১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দৌলতদিয়ায় ৭ কিমি জুড়ে যানবাহনের সারি, ঘাটে কর্মস্থলমুখী মানুষের ঢল

-

প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করে জীবিকার তাগিদে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে গত তিন দিন ধরে। আগামীকাল পুরোদমে কর্মদিবস চালু হচ্ছে বিধায় আজ শনিবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মস্থলগামী মানুষের ঢল নামে। এ সময় তাদের বহন করে আনা শত শত গাড়ি যানজটে আটকে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয় নারী, শিশু ও বয়স্করা। এদিকে দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে দীর্ঘ পথ পায়ে হাঁটার পর অনেক শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেককে গুনতে হয় অতিরিক্ত ভাড়া।

গাড়ির চাপ বেড়ে গিয়ে শনিবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নদীপারের অপেক্ষায় আটকেপড়া বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারের সারি দীর্ঘ হতে থাকে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে দৌলতদিয়ায় ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। সিরিয়ালে আটকে থাকা সাধারণ বাসযাত্রীরা এসময় পড়েন দুর্ভোগে।

সরেজমিন দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার মহাসড়কের এক পাশে যাত্রীবাহী পরিবহনের দীর্ঘ সারি। অপরদিকে দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কের এক কিলোমিটার জুড়ে নদীপারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আটকে আছে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস। সময় বাড়ার সাথে সাথে লম্বা হয় যানবাহনের সারি।

এদিকে, ঘাট থেকে মহাসড়কের ছয় কিলোমিটার দূরে গোয়ালন্দ পৌরসভার পদ্মার মোড় এলাকা থেকে ব্যক্তিগত গাড়িগুলো বিকল্প সড়ক দিয়ে অন্তত আট কিলোমিটার ঘুরিয়ে ঘাটে পাঠাচ্ছে পুলিশ। গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে বৃষ্টির দিনে পিচ্ছিল পথে ঘাটে পৌঁছাতে এসব গাড়িকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। যদিও শনিবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারাপার হতে আসা সব যানবাহন সরাসরি ফেরিতে উঠতে পারছে না।

সময় বাড়ার সাথে সাথে যানবাহন ও যাত্রীর চাপে ঘাটে চিত্র এখন বিশাল যানজটে রূপ নিয়েছে।

ঈগল পরিবহনের যাত্রী রোকনুজ্জামান বলেন, ‘প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম। ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার রাতে কর্মস্থলের উদ্দেশে পরিবারসহ বের হই। কিন্তু ঘাটে এসে দেখি প্রচুর বাস নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে। সারা রাত আমাদের রাস্তাতেই অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফেরিতে উঠব।’

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আবদুল্লাহ রনি জানান, শনিবার সকালের পর থেকে স্রোতের মতো বিপুল সংখ্যক যানবাহন নদী পার হতে আসায় মহাসড়কে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, ঈদের ছুটি শেষে কর্মব্যস্ত মানুষ একযোগে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই দিন যানবাহনগুলো অপেক্ষা ছাড়াই সরাসরি ফেরিতে ওঠে। কিন্তু শনিবার সকালের পর থেকে স্রোতের মতো বিপুলসংখ্যক যানবাহন নদী পার হতে আসায় মহাসড়কে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। ব্যস্ততম এ সময় ইউটিলিটি ফেরি কুসুম-কলি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় মেরামতে রয়েছে। বিকল থাকা ফেরিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চলাচল শুরু করবে বলে তিনি জানান।

তবে বিকেল নাগাদ উপচেপড়া ভিড় আরো বাড়বে। লঞ্চগুলোতেও ভিড় বেশি। তবে নদী উত্তাল ও ¯্রােত থাকায় যাত্রী একই ভাড়ায় ফেরিতে নদী পার হতে আগ্রহী বেশি। তাই যানবাহনের চাপ থাকলেও যাত্রীরাও ফেরিতে ভিড় করায় চাপ বেশি।

দৌলতদিয়া প্রান্তে পদ্মা নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে প্রায় পাঁচ শতাধিক যানবাহন। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যায় প্রায় চার শতাধিক। বাকি যানবাহনগুলোর মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক রয়েছে। তবে ঘাটে এখন পর্যন্ত ছোট গাড়ির চাপই বেশি। টিকিট নিয়েই ৩/৪ ঘন্টার আগে ফেরিতে উঠতে পারছে না ছোট গাড়িগুলো। ফেরির সংখ্যা কম ও নদীতে প্রচন্ড ¯্রােত থাকার কারণে এ সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। তাই তার ট্রাক পার করা বন্ধ রেখে ছোট গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদী পার করছে।

দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি লঞ্চেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। লঞ্চে ভিড় সামাল দিতে বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশ, র‌্যাব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কাজ করেন।

দৌলতদিয়া ঘাট ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর আবুল বাসার বলেন, ‘ঘাটে আগত যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া আমাদের নৈতিক কর্তব্য। আমরা চেষ্টা করছি নিয়মের মধ্যে থেকে বাসগুলোকে পার করতে।’


আরো সংবাদ