১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ : দুঘর্টনার নেপথ্যে মোটর সাইকেল!

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ : দুঘর্টনার নেপথ্যে মোটর সাইকেল! - নয়া দিগন্ত

বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটর সাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে ফরিদপুর-ঢাকা মহাসড়কের ধুলদী রেলগেট এলাকায় ভয়াবহ যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে এ মর্মাান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আট জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬ জন ঘটনাস্থলে এবং অন্য দু’জন হাসপাতালে আনার পরে মারা যান। এদের মধ্যে বাসের সুপার ভাইজারও রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো প্রায় ২৫ জনের মতো। খবর পেয়ে ফরিদপুর ও রাজবাড়ি থেকে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক উদ্ধারকারী দল পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালায়। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার ছাড়াও জনমনে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ফরিদপুরে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার নুরুল আলম দুলাল জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কমফোর্ট লাইনের একটি বাস গোপালগঞ্জ যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি রেলিং ভেঙে একেবারে শুকনো গভীর খাদে পড়ে যায়। খবর পেয়ে প্রথমে ফরিদপুর স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি অ্যাম্বেুলেন্স ও একটি চায়না পোর্টন অ্যাক্সিডেন্ট রেসক্যু কারযোগে প্রায় ২০ জনের মতো উদ্ধার কর্মী ঘটনাস্থলে পৌছে। এরপর রাজবাড়ি থেকে আরো একটি অ্যাক্সিডেন্ট রেসক্যু কারযোগে সেখানকার স্টেশন মাষ্টার শওকত জোয়ার্দারের নেতৃত্বে ১০ জন উদ্ধার কর্মী এতে যোগ দেন।

নুরুল আলম দুলাল জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি খাদে পড়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। যাত্রীরা সেই বাসে হতাহত অবস্থায় আটকে পড়েন। এসময় ভারি যন্ত্র দিয়ে বডি কেটে অনেককে উদ্ধার করা হয়। কি কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সম্ভবত বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটর সাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনা কবলিতস্থানে আমরা দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া একটি মোটর সাইকেলও দেখতে পাই। মোটর সাইকেলটির একেক অংশ একেক স্থানে পড়েছিলো। তবে মোটর সাইকেল চালককে সনাক্ত করা যায়নি। পাশপাশি বাস চালককেও পাওয়া যায়নি। সম্ভবত তারাও হতাহতদের মধ্যে রয়েছেন।

প্রায় দেড় ঘন্টা উদ্ধার কাজ চালানোর পর নিহতদের ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এসময় আশেপাশে থেকে অসংখ্য মানুষ এসে ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। ফায়ার সার্ভিস সূত্র বলছে, নিহত হিসেবে প্রথমে তারা ঘটনাস্থলে থেকে সাতজনের মৃতদেহ ব্যাগে ভরেন। এদের মধ্যে একজনকে নাড়াচাড়া করতে দেখা যায়। এরপর তাকে আহতাবস্থায় ওই ব্যাগ থেকে বের করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দু’জনের নাম পাওয়া গেছে : ধুলদীতে ভয়াবহ এই বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মাত্র দু’জনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলো হানিফ (৪৩) ও ফারুক (৪৫। মৃতদের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে বলে জানান কোতয়ালী থানার ওসি এএফএম নাসিম।


আরো সংবাদ