২৯ জানুয়ারি ২০২০

নড়িয়ায় অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা

প্রতীকি ছবি - সংগৃহীত

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নড়িয়ার রাজনগরে যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার সাক্ষীর ছেলে ও অষ্টম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে প্রতিপক্ষের লোকজন রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার, সহপাঠী ও স্বজনসহ এলাকার মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসছে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অবশ্য সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম নাহিদ। সে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের মালত কান্দি গ্রামের ভ্যানচালক আলী হোসেন মীর মালতের ছেলে এবং স্থানীয় মহিষখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র।
নিহত নাহিদ মাঝে মধ্যে ভ্যান চালিয়ে বাবাকে সহযোগিতা করতো বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

নড়িয়া থানা, নিহত নাহিদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন গাজী ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আলীউজ্জামান মীর মালতের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।

এ বিরোধের জের ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিকবার হামলা মামলা ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাবেক চেয়ারম্যান আলীউজ্জামান মীর মালতের সমর্থক ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন মাইকেল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। বর্তমানে মামলাটি সিআইডিতে তদন্তাধীন আছে।

ঐ মামলার সাক্ষী আলী হোসেন মীর মালত গত কয়েক দিন আগে সি আই ডির কাছে সাক্ষ্য প্রদান করে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সাক্ষ্য দেয়ার জের ধরে নাহিদকে হত্যা করা হয়।

জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় সাক্ষী আলী হোসেন মীর মালতের ছেলে মোঃ নাহিদ মীর মালত(১৫) মহিষখোলা স্কুল মাঠে বসা ছিল। হটাৎ করে ১৫/২০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নাহিদের উপর হামলা করে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় দুটি গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রাজনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যন আলী উজ্জমান মীর মালত বলেন, যুবলীগ নেতা মাইকেল খুনের ঘটনায় আলী হোসেন মীর মালত সি আই ডি তে সাক্ষ্য দেয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।

রাজনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেন গাজী বলেন, আমার কোন লোকজন ঐ বাজারে যায় না। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। পূর্ব শত্রুতার কারণে আমাদের উপর মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। মাইকেল খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাহিদকে মারপিট করা হয়নি। সন্ধ্যার পরে প্রতিদিন যুবকরা মহিষখোলা মাঠে আড্ডা দেয়। তাদের মধ্যকার কোন বিরোধকে কেদ্র করে মারামারি হতে পারে। তবে কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমার জানা নেই এবং ঘটনাস্থল রাজনগর ইউনিয়নে নয় এটি মোক্তারের চর ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে।

নড়িয়া থানার ওসি মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, সন্ধ্যার পরে নাহিদসহ ২/৩ জন যুবক মহিষখোলা বাজারে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। হঠাৎ করে কয়েকজন লোক এসে নাহিদের উপর হামলা করে মারাত্মক আহত করে। পরে সে হাসপাতালে মারা যায়।


আরো সংবাদ