১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলার আসামীদের গায়ে কয়েদীর পোশাক

২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলার আসামীদের গায়ে কয়েদীর পোশাক। - সংগৃহীত

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রায়ের কপি আদালত থেকে কারাগারে পৌছেছে। কাশিমপুর কারাগারে বন্দি ওই মামলায় দন্ডপ্রাপ্তদের বৃহস্পতিবার কয়েদি পোশাক পরানো হয়েছে। এসময় তাদের চিন্তিত ও বিমর্ষ অবস্থায় দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ ও ২ এর (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় বুধবার সকালে ঘোষণার পর ওই রায়ের কপি রাত সাড়ে সাতটার দিকে তা কাশিমপুর কারাগারে এসে পৌছায়। পরে কারাবিধি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ভোরে তাদের কয়েদি পোশাক পরানো হয়। বন্দিদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ বন্দি রয়েছেন। তিনি ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি থাকায় আগেই কয়েদির পোশাকে ছিলেন।

তিনি আরও জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ আছেন সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৩ আসামি। এর মধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৩জন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৩ জন ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ৭জন আসামি। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় (গ্রেনেড হামলার মালার রায়ে) এবার প্রথম পিন্টুর নাম যোগ হল। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের পৃথকভাবে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের সকলকেই ভোরে কয়েদি পোশাক পরানো হয়েছে।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান জানান, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় এই কারাগারে মোট ১৭জন বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ১৩জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ৪জন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত। তাদের সকলকে বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েদি পোশাক পড়ানো হয়েছে। এ কারাগারে দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের বিশেষ নজরদারিদের রাখা হয়েছে।

 

আরো দেখুন : আদালত থেকে কারাগারে বাবর-পিন্টুরা
মোহাম্মদ আলী ঝিলন (গাজীপুর সংবাদদাতা), ১০ অক্টোবর ২০১৮, ২২:০৮

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর দন্ডপ্রাপ্ত ৩১ আসামিকে আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছে। আদালত থেকে আসামিরা পুলিশের কড়া প্রহরায় বুধবার বিকেল ৩টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে পৌঁছে। এসময় লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টুদের অনেককেই বেশ বিমর্ষ দেখা গেছে। এদিন ওই মামলার রায় ঘোষণা উপলক্ষে তাদেরকে কাশিমপুরের তিনটি কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকালে আদালতে পাঠানো হয়।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ১ ও ২ (ভারপ্রাপ্ত)-এর সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, আদালত থেকে বিকেল তিনটার দিকে দন্ডপ্রাপ্তরা কারাগারে ফিরে আসে। এসময় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎপুজ্জামান বাবর ও শিক্ষ উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ দন্ডপ্রাপ্তদের অনেককেই বেশ বিমর্ষ দেখা গেছে। কয়েকজনের চোখে জল ছিল। তবে আদালতের রায়ের কপি কারাগারে এসে পৌঁছালে কারাবিধি মোতাবেক ফাঁসি ও যাবজ্জীবনসহ দন্ডপ্রাাপ্তদের কয়েদি পোশাক পরানো হবে এবং ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তদের কনডেম সেলে রাখা হবে।


তিনি আরো বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় আগে থেকেই তিনি কয়েদি পোশাকে কারাগারে আছেন। তিনি কারাগারে ফাঁসির কনডেম সেলেই থাকেন।

দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ বন্দি রয়েছেন। এছাড়া বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা আরিফ হাসান সুমন ও মাওলানা আব্দুর রউফ, পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা ও শহিদুল হক, অতিরিক্ত আইজি খোদা বকস, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সিআইডির সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমীন, এএসপি আব্দুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমান, ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা আরিফুর রহামান আরিফ, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এ বন্দি রয়েছেন। রায়ের কপি কারাগারে আসলে কারাবিধি মোতাবেক তাদেরকেও কয়েদি পোশাক পরানো হবে।

কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার বিকাশ রায়হান বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলার দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৭ আসামি এই কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সকালে তাদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকায় আদালতে পাঠানো হয়। তারাও বিকেলে কারাগারে ফিরে এসেছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়িত থাকার দায়ে ওই সময়ের বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত।

একইসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে দন্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন আরও ১১ আসামি। বুধবার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।


আরো সংবাদ