১৫ অক্টোবর ২০১৮

‘এই নির্বাচন কোনো মানুষ করে? তারপরও আমারই দাঁড়াতে হবে’

এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। - সংগৃহীত

এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, নির্বাচনের আর দুই মাসও নাই। ডিসেম্বরের শেষ অথবা জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমাদের আবারও নির্বাচিত হতে হবে।

আজ শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নির্মিতব্য নতুন ভবনের নাম ফলক উম্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন একথা বলেন। এর আগে তিনি ফরিদপুর প্রেসক্লাবের নির্মিতব্য নতুন ভবনের নাম ফলক উম্মোচন ও দোয়া করেন।

এলজিআরডি মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, আমার আর নির্বাচন করার ইচ্ছে ছিলো না। এই নির্বাচন কোন মানুষ করে? নির্বাচনে দাঁড়ালে এমন একটা অবস্থা হয় যেনো আমি সবার কাছে ঠেকা! সবার কাছে হাত ধরে অনুরোধ করি কেউ যেনো নির্বাচনে না আসেন। আবার নির্বাচনে না আসলে তো এমপি মন্ত্রীও হওয়া যায় না। এমপি মন্ত্রী না হলেতো এভাবে কাজ করতে পারতাম না।

মন্ত্রী বলেন, এবারও ফরিদপুরে এই নির্বাচন আমারই করতে হবে। এখানে অন্য কাউকে দেখছি না প্রার্থী হওয়ার মতো। ফরিদপুরের যদি কোন উন্নয়ন হয় তা আমার মতো এই অধমের হাত ধরেই হয়েছে। এখন অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য আবার এমপি হতে চাই।

একটা সময় ফরিদপুরে সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ছিলো কিন্তু এখন আর নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আপনারা কি আবার সেই সন্ত্রাস চান? যদি চান তবে আমরাও দেখাতে পারি। এই সাংবাদিকদের দিয়েই দেখাতে পারি। ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সুনাম ঢাকাতেও রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার সাংবাদেকিরা সবসময় সত্য পথেই চলছেন।

ইঞ্জিনিয়ার খন্তকার মোশাররফ হোসেন জনৈক সাংবাদিকের কর্মকাণ্ডে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাড়িতে এসে ওই সাংবাদিক আমার কাছে একটি বিজ্ঞাপন চেয়েছিলো। কিন্তু আমি কোথা থেকে বিজ্ঞাপন দেবো বলায় তিনি এখন আমার উপর ভিষণ ক্ষেপে গেছেন! শুধু আমার উপরেই না; আমার জ্ঞাতি গোষ্ঠি, ছেলেমেয়ে এমনকি ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতির বিরুদ্ধেও নানান কথা লিখছে। কোথাও তিনি হামলার শিকার হলে তার জন্য নাকি আমি দায়ী হবো বলে পোষ্ট দিচ্ছেন। বিষয়টি আলোচনার মধ্যে আসা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু বিরোধিতার স্বার্থেই বিরোধিতা না বরং আমাদের দোষত্রুটি শুধরে দিতে সমালোচনা করুন।

ফরিদপুরে প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া। এসময় ফরিদপুরের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। দর্শকদের সারিতে ফরিদপুরের পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু, রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন সহ সরকারী কর্মকর্তা, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। ফরিদপুর জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার সংবাকর্মীরা অনুষ্ঠানে সমবেত হন।


আরো সংবাদ