১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিকেলে বাড়ি যাওয়ার আকুতি, রাতে পাওয়া গেল লাশ

নিহত সুমাইয়া আক্তার বর্ষা - সংগৃহীত

‘আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। না হলে ওরা আামাকে মেরে ফেলবে...’। সোমবার বিকেলে নিজের বোনকে ফোন করে বাঁচার আকুতি জানান এক গৃহবধূ। এমন আকুতির পর সোমবার রাতেই বোনের কথামতো বোনকে নিতে এসে পাওয়া গেল লাশ। প্রিয় বোনকে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখা যায় লাশ হয়ে। করুণ ও হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায়। নিহত গৃহবধূর নাম সুমাইয়া আক্তার বর্ষা (২১)।

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বর্ষাকে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান নয়ন। সোমবার রাত ১১টার দিকে জেলার বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আলী সাহারদী এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরপরই নিহত গৃহবধূ বর্ষার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান নয়নকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত বর্ষার স্বজনরা জানান, ২০১৩ সালে আলী সাহারদী এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান নয়নের সাথে রাজধানীর কদমতলী থানার দনিয়া শরাইল এলাকার বাসিন্দা মনজুর ভূঁইয়ার বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বর্ষার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র বাবদ দশ লাখ টাকা খরচ করে বর্ষার পরিবার। বর্ষার সংসারে সাড়ে চার বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

বর্ষার বাবা মনজুর ভূঁইয়ার অভিযোগ, গত প্রায় এক বছর আগে নিজের জমি বিক্রি করে বেশ কিছু টাকা হাতে পান তিনি। সেই টাকা নিজের ব্যবসায় বিনিয়োগ করে ফেলেন। তবে জমি বিক্রি করে তিনি টাকা পেয়েছেন সেই খবর জানতে পেরে মেয়ের জামাতা নয়ন ব্যবসা করার অজুহাতে বর্ষার মাধ্যমে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এ নিয়ে নয়ন ও বর্ষার মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। দাবিকৃত সেই টাকা এখন পর্যন্ত না দেয়ার কারণে স্ত্রী বর্ষার উপর বেশ কিছুদিন ধরে মারধরসহ নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল অভিযুক্ত নয়ন। গত কোরবানির ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে এ পর্যন্ত প্রতিদিনই বর্ষাকে মারধর করতো নয়ন। দাবিকৃত টাকার অজুহাতে সোমবার রাতে নয়ন নিজের স্ত্রী বর্ষাকে আবারো মারধর করে এবং একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ নিহত বর্ষার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদরের জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে বর্ষার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নয়নকে আটক করে পুলিশ।

বর্ষার ছোট বোন মীম জানায়, সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে বর্ষা তাকে ইমোতে ফোন করে খুব কান্নাকাটি করে। এ সময় স্বামী নয়ন প্রতিদিন মারধর করাসহ শারীরিক নির্যাতন করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেছে বলে অভিযোগ করে বর্ষা। এই বাড়িতে থাকলে মারধর করে মেরে ফেলবে এই ভয়ে তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বোনকে অনুরোধ করে বর্ষা।

বন্দর থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, নিহত বর্ষার লাশের সুরতহাল পর্যবেক্ষণে গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বর্ষার বাবা মনজুর ভূঁইয়া বাদী হয়ে বর্ষার স্বামী নয়নকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলা গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