১৭ নভেম্বর ২০১৮

গুনে গুনে টাকা নিয়েও অন্তরকে মেরে ফেললো ওরা!

হত্যা
নিহত অন্তর - ছবি : নয়া দিগন্ত

অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি। ছেলেকে বাঁচাতে অপহরণকারীদের দাবিকৃত সে টাকাও দিয়েছিল পরিবার। অভিযোগ উঠেছিল পুলিশ সে টাকা গুনে গুনে অপহরণকারীদের দিয়েছিল। কিন্তু ছেলেকে মা ফিরে পেলেন ঠিকই, কিন্তু জীবিত নয়- পচা-গলা লাশ।

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের তালমা নাজিম উদ্দিন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আলাউদ্দিন মাতুব্বর অন্তরের (১৪) লাশ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে কোনাগ্রামে চকের মধ্যে আখ ক্ষেতে পুঁতে রাখা অবস্থায় অন্তরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্কুলছাত্র অন্তরকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

নিহত অন্তর তালমার পাগলপাড়া গ্রামের গ্রীস প্রবাসী আবুল হোসেন মাতুব্বরের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো: জাকির হোসেন খান জানান, গত ৭ জুন রাতে তারাবীহ নামাজ পড়তে বাসা হতে বের হলে অপহরণ করা হয় অন্তরকে। অপহরণের পর ওই রাতেই অর্থাৎ ৮ জুন রাতেই গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে অন্তরকে হত্যা করা হয়। পরে পাগলপাড়া গ্রামের রাস্তার পাশে খাদে মাথা নিচ দিকে দিয়ে লম্বা করে পুঁতে রাখে অন্তরকে।

একই গ্রামের মোবারক মাষ্টারের ছেলে খোকন মাতুব্বরের (২৮) সাথে চাচাতো ভাই আনোয়ারের স্ত্রীর পরকীয়া দেখে ফেলায় অন্তরকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ সুপার জানান।

এদিকে, অন্তরকে হত্যার পর খুনিরা অপহৃত অন্তরকে ফেরত দেয়ার কথা বলে অন্তরের পরিবারের নিকট থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। পুলিশের উপস্থিতিতে মুক্তিপণের ওই টাকা খুনিদের হাতে তুলে দেয়ার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এ মামলার তদন্ত নতুন মোড় নেয়।

জানা গেছে, অন্তরের মোবাইল সিমের সূত্র ধরে মঙ্গলবার বিকেলে পাগলপাড়া গ্রামের হাবিব বেপারীর ছেলে আলম বেপারী (২৯) ও তার ভাই জুবায়ের বেপারী (২৪) কে আটক করে পুলিশ। এরপর তাদের ফরিদপুর ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে এনে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা লাশ পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করে। তাদের দেখানো জায়গা থেকেই অন্তরের লাশ উদ্ধার করা হয়।

সূত্র জানায়, অন্তরকে ফেরত দেয়ার নাম করে তার পরিবারের নিকট থেকে আরো টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্য ছিলো আটককৃতদের। মঙ্গলবার বিকেলে অন্তরের এক কাকী আলম ও জুবায়েরদের দোকানে গিয়ে বলে, যদি অন্তরকে ফেরত পেতাম তাহলে ৫ লাখ কেনো ১০ লাখ টাকা হলেও দিতাম। একথা শুনে লোভ জাগে অপহরণকারীদের।

অন্তরের কাকির মুখে এ কথা জেনে মুক্তিপণ চাওয়ার জন্য অন্তরের মোবাইলের বন্ধ সিমটি চালু করে অপহরণকারীরা। আগে থেকেই পুলিশ এব্যাপারে সতর্ক ছিলো। বন্ধ সিমটি চালু দেখতে পেয়ে লোকেশন সনাক্ত করে অপরাধীদের সাথে সাথেই আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তাদের নিকট থেকে অন্তরের ব্যবহৃত সিমটিও উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, আটক আলম এলাকায় বেকার হিসেবে পরিচিত। আর তার ভাই জুবায়ের রাজেন্দ্র কলেজের অনার্সের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র।

