২১ আগস্ট ২০১৯

ফরিদপুরে বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে

বন্যায় রাস্তা ডুবে যাওয়ায় কলাগাছের ভেলায় চলাচল করছে গ্রামবাসী। ফরিদপুরের আলিয়াবাদ থেকে তোলা ছবি - ছবি : নয়া দিগন্ত

ফরিদপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দ্রুত গতিতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে বন্যার পানি। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রীরচর, নর্থচ্যালেন, আলীয়াবাদ, চরমাধবদিয়া ও ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা। ফলে দূর্ভোগে পতিত হয়েছে এসব এলাকার হাজার হাজার মানুষ।

প্রতি মিনিটে মিনিটে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। পদ্মা নদীর পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে বর্তমানে বিপদসীমার ৫৪ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পদ্মার গোয়ালন্দ পয়েন্টের গেজ রিডার ইদ্রিস আলী জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ওই পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরও ২০ সেমি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শুক্রবার সকাল ৬টায় ওই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫৪ সে. মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার বিকেলে আলীয়াবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে পানিবন্দী মানুষের অসহায় অবস্থা চোখে পড়েছে। পানিতে ডুবে গেছে সাদীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গদাধরডাঙ্গী প্রাথমিক বিদ্যালয়। গদাধরডাঙ্গী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য ইট বিছানো সড়কটির বড় একটি অংশ পানি তোড়ে ধ্বসে গেছে। সেখান দিয়ে তীব্র বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গবাদী পশু নিয়ে বন্যা দুর্গত মানুষ বিভিন্ন উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে।

সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম ওমর ফারুক জানান, তার ইউনিয়নে পদ্মা নদী সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত গতিতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় ইউনিয়নের সাদীপুর, গদাধরডাঙ্গী ও আলিয়াবাদ এলাকায় প্রায় পাচঁ শতাধীক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

সদর উপজেলার ডিক্রীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এ ইউনিয়নের পূর্বডাঙ্গী, মুন্সিডাঙ্গী ও ব্যাপারী ডাঙ্গীতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষেতের ফসল ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে।

সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মির্জা সাইফুল আজম জানান, তার ইউনিয়নের ৭নং ওর্য়াডের বাঘেরটিলার প্রধান সড়কটি বন্যার পানির তোরে ভেসে যাওয়ায় ঐ এলাকার প্রতিটি বাড়ীতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে কয়েক শ’ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজনু জানান, তার ইউনিয়নের দূর্গাপুর, জমাদ্দারডাঙ্গী ও বগেরটিলা এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় প্রায় ৫০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পরেছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশী ক্ষগ্রিস্ত ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান মোস্তাক জানান, শুক্রবার তার ইউনিয়নে ৬ ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক শত বাড়ি-ঘর, মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ মনিটরিং সেল থেকে জানা গেছে, বন্যার ফলে ফরিদপুর সদর, সদরপুর, ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন এই চারটি উপজেলার দুই হাজার ১৫৪টি পরিবারের ৮ হাজার ৮৪২জন ব্যাক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গতদের মধ্যে সদরে ১৫০ প্যাকেটে, সদরপুরে ৪৫ প্যাকেট, ভাঙ্গায় ৩১ ও চরভদ্রাসনে ৪০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সদরপুরে দশমিক ৩৯ মে. টন ও ভাঙ্গায় দশমিক ২৮ মে.টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet