১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

শরীয়তপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে কুপিয়ে জখম

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাকির মাল - নয়া দিগন্ত

শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) নির্বাচনী এলাকার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরণের সমর্থক ও সখিপুরের দক্ষিন তারাবুনিয়ার ৮ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জাকির মালকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পুরো নির্বাচনী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কুপিয়ে জখম করার পর স্থানীয় লোকজন জাকিরকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনার পর সখিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

হামলায় আহত জাকিরের ছোট ভাই আল আমিন ও সখিপুর থানা সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ও কিরণনগর এলাকার আবুল কাশেম মালের ছেলে জাকির মাল (২৩) কিরণনগর বাজারে ফয়সাল মালের স্বর্ণের দোকানে চাকরি করে।

গতকাল ৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কে বা কাহারা জাকিরের মোবাইলে ফোন করে পার্শ্ববর্তী মাল বাজারে যেতে বলে। জাকির তার ছোট ভাই আল আমিনকে দোকানে রেখে মাল বাজারে যায়। এরপর দুর্বৃত্তরা জাকিরকে মাল বাজারের উত্তর পাশে নদীর পাড়ে নিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ফেলে রেখে যায়।

আজ শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে জ্ঞান ফিরলে জাকির রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরার চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন দেখে তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার উপর হামলার ঘটনায় শরীয়তপুর-২ নির্বাচনী এলাকার সখিপুর থানায় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত হামলার ঘটনায় সখিপুর থানায় কোনো মামলা হয়নি। খবর পেয়ে সখিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

আহত জাকিরের চাচা হাবিবুল্লাহ মাল বলেন, আমরা স্থানীয় বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। গতকাল সন্ধ্যার পর কিরণনগর বাজার থেকে কে বা কাহারা জাকিরকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ফেলে রেখে যায়। জাকির বর্তমানে চাঁদপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা নুরুদ্দিন দর্জী বলেন, জাকির দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক। আমরা ধারণা করছি প্রতিপক্ষের প্রার্থীর লোকজন আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। এ ঘটনার পর বিএনপি প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সখিপুর থানার ওসি মোঃ এনামুল হক বলেন, হামলার ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আহত জাকিরের পরিবারের সাথে কথা বলেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আরো সংবাদ