নগরকান্দা থানা সূত্রে জানা গেছে, অন্তরকে অপহরণের ঘটনায় তার মা জান্নাতি বেগম ১৬ জনকে আসামি করে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় আলম ও জুবায়েরকে আসামি করা হয়নি। তবে ওই মামলায় পুলিশ একই গ্রামের মোবারক মাষ্টারের ছেলে খোকন মাতুব্বর (২৮), আলতা মাতুব্বরের ছেলে কামাল মাতুব্বর ও আক্তার মাতুব্বরের ছেলে সুজকে (২৭) আটক করে। স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িত দুই সহোদরের নির্দেশে তারা থানায় এলে পুলিশ তাদের আটক করে। আটককৃত সকলেই ওই দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজনীতিতে জড়িত বলে জানা গেছে। তাদের অনুমতি ছাড়া তারা কোন কাজই করে না বলে নিহতের পরিবার জানায়।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুন তারাবি নামাজ পরতে গিয়ে নিখোঁজ হন তালমা নাজিম উদ্দিন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র গ্রীস প্রবাসী আবুল হোসেন মাতুব্বরের ছেলে অন্তর। এর পরে ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অন্তরের মাকে মোবাইল করে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। ১৪ জুন রাতে অপহরণকারীদের বলা জায়গায় মুক্তিপণের ১ লাখ ৪০ হাজার টাকাও দেয় অন্তরের মা। কিন্তু এর পরেও ছেলের মুক্তি মেলেনি। মুক্তিপণ দিয়েও সন্তানকে ফিরে না পেয়ে বিলনালিয়ার মোবারক মাষ্টারের ছেলে খোকন মাতুব্বরকে (৩৫) প্রধান আসামি করে ১৬ জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন জান্নাতি বেগম।

এ ব্যাপারে গত ২৩ জুন দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতায় ‘পুলিশের সামনে মুক্তিপণ নিলো অপহরণকারীরা’ শীর্ষক একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়।

৫ আসামির বাড়িতে আগুন
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের চর মানিকদি পাগলপাড়া গ্রামে স্কুলছাত্র আলাউদ্দিন মাতুব্বর অন্তর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ৫ আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার পর থেকে আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে অন্তরের লাশ উদ্ধারের পরপরই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে গ্রামবাসী। এরপর তারা একে একে আসামি মাহবুব আলম, হেলাল শেখ, ওবায়দুর মাতুব্বর, মাহবুব আলম ও আশরাফ শেখের বসতবাড়িসহ ৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলে জানা গেছে।

এঘটনার পর পাগলপাড়া গ্রামে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত অন্তর তালমা নাজিম উদ্দিন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং গ্রীস প্রবাসী আবুল হোসেন মাতুব্বরের ছেলে।

গত ৭ জুন রাতে তারাবীহ নামাজ পড়তে বাসা হতে বের হলে তাকে অপহরণ করা হয়। ওই রাতেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।

এরপর ১৪ জুন রাতে হত্যাকারীরা মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

আরো পড়ুন :

মুক্তিপণের টাকা গুনে অপহরণকারীর হাতে তুলে দিলো পুলিশ
হারুন আনসারী, ফরিদপুর ২২ জুন ২০১৮
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় শিশু অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা গুনে অপহরণকারীর হাতে তুলে দিলো পুলিশ। পুলিশের সামনে মুক্তিপণের সেই টাকা নিয়ে নির্বিঘ্নে চলে গেছে অপহরকারীরা। অপহরণকারীদের দেয়ার আগে দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকাও গুনে দিয়েছে পুলিশ এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। মুক্তিপণের টাকা গুনে দেয়ার ছবি থাকার পরেও পুলিশ এখন অস্বীকার করছে বিষয়টি। আর পুলিশের অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও সদস্যরাও মুক্তিপণের টাকা দেয়ার সময় তাদের উপস্থিতির বিষয়টি অস্বীকার করছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের চর মানিকদি পাগলপাড়া গ্রামে। এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে সন্তানকে উদ্ধারে সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেছে অপহৃত কিশোরের মা ও পাগলপাড়া গ্রামের সাইপ্রাস প্রবাসী আবুল হোসেন মাতুব্বরের স্ত্রী জান্নাতি বেগম।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আজ শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে সন্তানকে উদ্ধারের আকুতি জানান তিনি। এসময় কান্নায় ভেঙে পরেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে জান্নাতি বেগম বলেন, তার বড় ছেলে আলাউদ্দিন ওরফে অন্তর মাতুব্বর তালমা নাজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। গত ৭ জুন বৃহস্পতিবার তারাবি নামাজ পড়ার জন্য রাত ৮টার কিছু আগে বাসা হতে বের হয়। এরপর সে আর বাসায় ফিরেনি তবে ৩ বার তার সাথে মোবাইলে কথা হয়। রাত ১০টার পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ৮ জুন রাতে নগরকান্দা থানায় একটি জিডি করা হয়।

