১৬ নভেম্বর ২০১৮

মৃত মেয়েকে দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যু

দুর্ঘটনা
দুর্ঘটনায় মৃত মেয়েকে দেখতে যাওয়ার পথে আরেক দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যু - নয়া দিগন্ত

রাজবাড়ীতে রাইস কুকারের তারে জড়িয়ে মেয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে তাকে দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনা মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত তার ছেলে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

বালিয়াকান্দি হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা: জুয়েল রানা জানান, পাংশার মোক্তার হোসেন মুকুলের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী কামরুন নাহার (৪৫) সোমবার সকালে রাইস কুকারের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান। এ খবর শুনে কামরুন নাহারের মা ও ভাই বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণবাড়ী (শীতলদাহ) গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য আ: কাদের মিয়ার স্ত্রী রওশনারা বেগম (৬৫) ও ছেলে বালিয়াকান্দি বাজারের ব্যবসায়ী রাশেদ মিয়া (৩০) মোটরসাইকেলযোগে পাংশা যাচ্ছিলেন।

যাওয়ার পথে কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নের মাজবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে একটি অটোবাইককে ক্রস করে যাওয়ার সময় সামনে থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মা-ছেলে দু’জনই মারাত্মক আহত হন।

তাদেরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন মা ও ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে রওশনারা বেগম মারা যায়। রাশেদ মিয়া ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যুর মুখোমুখি অবস্থায় আছেন।

রওশনারা বেগমের লাশ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়েছে। মা ও মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরো পড়ুন :
ঈদের ছুটিতে সড়কে ঝরে গেল ৩২ প্রাণ
নয়া দিগন্ত ডেস্ক, ২৫ আগস্ট ২০১৮
ঈদের ছুটিতে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনাগুলোয় ৪৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফেনীতে ছয় অটোরিকশা আরোহী এবং দুই জায়গায় মা ও মেয়ে নিহতের ঘটনাও রয়েছে।

ফেনী সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী বাইপাস অংশের লেমুয়া বাজারসংলগ্ন ভাঙ্গার তাকিয়া নামক স্থানে যাত্রীবাহী শ্যামলী বাসের চাপায় সিএনজি অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে দুই নারী ও চার পুরুষসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনায় আরো দুইজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, শ্যামলী পরিবহনের একটি চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের ফেনীর লেমুয়া বাজারসংলগ্ন ভাঙ্গার তাকিয়া নামক স্থানে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা পেছনে ঘুরতে গেলে পেছন থেকে আসা বাসটি চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই নারী, চার পুরুষসহ ছয়জন নিহত হন। নিহতরা হলেন- সিএনজি অটোরিকশা চালক ফেনী শহরের মধুপুর গ্রামের মৃত আবদুল জাব্বারের ছেলে রুহুল আমিন, যাত্রী শাহাদাত হোসেন, বেলাল হোসেন, নাসির উদ্দিন, সালমা আক্তার, নাসিমা আক্তারের নাম জানা গেছে। তারা সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর গ্রামের রঘুনাথপুর গ্রামের নতুন বাড়ির বাসিন্দা। সিএনজিযোগে ফেনী থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় নিহতদের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঘাতক বাসটি জব্দ করতে পারলেও চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ফেনীর পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার দুর্ঘটনার ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের আরএমও ডা: নাজমুল হাসান জানান, আহত দুজনকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজ্জামান ও সিভিল সার্জন ডা: হাসান শাহরিয়ার কবির হাসপাতালে যান। তিনি নিহতদের প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার ও আহতদের প্রত্যেকের পাঁচ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।

কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে পৃথক ৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও মেয়েসহ চারজন নিহত ও কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জেলার ময়নামতি নাজিরাবাজার এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় অজ্ঞাত গাড়িচাপায় ফারজানা আক্তার (৩২) ও তার মেয়ে আসফিয়া আমজাদ (১১) ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহত গৃহবধূ ফারজানা আক্তার জেলার বুড়িচং উপজেলার উদয়নবাগ গ্রামের আশরাফুজ্জামানের স্ত্রী। এ দিকে একই দিন রাত ৮টার দিকে জেলার লাকসাম উপজেলার বিজড়া এলাকায় বাসচাপায় আল আমিন (২৮) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হন। নিহত আল আমিন লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর এলাকার বাসিন্দা। অন্য দিকে ঈদের পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার গাজীপুর এলাকায় বাস উল্টে সড়কের পাশে খাদে পড়ে মো: রুবেল (২৪) নামে একজন নিহত হন। নিহত রুবেল চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা।

বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ার শাজাহানপুর ও শেরপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি নিজাম উদ্দিন জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া বাজারের কাছে ঢাকা থেকে রংপুরগামী একটি যাত্রীবাহী কোচ বিপরীতমুখী একটি সিএনজিচালিত টেম্পোকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। আহত তিনজনকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন আরো দু’জন মারা যান। নিহতরা হলেন শাজাহানপুর উপজেলার সামছুল হকের ছেলে সিএনজিচালক শফিকুল ইসলাম (৪২), একই উপজেলার কাটাবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুসের ছেলে আলিম উদ্দিন (৭০) এবং একই গ্রামের বাচ্চু প্রামাণিকের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা (৬০)।

অন্য দিকে জেলার শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মোটরসাইকেলে দুই যুবক সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা থেকে শেরপুর আসছিলেন। পথে শেরপুর-ধুনট-বোয়ালকান্দি আঞ্চলিক সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবকের মৃত্যু হয়। তারা হলেন সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে শামিম রেজা (২৮) এবং একই এলাকার মৃত জয়নাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৭)।

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা ও ঝাঐলে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন গরুর বেপারি নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঈদের দিন বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়কের ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় এবং সকালে হাঁটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের সলঙ্গা থানার চড়িয়া কামারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি হলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাতিয়ারপাড়া গ্রামের শমসের আলীর ছেলে মনসুর আলী (৪০)।

সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবদুল হামিদ ও পুলিশ জানায়, দুপুরে ঢাকা থেকে গরুর বেপারিদের নিয়ে একটি ট্রাক সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যাচ্ছিল। ট্রাকটি ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে ট্রাকটি মহাসড়কে উল্টে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে অজ্ঞাত আরো এক গরুর বেপারির মৃত্যু হয়।

অন্য দিকে হাঁটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে সলঙ্গার চড়িয়া কামারপাড়া এলাকায় ট্রাক মাইক্রো বাসকে ধাক্কা দিলে মাইক্রো বাস চালকসহ ট্রাকের ছয় যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাঁটিকুমরুল গোলচত্বরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেয়ার পথে অজ্ঞাত এক গরুর বেপারির মৃত্যু হয়।

নওগাঁ সংবাদদাতা জানান, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার খোর্দ্দনারায়ণপুর ব্রিজ নামক স্থানে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী মা, মেয়ে ও মেয়ে জামাই নিহত হয়েছেন। নিহত তিনজনের মধ্যে মেয়ে চিকিৎসক ও মেয়ে জামাই ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন বলে জানা গেছে।

