২১ আগস্ট ২০১৯

দৌলতদিয়ায় ফেরির ধাক্কায় ট্রলার ডুবি, নিখোঁজ ১

প্রতীকী ছবি - সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৫নং ফেরি ঘাটের কাছে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাপলা-শালুক নামের চলন্ত ইউটিলিটি ফেরির ধাক্কায় মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। ট্রলারে থাকা ৩ জনের মধ্যে দুইজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ রয়েছেন একজন।

নিখোঁজ মাঝির নাম ফরিদ হোসেন (৩২)। তিনি দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহির চর সাত্তার মেম্বার পাড়ার ছবেদ শেখের ছেলে।

জানা যায়, সোমবার বিকেলে পাটুরিয়া ঘাট থেকে যাত্রী ও যানবাহন বোঝাই করে শাপলা-শালুক নামের একটি ফেরি পদ্মার সরু চ্যানেল দিয়ে দৌলতদিয়ার ৫নং ফেরি ঘাটে ভেরার চেষ্টা করছিল। এসময় ওই চ্যানেল দিয়ে মাছ ধরার একটি ট্রলার দ্রুত ১নং ঘাটের দিক থেকে এসে নদীর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে।

কিন্তু হঠাৎ ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে শাপলা-শালুক ফেরিটির সাথে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ট্রলারটি উল্টে গিয়ে ট্রলারে থাকা ৩জন মাঝি ছিটকে পানিতে পড়ে যান। এর মধ্যে ২জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ট্রলারের মাঝি ফরিদ হোসেন উঠতে পারেননি।

খবর পেয়ে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় নদীতে জাল ফেলে নিখোঁজ ফরিদ হোসেনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের সেকেন্ড অফিসার দেলোয়ার হোসেন জানান, ট্রলার ডুবির খবর পেয়ে আমাদের স্টেশন অফিসার আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছেছে। তারা স্থানীয় জেলেদের সাথে নিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম জানান, সরু চ্যানেলে ফেরির খুব কাছ দিয়ে ট্রলারটি দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় হঠাৎ ইঞ্জিনের পাখা ভেঙ্গে ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এতে ট্রলারের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ফেরির সাথে ধাক্কা লাগলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন : বুড়িগঙ্গায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবি, লাশ উদ্ধার
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা, (১২ মার্চ ২০১৯)

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শিকার সতেন্দ্রর (৫৫) নামে এক শ্রমিকের লাশ গতকাল সোমবার দুপুরে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আহত হয় ১৫ শ্রমিক।

পুলিশ বাল্বহেড, দিদার হোসেন (৪৮) ও আবু বক্করকে (৩৮) আটক করেছে। এ ছাড়া, ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। গতকাল সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল ডুবে যাওয়া ট্রলারটি শনাক্ত করে ট্রলারে থাকা লাশটি উদ্ধার করে।

এ দিকে, লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুম আহম্মেদ ভূঁইয়া। এ সময় ফায়ার সার্ভিস থেকে লাশ বুঝে নেয় কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে নিহতের মেয়ের জামাই দিপক চন্দ্র দাস লাশ শনাক্ত করলে পুলিশ তার কাছে লাশ হস্তান্তর করে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় আমাদের জানামতে একজন ব্যক্তিই নিখোঁজ ছিল। সে হিসেবে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার ও ট্রলার শনাক্ত করার পর উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করা হলো। পরে বিআইডব্লিউটিএ ট্রলারটি উদ্ধার করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, ডুবে যাওয়া ট্রলারে থাকা বালু ও কয়লা টানা লেবার সরদার বশিরের দেয়া তথ্যমতে শুধু একজন নিখোঁজ ছিলেন। ট্রলার ডুবে যাওয়ার পর লেবাররা সাঁতরিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে। তবে ট্রলারে লেবার ছাড়াও সাধারণ যাত্রী ছিল কি না সে তথ্য নেয়া হচ্ছে। নিখোঁজদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে এলে সঠিক তথ্য জানা যাবে।

জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জের জাজিরার কুইচ্ছামারা এলাকায় বালু টানা কাজ শেষ করে ট্রলারযোগে নারীসহ প্রায় ৫০ জন লেবার ফতুল্লার পাগলায় যাওয়ার পথে ঢাকা থেকে আসা ‘তাকওয়া পরিবহন’ নামে একটি খালি বাল্কহেড ওই ট্রলারের উপর উঠে যায়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা কিছু যাত্রী লাফিয়ে বাল্কহেডে ওঠেন এবং কিছু লোক সাঁতরে তীরে ওঠেন।


আরো সংবাদ




bedava internet