেদ জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। সকালে শ্রমিকরা তাদের কিছু দাবি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দিতে চাইলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে প্রায় ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং শ্রমিকরা শান্ত রয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

জানা যায়, কাঁচপুর শিল্পাঞ্চল এলাকায় ওপেক্স গ্রুপের সিনহা গার্মেন্টেসের শ্রমিকরা প্রতিদিনের ন্যায় সকালে কারখানার ভেতর প্রবেশ করে কাজে যোগদান না করে কারখানা এলাকায় জড়ো হতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা প্রতি মাসের ৮ তারিখের মধ্যে মাসিক বেতন পরিশোধ ও ভাতা বৃদ্ধি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, ছুটিকালীন সময়ে ভাতা প্রদান দাবিতে বিক্ষোভ করে।

এসময় শ্রমিকরা লাঠিসোটা হাতে নিয়ে কারখানার প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ বাধা দেয়। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা গার্মেন্টেসের সামনে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। শুরু হয় শ্রমিকদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেটে কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

সিনহা গার্মেন্টের শ্রমিক আসাদ জানান, গার্মেন্ট শ্রমিকদের প্রতি মাসের ৮ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ আমাদের বেতন পরিশোধ করেন না। তাদের মনগড়া মতো বেতন পরিশোধ করেন। আমাদের ছেলে মেয়েদের স্কুল-কলেজের বেতন, বাসা ভাড়া ও দোকান বাকি পড়ে যায়। এতে করে আমাদের আর বাকি দিতে চায় না দোকানদার।

নারী শ্রমিক ফাতিহা জানান, সিনহা গার্মেন্টেসে অনেক মহিলা শ্রমিক কাজ করেন। মহিলা শ্রমিকদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, ছুটিকালীন সময়ে ভাতা প্রদান, মাসিক বেতন প্রতি মাসের ৮ তারিখের মধ্যে পরিশোধ ও ভাতা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা মেনে নিচ্ছেন না। মাতৃত্বকালীন ছুটি দাবি করায় অনেক নারী শ্রমিককে কারখানা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা তাদের কাজ বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, বেতন ভাতা, মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে চাইলে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। এসময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করা হয়। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum