২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সেই ব্রিজের রেলিং ছিলো ‘বাঁশ’ দ্বারা নির্মিত

ফরিদপুরের ধুলদীতে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ব্যস্ততম মহাসড়কের ব্রিজের দুই পাশের নিরাপত্তা বেষ্টনী তথা রেলিংটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর সেটি বাঁশ দিয়ে মেরামত করা হয়েছিলো। একারণে ওই রেলিংয়ে মহাসড়কে চলাচলরত সাধারণ যানবাহনের ওজনও বহন করার সক্ষমতা ছিলোনা। আর একারণেই গত শনিবার ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের দিকে আসা যাত্রিবাহী বাস কমফোর্ট লাইনের বাসটি একটি মোটর সাইকেলকে সাইড দিতে যেয়ে রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। এতে ৮ জন নিহত ও অনেকে আহত হন।

এদিকে, মর্মান্তিক এই সড়ক দূর্ঘটনার পর এমন একটি ব্যস্ততম মহাসড়কের নিরাপত্তা ও ব্রিজে বাঁশের রেলিং দিয়ে মেরামতের বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই মহাসড়ক দিয়ে সারাদেশের প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। দ্রুতগামী বাস আটকাতে এই রেলিং কোনো কাজেই আসেনি।  যদি বাঁশ দিয়ে মেরামত করা রেলিং না হয়ে মজবুত বেষ্টনী থাকতো তবে হয়তো বাসটি খাদে পড়তো না এমন কথাও অনেকে বলছেন।

ধুলদী গ্রামে বাসিন্দা পাপলু মিয়া (৩৮) জানান, ওই ব্রিজের পাশেই নতুন একটি ব্রিজ ও চার লাইনের মহাসড়ক হচ্ছে। শিঘ্রই হয়তো নতুন ব্রিজটি উদ্বোধন হবে। তবে এর মাঝে পুরাতন এই ব্রিজটির রেলিং যে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে সেদিকে কারো খেয়াল ছিলোনা। ব্রিজের শ্রমিকেরাই হয়তো পুরাতন ওই ব্রিজের রেলিংটি ধ্বসে পড়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য বাঁশ দিয়ে কোনমতে ঠেকনা দিয়েছিলো। তাতেতো আর বাসের ওজন মানে না!

একই গ্রামের বাসিন্দা মুদি দোকানদার জাহিদ মোল্যার অবশ্য ভিন্নমতও রয়েছে। এই মহাসড়কে প্রতিদিন এতো যানবাহন চলাচল করে সেখানে বাঁশের এই রেলিং কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না স্বীকার করে তিনি অবশ্য বলেন যে, রেলিংটি যদি কংক্রিটেরও হতো তাতেও কাজ হতো না। কারণ, এই মহাসড়কে দুরপাল্লার বাসের চালকেরা এতো দ্রুত গতিতে বাস চালায় যে, একবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে সামনের কিছুই তাকে আটকাতে পারে না। তবে রেংিলটি মজবুত হলে হতাহতের সংখ্যা কম হতো বলে তিনি স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুল বারী বলেন, ব্রিজটিতে বাঁশের রেলিং দেয়া আছে। তবে যে স্থান দিয়ে গাড়িটি খাদে পড়েছে সে জায়গায় লোহার রেলিংই ছিল।

ব্রিজে বাঁশের রেলিং দেয়া হয়েছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় লোহার রেলিং ভেঙে যায়। পরবর্তীতে সাময়িকভাবে বাঁশ দিয়ে রেলিং দেয়া হয়। এ কারণে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আমরা সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছিলাম। পাশেই নতুন একটি ব্রিজের নির্মাণকাজ চলছে।

তবে ঘটনাস্থলে ওই ব্রিজের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ কোন সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি। ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক চারলেনে প্রশস্তকরণ ও সেতু নির্মাণের কাজের নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ‘মনিকো কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুর্ঘটনাকবলিত ধুলদী ব্রিজের পাশে সড়ক প্রশস্তকরণ ও অপর একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ করছে তারা।

নিহতদের লাশ হস্তান্তর:

এদিকে, শনিবার ধুলদীতে বাস দূর্ঘটনায় নিহত ৮ জনেরই নাম পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম নাসিম।

নিহতরা হলেন, ওই বাসের সুপারভাইজার গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হানিফ মিয়া, মো: আব্দুল্লাহ, কোটালীপাড়ার ফারুক হোসেন, গোপালগঞ্জ সদরের আসমা আক্তার, ফরিদপুর সদর উপজেলার বিলমামুদপুরের ওয়াহিদুজ্জামান, নড়াইলের বনগ্রামের আলী খন্দকার ও কালিবাড়ির লিপি আক্তার। এই দূর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১৮ জন বর্তমানে ফমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, নিহতদের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি করা হয়েছে যদিও দূর্ঘটনার কারণ সবই উদঘাটিত। হাসপাতালে আহতদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুর দুইটার দিকে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ যাওয়ার পথে কমফোর্ট লাইনের একটি যাত্রিবাহী বাস ধুলদী রেল গেইটের কাছে ব্রিজের রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়। এতে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ধাবমান বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটর সাইকেলকে সাইড দিতে যেয়ে রেলিং ভেঙে খাদে পড়ে যায়।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat Paykasa buy Instagram likes Paykwik Hesaplı Krediler Hızlı Krediler paykwik bozdurma tubidy