২২ জুলাই ২০১৮

পুলিশ ইন্সপেক্টরের আগুনে পোড়া লাশ উদ্ধার

জঙ্গল থেকে উদ্ধারকৃত পুলিশ ইন্সপেক্টরের আগুনে পোড়া লাশ। ছবি - নয়া দিগন্ত।

নিখোঁজের দু’দিন পর পুলিশের (ঢাকা) বিশেষ শাখার এক ইন্সপেক্টরের আগুনে পোড়া বস্তাবন্ধি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা এলাকার রায়েরদিয়া গ্রামের বাঁশঝাড়ের পাশের একটি জঙ্গল থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইন্সপেক্টরের নাম মামুন ইমরান খান (৪০)। তিনি পুলিশের ঢাকা এসবি (বিশেষ শাখা) ট্রেনিং স্কুলে কর্মরত ছিলেন।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা এলাকার রায়েরদিয়া গ্রামের বাঁশঝাড়ের পাশের একটি জঙ্গলে আগুনে পোড়া বস্তাবন্দি অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আগুনে পোড়া লাশটির চেহারা বিকৃত রয়েছে। এদিকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঢাকা থেকে গাজীপুরের ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দু’দিন আগে নিখোঁজ হওয়া পুলিশের ইন্সপেক্টর মামুন ইমরান খানের স্বজনরা। এসময় তারা নিহতের পড়নের প্যান্ট ও কোমরের বেল্ট দেখে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা অন্যস্থানে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করে। তারা বস্তাবন্দি লাশটিকে ওই জঙ্গলে এনে পরিচয় নষ্ট করার জন্য আগুনে পুড়িয়ে পালিয়ে যায়।

এব্যাপারে ঢাকার সবুজবাগ থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস জানান, ইন্সপেক্টর মামুন ইমরান খান পুলিশের ঢাকা এসবি (বিশেষ শাখা) ট্রেনিং স্কুলে কর্মরত ছিলেন। তিনি রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। গত ৮ জুলাই (রবিবার) সন্ধ্যার পর সবুজবাগ এলাকা থেকে নিখোঁজ হন তিনি। এ ব্যাপারে ওই কর্মকর্তার ভাই জাহাঙ্গীর আলম খান সোমবার সবুজবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

 

আরো দেখুন : বালিয়াকান্দিতে প্রকৌশলী হত্যা, আটক ১

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর থেকে এক প্রকৌশলীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই প্রকৌশলীর নাম আমির আলী (৬০)। সোমবার বিকালে লাশ উদ্ধার করা হয়।

তার পিতার নাম মৃত মেছের আলী মল্লিক। বাড়ী উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর গ্রামে। তিনি নারুয়া ইউনিয়ন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এবং বুয়েটের সাবেক প্রকৌশলী। মাদারীপুরে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে কর্মরত ছিলেন।

ওই মামলার সন্দেহভাজন এক আসামীকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার তাকে রাজবাড়ী আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত প্রকৌশলীর চাচাতো ভাই ফরিদ মল্লিক জানান, প্রকৌশলী আমির আলী মাদারীপুরে কর্মরত ছিলেন। শনিবার বাড়িতে আসেন। চাচাতো ভাইদের মধ্যে বিরোধ মিমাংসার জন্য রাতে সালিশ বৈঠকও করেন।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একই বাড়ির আকবর আলী মল্লিকের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের দায়েরকৃত মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতারে রোববার রাত ১২টার দিকে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ অভিযান চালায়।

অভিযানে গঙ্গারামপুর গ্রামের শমসের আলী মল্লিকের ছেলে ইকামত আলী মল্লিক, রবিউল মল্লিক, শরিফুল মল্লিক ও শরিফুল মল্লিকের স্ত্রী সনেকা বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর প্রকৌশলী আমির আলীর রুমে তালাবদ্ধ দেখা যায়।

তাদের ধারণা পুলিশ তাকেও গ্রেফতার করেছে। সোমবার সকালে বালিয়াকান্দি থানায় এসে তাকে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করা হয়। দুপুর ১টার দিকে বাড়ীর অদূরে লুঙ্গি পরনে কাচা দেওয়া অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখে লোকজন খবর দেয়। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

প্রকৌশলী আমির আলীর মুখে ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার দুই মেয়ে রয়েছে। মঙ্গলবার ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস,আই অঙ্কুর কুমার ভট্রাচার্য্য জানান, রাজবাড়ী পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি, সহকারী পুলিশ সুপার ( পাংশা সার্কেল) ফজলুল করিম, বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ হাসিনা বেগম ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন। মঙ্গলবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী মর্গে পাঠানো হয়। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

হত্যার অভিযোগে প্রকৌশলীর ছোট ভাই ফরমান মল্লিক বাদী হয়ে সোমবার রাতে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করে। মামলার সন্দেহভাজন আসামী গঙ্গারামপুর গ্রামের সুলতান মল্লিকের ছেলে আকবর আলীকে গ্রেফতার করে রাজবাড়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে।


আরো সংবাদ