নওহাটা মোড় পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই মামুনুর রশিদ বলেন, রাজশাহীতে বসবাসকারী নওগাঁর পোরশা উপজেলার ঘাটনগর গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার সুমন (৩৭) তার নানা শ্বশুরের বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুরে ঈদ পালনের উদ্দেশে মোটরসাইকেলে তার স্ত্রী ইভা (২৬) এবং এবং শাশুড়ি রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়া পুকুর গ্রামের ইউছুপ আলীর স্ত্রী রুবিনা পারভীন পারুলকে নিয়ে গত মঙ্গলবার রাজশাহী থেকে নওগাঁর মহাদেবপুর রওনা দেন। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের মহাদেবপুর উপজেলার নওহাটা মোড় পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার পাশে খোর্দ্দনারায়ণপুর ব্রিজে নওগাঁ থেকে রাজশাহীমুখী দ্রুতগামী একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তিনজনই দুর্ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঈদের নামাজের পর রুবিনা পারভীন পারুলকে তার পিতার বাড়ি মহাদেবপুরে এবং স্বামী ও স্ত্রী সুমন ও ইভাকে পোরশা উপজেলার ঘাটনগর গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মুকসুদপুর-গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মকসুদপুরের টেকেরহাট-ফরিদপুর মহাসড়কে গত মঙ্গলবার বাস দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছে। বাসটি ফরিদপুর থেকে যাত্রী নিয়ে টেকেরহাট বন্দরে যাচ্ছিলেন। নিহতরা হলেন রোজিনা বেগম (২৫), অজ্ঞাত পুরুষ (৬০) ও অজ্ঞাত মহিলা (৩০)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বাসটি ফরিদপুর থেকে যাত্রী নিয়ে টেকেরহাট বন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পথিমধ্যে ১৪ নম্বর ব্রিজের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে সম্মুখভাগ দুমড়েমুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত ও কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। মুকসুদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল পাশা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়ায় ট্রাক ও মাহেন্দ্র সংঘর্ষে শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছে। বুধবার ঈদের দিন দুপুরে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বটতৈল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সাহাবুল (১২), চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার শিপন (২৮) এবং অপরজনের নাম জানা যায়নি।

প্রত্যদর্শীরা জানান, দুপুরে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বটতৈল এলাকায় কুষ্টিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী মাহেন্দ্রকে একটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মাহেন্দ্র যাত্রী নিহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়।

পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, বরগুনার পাথরঘাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা নারী রোকন মোসা: শাহানা পারভীন মায়া (৪২) নিহত হয়েছেন। গত মলবার সকালে মঠবাড়িয়া মেডিক্যালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

শাহানা পারভীন মায়া উপজেলার নাচনাপাড়া গ্রামের মো: জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী ও জামায়াতের পাথরঘাটা উপজেলা নারী রোকন।
মায়া বেগমের ভাইয়ের ছেলে মো: হাসিব তালুকদার জানান, আজ সকালে পাথরঘাটা পৌরশহরের ভাড়া বাসা থেকে তার ছেলে সাইফুলের সাথে মোটরসাইকেলে নিজ গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে মাছেরখাল এলাকায় ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে মায়া বেগমের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগে। সাথে সাথে স্থানীয়রা পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঠবাড়িয়া পাঠান। সেখানে নেয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাসুদুল আলম, সাধারণ সম্পাদক শামিম আহসান বরগুনা জেলা ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা ও সাহিত্য সম্পাদক এমএইচ মার্তুজা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহের চুরখাই ও ফুলপুর উপজেলার সাহাপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পথচারী নিহত হয়েছে। ফুলপুর থানা ওসি এ কে এম মাহবুবুল আলম জানান, গতকাল সকালে ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়কের ফুলপুর উপজেলার সাহাপুরে বাসচাপায় শামসুল আলম (৬৫) নামে এক পথচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সদর উপজেলার চুরখাইয়ে পিকআপভ্যানের চাপায় কালু মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন। দুর্ঘটনার পর প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, মিরসরাইয়ে বাসচাপায় একজন নিহত হয়েছে। নিহতের নাম শহীদুল ইসলাম (৪০)। গত বুধবার রাত ১১টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরারগঞ্জ থানা থেকে ১০০ গজ দূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শহীদ বারইয়ারহাট পৌরসভার জামালপুর গ্রামের কমর আলী মিয়াজি বাড়ির ওবাদুল হকের ছেলে।

জোরারগঞ্জ থানার এস আই দীনেশ চন্দ্র দাশ গুপ্ত জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বারইয়াহাট বাজারে শহীদুলকে একটি যাত্রীবাহী বাস চাপা দেয়। পরে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী-মাইজদী সড়কের গ্লোব বিস্কুট ফ্যাক্টরির সামনে গতকাল ট্রাকচাপায় মাকসুদা আক্তার মুক্তা (২৭) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহত মাকসুদা আক্তার মুক্তা জেলার সদর উপজেলার সোনাপুরের কাঠপট্টি এলাকার আমিনুল হক মন্নানের মেয়ে। স্থানীয়রা জানান, মাইজদী থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাকসুদাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন স্থানীয়রা।


আরো সংবাদ