১৫ নভেম্বর ২০১৮

মুন্সীগঞ্জে ব্লগার বাচ্চু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ ২ জন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

-

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ব্লগার, মুক্তমনা লেখক, প্রকাশক ও সাংবাদিক শাহজাহান বাচ্চু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই জেএমবি সদস্য পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এসময় তিন পুলিশও আহত হয়।

আজ শুক্রবার ভোর ২টায় শ্রীনগরের ষোলঘর ইউনিয়নের সাতগাঁও কে সি রোডে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার লৌক্ষা গ্রামের মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে মো: শামীম ওরফে কাকা ওরফে বোমা শামীম (৪০), এবং জামালপুর সদর থানার খামার পাড়া গ্রামের মো: গিয়াস উদ্দিনের ছেলে এখলাছুর রহমান ওরফে এখলাছ (৩২)।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এএসআই মাসুদুর রহমান, এএসআই ইলিয়াস ও কনস্টেবল তানিম। তিনজনই মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পারা যায়, কয়েকজন জঙ্গী সদস্য শ্রীনগর থানা এলাকা দিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করবে। উক্ত সংবাদ পেয়ে শ্রীনগর থাকা পুলিশ দুষ্কৃতিকারীদের ধরার জন্য শ্রীনগর থানাধীন কেসি রোড, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ পূর্বে পাকা রাস্তায় এবং কালী কিশোর স্কুল রোড, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসায়।

শুক্রবার ভোর রাত ২টার সময় দু’টি মোটরসাইকেলযোগে চারজন মোটরসাইকেল আরোহীকে কেসি রোডস্থ চেকপোস্টের দিকে আসতে দেখে থামানোর সংকেত দেয়া হয়। প্রথম মোটরসাইকেল আরোহীরা পুলিশের চেকপোস্টের উপর ককটেল ছুড়ে এবং গুলিবর্ষণ করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গুলি বিনিময় শেষে ঘটনাস্থলে দু’জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিক আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করে।

এ ঘটনায় পুলিশের এএসআই (নি:) মাসুদ, এএসআই (নি:) ইলিয়াস ও কং/৪০৪ তানিম আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যদেরকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে।

অপর মোটরসাইকেলসহ আরোহীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় একটি বিদেশী ৭.৬৫ পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, তিন রাউন্ড গুলি, ১১টি তাজা ককটেল, দুইটি ছোড়া, একটি রেজি: বিহীন কালো পালসার (রেঞ্জার) মোটর সাইকেল। গোলাগুলির সময় পুলিশ পাঁচ রাউন্ড চাইনিজ গুলি, পিস্তলের ১৬ রাউন্ড গুলি, শটগানের ৩৭ রাউন্ড গুলি করেছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রীনগর-লৌহজং সার্কেল কাজী মাকসুদা লিমা, গজারিয়া-সদর সার্কেল খন্দকার আশফাকুজ্জামান, ডিআই ওয়ান নজরুল ইসলাম, শ্রীনগর থানার ওসি মো: ইউনুচ আলী প্রমুখ।

প্রেস ব্রিফিং জানানো হয়, সিরাজদিখান থানায় পুলিশের সাথে গুলি বিনিময়ে নিহত জঙ্গী মো: আব্দুর রহমানের দেয়া বর্ণনা এবং ক্রাইম রেকর্ড পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় নিহতদের মধ্যে একজন মুক্তমনা লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু হত্যা মামলার আসামি ও মূল পরিকল্পনাকারী মো: শামীম ওরফে কাকা ওরফে বোমা শামীম। তিনি ঘটনারস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো হত্যাকান্ডটি পরিচালনা করেন। তার বিরুদ্ধে বাচ্চু হত্যা মামলাসহ ৫টি ডাকাতি মামলা রয়েছে। নিহত অপরজন এখলাছুর রহমান ওরফে এখলাছও শাহজাহান বাচ্চু হত্যা মামলায় জড়িত ছিলেন। তিনি বালুর চরে নিজেই বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করেছে এবং সকল আগ্নেয়াস্ত্র বিভিন্ন স্থান থেকে ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন। হত্যাকান্ডের পরে তিনি নিজেই অস্ত্রগুলো গাজীপুরে নিহত রহমানের নিকট নিরাপদে পৌঁছে দেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানের পূর্ব কাকালদী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন শাহজাহান বাচ্চু (৬০)। দু'টি মোটরসাইকেলে এসে তাকে গুলি করার পর দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তিনি বিশাখা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুক্তচিন্তার লেখক বাচ্চু লেখালেখি করতেন বিভিন্ন ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।


আরো সংবাদ