১৬ অক্টোবর ২০১৯

ফরিদপুর শহরে নিষিদ্ধ হচ্ছে ইঞ্জিনের রিকশা চলাচল

-

নিত্যদিনের অসহনীয় যানজট নিরসনে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ফরিদপুর শহরে নিষিদ্ধ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত ইঞ্জিনের রিকশা চলাচল। একইসাথে শহরে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচলও সীমিত করা হবে।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের সভাপতিত্বে জেলা আইনশৃংখলা সমন্বয় কমিটির সভায় সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরপর থেকে গত কয়েকদিন যাবত মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে এ ঘোষণা।

ফরিদপুর পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিনচালিত রিকশার পাশাপাশি প্রায় পাঁচ হাজার ইজিবাইক শহর এবং শহরতলী থেকে এসে এই শহরে চলাচল করে। ফলে ছুটির দিন বাদে প্রতিদিনই প্রধান সড়কসহ পাড়া-মহল্লার রাস্তায়ও ভয়াবহ আকারের যানজট হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আপাতত দু’ভাগে তিন হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দেয়া হবে। এরমধ্যে দেড় হাজার ‘এ’ সিরিজের এবং বাকি দেড় হাজার ‘বি’ সিরিজের। একেকদিন একেক সিরিজের ইজিবাইক চলবে। আর ইঞ্জিনচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে।

এদিকে, জেলা প্রশাসনের এসব সিদ্ধান্তে যেনো বিনা মেঘে বজ্রপাত ঘটেছে হতদরিদ্র রিকশাচালকদের মাথায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রিকশাচালক বলেন, প্রায় তিন হাজার ব্যাটারিচালিত ইঞ্জিন রিকশা প্রতিদিন শহরে চলাচল করে। একেকটি রিকশার উপরে একেকটি পরিবার নির্ভরশীল। এসব রিকশা না চললে এসব পরিবারের রুটি-রুজির পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

ফরিদপুর রিকশা চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছহের ব্যাপারি বলেন, প্যাডেলের রিকশার চেয়ে ইঞ্জিনের রিকশা অনেক ভারি করে বানানো। ব্যাটারি খুলে ফেললে এই রিকশা পা দিয়ে চালানো যায় না। অনেকে ধার-দেনা করে সহায় সম্পদ বিক্রি করে উপার্জনের অবলম্বন হিসেবে এসব রিকশা কিনেছে। শুধুমাত্র এসব রিকশাই যে যানজটের কারণ তা নয়। আমরা এ নিয়ে প্রয়োজনে আমাদের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সাথে কথা বলবো। ফরিদপুর ইজিবাইক চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদ মোল্লা অবশ্য লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইজিবাইকগুলোকে লাইসেন্স প্রদান করা হলে এ খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

ফরিদপুরের প্রবীণ সাংবাদিক আহম্মদ ফিরোজ বলেন, এভাবে ইঞ্জিনচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ হলে অনেকে বেকার হয়ে যাবে। তাতে চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। সুশাসনের অভাবেই শহরে যানজট হচ্ছে। সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো এবং নির্মাণ সামগ্রী ফেলে সড়ক সংকোচন করে রাখা হয়। ১৮ বছরের নিচে অনেকে ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চালাচ্ছে। শহরের মাঝে হাট বসছে। এসব দিকে নজর দেয়া উচিত।

ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু বলেন, জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভার মাধ্যমে তার উপর যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা যেকোনো মূল্যে পালন করতে তিনি বদ্ধপরিকর। এখানে পিছপা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফরিদপুর পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শহরটি যানজটের কবলে পড়েছে। রাস্তায় পা ফেলা পর্যন্ত যায় না। পৌরমেয়র হিসেবে এ অবস্থা তার পক্ষে মেনে নেয়া কষ্টকর।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum