১৭ আগস্ট ২০১৯

কুড়িগ্রাম-৩ উপ-নির্বাচনে লাঙ্গল জয়ী

-

কুড়িগ্রাম-৩ আসনে (উলিপুর) প্রায় ৩ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির ডা. আক্কাছ আলী সরকার ৮২ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের অধ্যাপক এম এ মতিন নৌকা প্রতীকে ৭৯ হাজার ৮শত ৯৫ ভোট পেয়েছেন।  নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুম থেকে খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতীয় পার্টি ২ হাজার ৭০৩ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছে।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা উপ-নির্বাচনে তাদের প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই উপ-নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় মহাজোটের অধীন না থেকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি পৃথকভাবে নির্বাচনে প্র‌তিদ্ব‌ন্দ্বিতা কর‌ছে। ১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় পা‌র্টি আসন‌টি ধরে রাখলেও আওয়ামী লীগ আসন‌টি পুনরুদ্ধার কর‌তে বদ্ধপ‌রিকর ছিল। ফ‌লে দল দু‌টির ম‌ধ্যে লড়াইটাও বেশ ভালই জমেছে।

গত ১১ মে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এ কে এম মাইদুল ইসলামের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। গত ১০ জুন নির্বাচন কমিশন এ আসনের উপ-নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে। আসনটিতে উলিপুর ও চিলমারী উপ‌জেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং উ‌লিপুর পৌরসভাসহ মোট ১৫৯টি কে‌ন্দ্রে ভোট অনু‌ষ্ঠিত হ‌চ্ছে।

 

আরো দেখুন: মারমুখী আওয়ামীলীগের তোপের মুখে অসহায় জাপা

কুড়িগ্রাম-৩(উলিপুর-চিলমারী আংশিক) আসনে জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচন । এই নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই শঙ্কার পাহাড় ভর করেছে ভোটার এবং জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের ওপর । ইতোমধ্যেই জাতীয় পার্টির র্প্রার্থীসহ তাদের ৩টি গাড়ি ভাংচুর, অফিস ভাংচুরসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হয়েছে । গ্রেফতার করা হয়েছে নেতাকর্মীদের । মারমুখি আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের তোপের মুখে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এখন নিরুত্তাপ । এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের কর্মী সমর্থকদের এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কড়া হুশিয়ারী করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা । অন্যদিকে সতর্ক অবস্থানে থেকে সুষ্ঠু ভোটের বিষয়ে আশাবাদি আইনশৃংখলাবাহিনী ।

রিটার্নিং কর্মকর্তা রংপুর আঞ্চলিক কমৃকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন নয়া দিগন্তকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । আমরা সেই লক্ষে কাজ করছি । এখানে বার বার ওয়ার্নিং দেয়া হচ্ছে । কেউ যদি কোন অনিয়ম ও বিশৃংখলা তৈরি করতে চায় তাহলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে । তিনি বলেন, আইনশৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট পদস্থ কর্মকর্তাদের এব্যপারে সতর্ক করা হয়েছে । যাতে কোন ধরনের পক্ষপাতমুলক আচরন দৃশ্যমান না হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের সমর্থক ও নেতাকর্মীদেরও সতর্ক করে দেয়া হয়েছে । তারা যেন কোন ধরনের নিয়ম ভঙ্গ না করেন, উচ্ছৃংখল আচরণ না করেন । যা ভোটারদের নির্বিঘ্ন ভোট প্রদানে বাধার সৃষ্টি করে। নির্দেশ না মানলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা ।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই এই নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিটি সাধারন কেন্দ্রে ২২ জন এবং প্রতিটি ঝুকিপূর্ন কেন্দ্রে ২৪ জন করে আনছার ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে । মোতায়েন করা হয়েছে ২৬৩ জন সদস্যের ১৩ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৩৪৬ জন সদস্যের ৩০ টি ভ্রাম্যমান মোবাইল টিম । মাঠে থাকবে ৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর অধীনে ৪ টি ভ্রাম্যমান আদালত । ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ২৫ টি মোবাইল টিম ।

রিটার্নিং কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে আরও বলেন বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন চায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন । তাই তাদের চাওয়া পূরণ করতে আমাদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে । আমরা পর্যাপ্তের চেয়েও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছি। নিরাপত্বার প্রশ্নে আমাদের কোন সংশয় নেই । আমাদের জনবলের কোন কমতি নেই । কেউ ন্যুনতম কোন ঝামেলা করার চেষ্টা করলে ১ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে সেখানে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির মোবাইল টিম এবং ভ্রাম্যমান আদালত হাজির হয়ে যাবে । নির্বাচন নিয়ে কেউ ঝামেলা করতে চাইলে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে । 

