১৭ জুন ২০১৯

তিনকন্যা নিয়ে অসহায় কাতারে মৃত্যুবরণকারী জিয়ার স্ত্রী

তিনকন্যা নিয়ে অসহায় কাতারে মৃত্যুবরণকারী জিয়ার স্ত্রী বিউটি আক্তার - নয়া দিগন্ত

পরিবারের অভাব দূর করতে নয় মাস আগে ধার দেনা করে কাতারে পাড়ি জমান রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার জিয়া খান (৩৬)। তিনি গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দির আব্দুর রাজ্জাক খানের ছেলে। গত ৫ মে প্রথম তারাবির রাতে মসজিদে নামাজ আদায়কালে স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রায় পনের দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটার দিকে মারা যান। তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে পরিবার। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সরেজমিন গোয়ালন্দ শহরের কুমড়াকান্দি গ্রামে জিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে তিন শিশু কন্যা সন্তানদের নিয়ে কান্না করছেন জিয়া খানের স্ত্রী বিউটি আক্তার। প্রতিবেশি অনেকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। শান্তনার ভাষা কারো জানা নেই। জিয়ার মা অনেক আগে মারা গেছে। বাবা আব্দুর রাজ্জাক দিন মুজুর। সকালেই কাজে গেছেন।
জিয়ার স্ত্রী বিউটি আক্তার বলেন, সংসারে তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে রিয়া আক্তার এ বছর পঞ্চম শ্রেণি পাশ করার পর মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি। দ্বিতীয় মেয়ে আফরোজা আক্তার এ বছর পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে মাদ্রাসায় দিয়েছি। ছোট মেয়ে জান্নাতি স্কুলে যাওয়া শুরু হয়নি। পাঁচ সদস্যের সংসারে টানাপোড়নে কষ্টে ধার দেনা করে কাতার গেছে জিয়া খান। কাতার বারোয়া লেবার ক্যাম্পে মিকমিট কোম্পানিতে রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন। যে হারে বেতন দেয়ার কথা ছিল তা থেকে অনেক কম দেয়। অসুস্থ হওয়ার আগে মুঠোফোনে ম্যাসেঞ্জারে ভয়েস রেকর্ডে জিয়া বলেছিল, ‘আমি কেবল ডিউটি শেষ করেছি। কিছু টাকা পাঠিয়েছি তা দিয়ে তিন মেয়ের ঈদের কাপড় কিনে দিও। বেশি দামি না কিনে কম দামের দিও। ভালো কাপড় কিনে দেয়ার সামর্থ নেই। সারা মাস চলবো কিভাবে? ওই দিন সকালে ফোনে বলেছিল, ‘১৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। সাবধানে টাকা তুইলো। হিসাব করে খরচ কইরো। আমার জন্য দোয়া কইরো। সবাইকে দেখেশুনে রেখ’। প্রথম তারাবিহ নামাজ পড়াকালিন স্ট্রোক করলে তার এক রুমমেট ফোনে জানায়। এরপর কাতারের আহম্মদ হাসপাতালে লাইফ সাপোটে রাখা হয়। গত শুক্রবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ফোন আসে সে মারা গেছে। এখন আমি এই তিন মেয়ে নিয়ে কীভাবে চলবো? আমি আমার স্বামীর দ্রুত লাশ ফিরে পেতে চাই।
প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন জানায়, জিয়া খুবই ধর্মভীরু ও সরল মনের মানুষ ছিল। দেশে রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাতো। সংসার চালাতে গিয়ে অনেক টাকা দেনা হয়ে পড়ে। শশুড় বাড়ির সহযোগিতায় ধার দেনা করে কাতার যায়। এখন তার সংসার দেখার মতো কেউ নেই।


আরো সংবাদ