১৮ অক্টোবর ২০১৯

আশুলিয়ায় পুলিশ-ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পুলিশসহ আহত-৩

আশুলিয়ায় পুলিশ-ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পুলিশসহ আহত-৩ - নয়া দিগন্ত

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আশুলিয়ায় পুলিশ-ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলায় শিল্প পুলিশ-১ এর ইন্টেলিজেন্স এএসআই মাহমুদ হাসান (৩২), ঔষধ ব্যবসায়ী আল আমিন মৃধা (২৮) ও সেলসম্যান খাদেমুল (২২) রক্তাক্ত জখম হন। এতে আরো একজন ব্যবসায়ী আহত হন।

আহতদের স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঔষধ ব্যবসায়ী আল আমিন ও সেলসম্যান খাদেমুলকে আটক করে শিল্প পুলিশ-১ হেড কোয়ার্টার্সে নিয়ে যায়। ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করে।

বুধবার বেলা ১টায় আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার ঔষধের ফার্মেসীতে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলো- শিল্প পুলিশ-১ এর ইন্টেলিজেন্স এএসআই মাহমুদ হাসান, আশুলিয়ার কান্দাইল এলাকার আমান উল্লাহ মৃধার ছেলে ঔষধ ব্যবসায়ী আল আমিন মৃধা এবং তার সেলসম্যান খাদেমুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে আল আমিনের পিতা আমান উল্লাহ বলেন, দুপুরে সিভিল পোশাকে এএসআই মাহমুদ অ্যাবসল নামে একটি ক্রীম নিয়ে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় তার ছেলে আল আমিনের মৃধা ফার্মেসীতে যান। সেখানে ফার্মেসীর সেলসম্যান খাদেমুলের কাছে ক্রীমটি দিয়ে জানতে চান এটিতে কি কাজ করে। সে জানায়, ডাক্তার ছাড়া এর কার্যকারিতা সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেন না। এছাড়া তারা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন মোতাবেক ঔষধ বিক্রি করেন বলেও জানান। এতে ওই এএসআই ক্ষিপ্ত হয়ে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং খাদেমুলকে ঘুষি মারেন। এ সময় আল আমিন এগিয়ে আসলে তাকেও কিল ঘুষি মারেন। এ ঘটনায় ঔষধ ব্যবসায়ী আল আমিন তার দোকানে থাকা লোহার রড দিয়ে ওই এএসআইকে পিটুনি দেয়। এতে ইন্টেলিজেন্স এ এসআই মাহমুদ হাসানের হাতের কব্জির ওপর হাড় ফেটে যায়। এ ঘটনা শিল্প পুলিশকে জানালে মূহুর্তের মধ্যে কয়েকটি গাড়িতে শিল্প পুলিশের সদস্যরা গিয়ে ওই ফার্মেসীতে হামলা চালায়। এতে দোকানের কাঁচ ভাংচুরসহ ঔষধপত্র নষ্ট হয় এবং আল আমিন ও খাদেমুলকে পিটিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে।

এসময় ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলে শিল্প পুলিশের সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত গাড়িতে ঔষধ ব্যবসায়ী আমিন ও সেলসম্যান খাদেমুল ইসলামকে তুলে নিয়ে শিল্প পুলিশ-১ এর হেড কোয়ার্টার্সে নিয়ে আসে।

প্রতিবেশি ব্যবসায়ীরা জানান, পুলিশের এসআই মাহমুদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের ২/৩টি গাড়িতে এসে দোকানে হামলা চালায় এবং আল আমিন ও খাদেমুলকে ব্যাপক মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সেখান থেকে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার শিল্প পুলিশ-১ এর হেড কোয়ার্টার্সে আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে আহতরা কি অবস্থায় রয়েছে তা তারা জানেন না। তবে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও তারা জানান।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে মোবাইলে জানতে চাইলে, শিল্প পুলিশ-১ এর এসপি সানা সামিনুর রহমানের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তবে আহত ইন্টেলিজেন্স এএসআই মাহমুদ কে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ভালো আছেন। তবে তিনি এসপি স্যারের সামনে রয়েছি পরে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে শ্রীপুর হেডকোয়ার্টাসে গেলে সাংবাদিক পরিচয়ে কাউকে তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেয়নি শিল্প পুলিশের দায়িত্বরতরা। তারা জানান এসপি স্যারের অনুমতি নেই।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum
portugal golden visa