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে প্রকাশ, এই উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৫৯ টি ভোট কেন্দ্রের ৭৬৭ টি কক্ষে । অস্থায়ী ভোট কক্ষ ১২১ টি। এরমধ্যে চর এলাকার ১৪ টিসহ অধিক ঝুকিপুর্ন ৫৯ টি কেন্দ্র রয়েছে। এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ডা. আক্কাস আলী সরকার এবং আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক এম এন মতিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোট গ্রহনের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১৫৯ জন প্রিজাইটিং অফিসার, ৭৬৭ সহকারী প্রিজাইটিং অফিসার এবং ১ হাজার ৫৩৪ জন পোলিং অফিসার। এখানে এবার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫ জন । এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৭ জন । মহিলা ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫৫৮ জন। কাল সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হবে ।

শংকায় ভোটাররা: এদিকে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিয়ে ব্যপক শংকা রয়েছে জাতীয় পার্টির প্রাথী এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। গত কয়েকদিনে এখানে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী সমর্থকরা বেপরোয়া আচরণ করে। কিন্তু সেগুলো দমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন তত্পরতা লক্ষ করা যায় নি। উল্টো জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের নামেই মামলা মোকদ্দমা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী ডা. আক্কাস আলী সরকারের অভিযোগ, ভোটের একদিন আগে সোমবার রাতেও উলিপুরে কুড়িগ্রাম জেলা জাতীয় পার্টির সহ সভাপতি এবং রংপুরের বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডলের দলদলিয়া ও থেথতরাই ইউনিয়নের সীমান্তে তেজার মোড়ে গাড়ি ভাংচুর করে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার তবকপুর ইউনিয়নে বিকেল ৩ টায় এজেন্টদের প্রশিক্ষণে আওয়ামীলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এরপরেই রাত ১১ টায় উলিপুরে জাতীয় পার্টির অফিস এবং আমার ব্যবহৃত গাড়ি ভাংচুর করে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা। এরপর আমি একটি গাড়ি ভাড়া নিয়ে কাজ শুরু করি। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টায় আমার কুড়িগ্রামের ভগ্নিপতির বাসায় পুলিশ পাহারায় আসার পর ৩ মিনিটের মাথায় আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা আবারও আমার ওপর হামলা চালায়। এসময় তারা আমার ব্যবহৃত গাড়ীটি ভাংচুর করে এবং নির্বাচনের জন্য উত্তোলন করে রাখা ৫ লাখ টাকা হামলাকারীরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়াও গুনাইগাছ ইউনিয়নে আমার আরও একটি নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত গাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা। যেখানে আমি আমার জীবন কোনমতে বাঁচিয়ে নিরাপদে চলে যেতে সক্ষম হই। আওয়ামীলীগ আমাকে এবং আমার নেতাকর্মীদের কোথাও দাড়াতে দিচ্ছে না। তারা ত্রাসের রাজস্ত কায়েম করছে। তারাই হামলা ভাঙচুর করছে। আর আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মামলা করছে। এ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের ৪ টি মামলা উলিপুর থানায় রেকর্ড করেছে। কিন্তু আমাদের কোন মামলাই থানা গ্রহন করছে না। পুরো পুলিশ এবং প্রশাসন তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে মদদ যোগাচ্ছে ।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী বলেন, শুধু আমার এবং আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েই ক্ষ্যান্ত নয় আওয়ামীলীগ। তারা নিজেরাই জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি এবং তাদের অফিস ভাংচুর করে আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিচ্ছে। বজরা ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটেছে।  শুধু তাই নয় এ পর্যন্ত  উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বুড়াবুড়ি, হাতিয়া, তবকপুর ও বজরা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির কর্মী-সমর্থকদের ৬২ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা ২৩০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আমার নেতাকর্মীরা আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মারমুখি অবস্থানের কারনে মাঠে সব সময় তটস্থ সময় কাটাচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এ ব্যপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তারা শুধু বলছেন নিরপেক্ষতার কথা।

তবে আওয়ামীলীগের প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মতিন নয়া দিগন্তকে জানান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী রংপুর থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে এসে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছেন। আমার অনেক নেতা-কর্মী জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীর মারপিটের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এ ব্যাপারে কয়েকটি মামলা উলিপুর থানায় হয়েছে ।

কড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম জানান, পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং নজরদারির সাথে মাঠে আছে। কেউ নির্বাচনের বিধি ভঙ্গের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। কাউকেই কোন ছাড় দেয়া হবে না।

মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-১৩ রংপুর এই নির্বাচন নিয়ে উলিপুরের চৌড়ঙ্গীর মোড়ে প্রেস ব্রিফিং করে। ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-১৩ রংপুর এর পরিচালক মো.আমিনুল ইসলাম জানান, নির্বাচনকে ঘিরে কেউ কোন ধরনের নাশকতা কিংবা বিশৃংখলা পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইলে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। আমাদের ৩০টি মোবাইল টিম মাঠে সার্বক্ষনিক সতর্ক অবস্থায় কড়া নজরদারিতে থাকবে ।


আরো সংবাদ




bedava internet