২৭ জুন ২০১৯

দুলাভাইয়ের চাপাতির কোপে শ্যালক খুন, শাশুড়ি ও স্ত্রী আহত

দুলাভাইয়ের চাপাতির কোপে শ্যালক খুন, শাশুড়ি ও স্ত্রী আহত - প্রতীকী ছবি

দুলাভাইয়ের চাপাতির কোপে এক দাখিল পরীক্ষার্থী শ্যালক নিহত হয়েছে। এসময় ওই শ্যালককে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে নিজের শাশুড়ি ও স্ত্রীকেও কুপিয়ে আহত করে ঘাতক দুলাভাই। ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জোলারপাড় এলাকায়। অভিযুক্ত ঘাতক দুলাভাইয়ের নাম মুসা আলম (৪৫)।

দুলাভাই মুসার হাতে নিহত শ্যালকের নাম আশিকুর রহমান (১৮)। সে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জোলারপাড় এলাকার আল আমিনের ছেলে। নিহত আশিকুর রহমান চলতি বছর স্থানীয় পোড়াবাড়ী সাবেরিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

র‌্যাব-১’র স্পেশালাইজড কোম্পানী পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের এএসআই আবু তালেব জানান, গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লার চর এলাকার জাবেদ আলমের ছেলে মুসার সঙ্গে প্রায় ৬ বছর আগে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের জোলারপাড় এলাকার আল আমিনের মেয়ে আঞ্জুমানয়ারা বেগমের বিয়ে হয়। আঞ্জুমানয়ারা বেগম ঘাতক মুসা আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী।

বিয়ের পর আঞ্জুমানয়ারা ও মুসা দম্পতি গাজীপুর উত্তর সালনা এলাকায় রাজিয়া খাতুনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। আঞ্জুমানয়ারা স্থানীয় প্রীতি গ্রুপের ডটকম সোয়েটার কারখানায় চাকরি করেন এবং স্বামী মুসা কাঁচামালের ব্যবসা করেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।

এএসআই আবু তালেব আরো বলেন, মুসা প্রতিমাসেই তার কাছে স্ত্রীর বেতনের পুরো টাকা দাবি করতো। কিন্তু আঞ্জুমানয়ারা এতে রাজী না হলে মঙ্গলবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মুসা তার স্ত্রীকে মারধর করলে আঞ্জুমানয়ারা তার মা-ভাইকে খবর দেন। খবর পেয়ে মুসার শাশুড়ি আসমা বেগম ও শ্যালক আশিকুর রহমান ওই বাড়িতে যায়।

পরে মা ও ভাই আঞ্জুমানয়ারাকে সঙ্গে নিয়ে রাতে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে তারা দক্ষিণ সালনা পূর্বপাড়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ মুসা পেছন থেকে আশিকের ঘাড়ে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। এতে আশিক আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় আশিককে বাঁচাতে তার শাশুড়ি ও স্ত্রী এগিয়ে গেলে মুসা তাদেরকেও কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে গুরুতর আহত আশিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাজীপুর মহানগর সদর থানার ওসি সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরো পড়ুন : শ্যালক হত্যাকারী দুলাভাই র‌্যাবের হাতে আটক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা, (০৭ মার্চ ২০১৯)

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাঞ্চল্যকর শ্যালক হত্যাকারী দুলাভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিশোর ইমন (শ্যালক) হত্যা মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলামকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে আটক করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক লে: কর্নেল মোহাম্মদ এখতেকার উদ্দিন এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ২ মার্চ জেলার নবীনগর থানার বড়িকান্দি ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণ বাড়ি এলাকার ধানি জমির খাল থেকে ইমন (১৩) নামের এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উপস্থিত সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দাম্পত্য কলহের জের ধরে ইমনের আপন ভগ্নীপতি রফিকুল পরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পরবর্তীতে ০২ মার্চ রাতে রফিকুলকে প্রধান আসামি করে নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ০২। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত রফিকুল আত্মগোপনে চলে যায়। এই ঘটনার পর থেকে হত্যাকারীর ওপর র‌্যাবের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়।

এরই প্রেক্ষিতে ভৈরব র‌্যাব ক্যাম্পের আভিযানিক দল উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে অভিযুক্ত রফিকুলের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সানারপাড় এলাকা থেকে হত্যা মামলার আসামি রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়।

রফিকুলের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, ভিকটিম ইমন এর বড় বোন মনিরা বেগমের সাথে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আসামি রফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে অভিযুক্ত রফিকুল মনিরার উপর বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে।

অভিযুক্ত রফিকুলের নামে বিভিন্ন থানায় কয়েকটি মামলা থাকার কারণে গত ৩/৪ মাস পূর্বে মনিরা তার বাবার বাড়িতে চলে আসে। এরই জের ধরে স্ত্রীর উপর প্রতিশোধ নেয়ার জন্য পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্ত্রীর আপন ছোট ভাই ইমনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে।


আরো সংবাদ

জিনের বাদশা হাতিয়ে নিল ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও সাড়ে ৩ লাখ টাকা! সরকারি কর্মকর্তাদের আবারো পেটানোর হুমকি সেই এমপির কোহলি-গেইল লড়াইয়ের ফলাফল কী হবে? যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জোট গড়ছে রাশিয়া-ভারত-চীন! বিপজ্জনক পরিণতির দিকে মার্কিন-ইরান উত্তেজনা   ৯২ বিশ্বকাপের অবাক করা পুনরাবৃত্তি : ইতিহাসে উদ্দীপ্ত পাকিস্তান হোটেলে রাতে কেঁদে ফেললেন সরফরাজের স্ত্রী ভারতের বিপক্ষে চাপ নিতে চান না মিরাজ স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা : বীভৎসতায় বিমূঢ় সামাজিক মাধ্যম আগামীতে মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ : এলজিআরডি মন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে শক্তিশালী করলেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব

সকল