০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

স্কুলছাত্রীকে পান বরজে ধর্ষণ : মামলা দায়ের

প্রতীকী ছবি - সংগৃহীত

বাড়ির পাশে পানের বরজের কাছে ঘাস কাটতে গিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের বিষয়ে বুধবার রাতে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থানায় ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনা শোনার পর থেকে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর মা (৩৫), তার ভাই (১৫) ও (৫) কে নিয়ে ৮দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার রাতে ওই ভূক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের শ্রীরাম বেতেঙ্গা গ্রামের মৃত আফজাল মিয়ার ছেলে ইউনুস মিয়া ওরফে ইল্লোছ মিয়া (৫৫) কে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত ধর্ষক ৩ সন্তানের জনক বরে জানা গেছে।

নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর বাবা জানান, গত ২ এপ্রিল বিকেল ৫টার পর তার মেয়ে (১২) ছাগলের জন্য কাচি নিয়ে ঘাস আনতে যায়। সে সময় বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের শ্রীরাম বেতেঙ্গা গ্রামের মৃত আফজাল মিয়ার ছেলে ইউনুস মিয়া ওরফে ইল্লোছ মিয়া (৫৫) মেয়েটির কাছে জানতে চায় কোথায় যাস। সে বলে ঘাস কাটতে যাচ্ছি। তখন বলে পান বরজের মধ্যে ঘাস আছে নিয়ে যা।

তার কথায় পান বরজের মধ্যে গেলে জোরপূর্বক মেয়েটির জামা-কাপড় ছিড়ে ফেলে ধর্ষণ করে। সে চিৎকার করলে ইল্লোছ মিয়া তার হাতে থাকা কাচি দিয়ে মেয়েকে ভয় দেখায়। তবে বাড়িতে যাবার পর তার মা বিষয়টি বুঝতে পারে এবং ঘটনার দুইদিন পর তার ওই মেয়ে ও শিশু দুই ছেলেকে নিয়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যায়।

সেখানে যাবার পর মেয়েকে চিকিৎসা করায়। এর কয়েকদিন পর স্ত্রী ও ছেলে মেয়েরা বাড়ি ফিরে আসে। তবে বাড়ি ফিরে আসার পরপরই নিজের মেয়েকে রেখে দুই ছেলেকে নিয়ে নিখোঁজ হয় তার স্ত্রী। এরপর থেকে তার মেয়েটি শুধুই কান্নাকাটি করছে।

তিনি আরো বলেন, গত সোমবার মেয়ের কান্না দেখে তার চাচিরা কারণ জানতে চায়। তখন মেয়েটি বলে তাকে ইল্লোছ ধর্ষণ করেছে এবং এই কথা জানার কারণেই তার মা দুই ভাইকে নিয়ে হারায় গেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নানা স্থানে তার স্ত্রী ও সন্তানদের খোঁজাখুঁজি করেও তারা পায়নি।

এদিকে নির্যাতিত ওই স্কুলছাত্রীর চাচি বলেন, মেয়েটির কাছ থেকে ওই সব কথা জানার পর পর তারা হতবাক হন। এরপর মেয়েকে নিয়ে তার স্কুলে যান এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষককে তারা পুরো ঘটনা খুলে বলেন। প্রধান শিক্ষক তাদের থানায় অভিযোগ করতে বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, তারা ঘটনাটি জানার পর মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে খানিকটা গোপন রাখার চেষ্টা চালান। তবে এখন পুরো এলাকায় ঘটনাটি ছড়িয়ে গেছে। তারা সমাজে মুখ দেখাতেও পারছেন না। তারা লম্পট ইউনুস মিয়ার বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে জামালপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মেয়েটি খুব সরল সোজা। অথচ এমন একটি মেয়ে ওই রকম একটা জঘন্য অত্যাচারের স্বীকার হয়েছে। তিনি ধর্ষককে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বালিয়াকান্দি থানার ওসি একেএম আজমল হুদা জানান, বুধবার রাতে ওই মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। ধর্ষিতা ছাত্রীকে উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বদিয়ার রহমান আসামী গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik