২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় দৌলতদিয়া যৌনপল্লী!

-

সারাদেশের চিহ্নিত সন্ত্রাসী, খুনি, ডাকাত, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধীর আত্মগোপনে থাকার নিরাপদ স্থান রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লী। দেশের সর্ববৃহৎ যৌনপল্লী হওয়ায় তারা নির্বিঘ্নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন এখানে আত্মগোপন করে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নাটোরের গুরুদাসপুরে ব্র্যাক অফিসে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার ডাকাতকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলো- গুরুদাসপুর উপজেলার সাবগারি গ্রামের সামাদ সরকারের ছেলে আনাচ সরকার, একই গ্রামের মাহাতাব আলীর ছেলে আজাদ শেখ, জগেন্দ্রনগর গ্রামের মজনু প্রামানিকের ছেলে আজাদুল প্রামানিক ও সিংড়া উপজেলার লাইছেরকান্দি গ্রামের মৃত ময়েন শেখের ছেলে শ্যামল আলী শেখ।

গোয়ালন্দ থানার এসআই পরিমল বিশ্বাস জানান, গত ১৯ জুলাই রাতে গুরুদাসপুর ব্র্যাক কার্যালয়ে ডাকাতরা ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। গুরুদাসপুর থানায় ব্র্যাকের পক্ষ থেকে ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী থেকে ২০ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঞ্চল্যকর অপরাধমূলক কাজে জড়িত সন্ত্রাসীদের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে থাকেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

যদিও দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অদৃশ্য কারণে নিয়মিত পুলিশি অভিযান চলে না। শুধু নির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা নাম-পরিচয় গোপন রেখে সেখানে দিনের পর দিন অবস্থান করে থাকে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অন্তত তিন হাজার যৌনকর্মীর বসবাস। প্রতিদিন এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৮-১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। অনেকেই এখানে এসে কোনো কোনো যৌনকর্মীর ঘরে দিনের পর দিন অবস্থান করে। নিষিদ্ধ পল্লী হওয়ায় সাধারণত এখানে আগতদের প্রত্যেকেই নিজের পরিচয় গোপন রাখে। অপরদিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীকে কেন্দ্র করে এর আশপাশে দৌলতদিয়া রেলষ্ট্রেশনে রেলের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠেছে শতাধিক আবাসিক বোর্ডিং। এসব বোর্ডিংয়েও আগতদের নাম-পরিচয় ঠিকমতো লিপিবদ্ধ করা হয় না। এ সকল বোর্ডিংয়েও অপরাধীরা আত্মগোপন করে দিনের পর দিন অবস্থান করে যৌনপল্লীতে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায়ও জড়িয়ে পড়ে। এ সব সন্ত্রাসীর হাতে একাধিক যৌনকর্মী খুন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

গোয়ালন্দঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, তিনি এখানে নতুন যোগদান করেছেন। এসব অসঙ্গতি তারও চোখে পড়েছে। ইতিমধ্যে তিনি এসব বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেমন- যৌনপল্লীর সকল গেট বন্ধ করে একটি গেট খোলা রাখা হবে এবং সেখানে সিসি ক্যামেরাসহ একটি পুলিশ বক্স স্থাপন করা হবে। যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের নামসহ একটি ডাটাবেজ তৈরি করে তাদের কাছে কে আসছে, কে থাকছে, তাদের পরিচয় লিপিবদ্ধ করা হবে।

তিনি আশা করেন এটা করতে পারলে এখানে কোনো সন্ত্রাসীর দিনের পর দিন অবস্থান বন্ধ করাসহ ওই এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।


আরো সংবাদ