এদিকে, থানায় জিডি করার বাসায় ফেরার পরই অন্তরের মোবাইল থেকে জান্নাতির মোবাইলে একটি ম্যাসেজ পাঠানো হয়। তাতে অন্তরকে অপহরনের কথা জানিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। একাধিকবার ফোন করে ও ম্যাসেজ পাটিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ০১৮৭৬৭৬৮১২৮ নম্বরে ৫ লাখ টাকা বিকাশ করে পাঠাতে বলে। র‌্যাব-পুলিশকে জানাতে নিষেধ করেছিলো তবে ঘটনার পরপরই ৮ জুন তিনি পুলিশ ও র‌্যাব অফিসে গিয়ে অন্তরের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে আসেন।

সর্বশেষ ১৪ জুন আবারও অন্তরের মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে ভাঙ্গার একটি প্রইমারী স্কুলের ঠিকানায় যেতে বলে। কিছুক্ষণ পর তাদেরকে ভাঙ্গার বদলে তালমা জাইল্যা ব্রিজের নিকট এবং তারপর কোনাগাঁও চকের একটি শ্যালো মেশিন ঘরের মধ্যে টাকা রেখে আসতে বলে।

জান্নাতি বলেন, তখন রাত হয়ে গিয়েছিলো। আমাকে একা যেতে বলেছিলো। কিন্তু আমার ভয় করছে জানিয়ে কান্নাকাটি করলে তারা আমার সাথে দু’জন লোক নিয়ে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেয়। আমি নগরকান্দা থানার এসআই কবির দারোগা ও অন্য দু’জন পুলিশকে নিয়ে সেখানে যাই। পুলিশদের আড়ালে দাড় করিয়ে মাত্র ১৫ গজ দুরে মেশিন ঘরের মধ্যে একটি হাড়ির মধ্যে মুক্তিপণের ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা রেখে আসি।

জান্নাতি বলেন, ‘এসময় আমি ও অন্য দুই পুলিশ কিছুক্ষণ পর দেখতে পাই, ছোট্ট টর্চের আলো জ্বালিয়ে দু’জন লোক টাকা মেশিন ঘরে টাকা খুঁজছে। পুলিশ ও তাদেরকে দেখে।’

‘‘টাকা যায় যাক, এখন ওদের ধরা যাবে না। টাকা গেলে টাকা পাওয়া যাবে কিন্তু ছেলে গেলে ফিরে আসবে না।’ পুলিশরা তাকে একথা বলে বলে জান্নাতি জানায়।

এই সময় অদুরে রাস্তায় পুলিশের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাও ছিলেন বলে জান্নাতি বেগম সাংবাদিকদের জানান। ওই কর্মকর্তা তাকে টাকা দিতে না করেননি। অপহরনকারীরা পুলিশের সামনেই মুক্তিপণের ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে আবারও লাপাত্তা হয়ে যায়। এরপর ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে বললে প্রথমে অপহরনকারীরা জানায়, আধঘন্টা পর ছেলেকে হাতপা বাধা অবস্থায় পাবে। পরে জানায়, পার্শ্ববর্তী বিলনালিয়া গ্রামের জনৈক খোকন তার ছেলের সন্ধান জানে।

জান্নাতি বেগম লিখিত বক্তব্যে জানান, অপহরনকারীদের দেয়ার আগে মুক্তিপনের টাকা গুনে দেখেন নগরকান্দা থানার সার্কেল ইন্সপেক্টর সাইফুল। যার একটি ছবি এবং ভিডিও তিনি সাংবাদিকদের সরবরাহ করেন। টাকা দেয়ার আগে তিনি তার পরিবারের লোকজন ও পুলিশকে নিয়ে বৈঠক করেন । এসময় টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে তিনি জানান।

এদিকে, মুক্তিপণ দিয়েও সন্তানকে ফিরে না পেয়ে বিলনালিয়ার মোবারক মাষ্টারের ছেলে খোকন মাতুব্বরকে (৩৫) প্রধান আসামী করে ১৬ জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন জান্নাতি বেগম।

অন্তরের খালাতো ভাই সাইফুল ইসলাম সাব্বির জানান, ওই মামলায় পুলিশের কোন তৎপরতা না দেখে তারা স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতার দ্বারস্থ হন তিনি। এরপর ওই নেতার নির্দেশে খোকন সহ আলতা মাতুব্বরের ছেলে কামাল মাতুব্বর (২৮) ও আক্তার মাতুব্বরের ছেলে সুজন (২৭) থানায় গেলে পুলিশ তাদের আটক করে।

এ ব্যাপারে জানতে নগরকান্দা থানার সার্কেল ইন্সপেক্টর সাইফুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, টাকা গুনে দেয়াতো দুরের কথা, মুক্তিপণের টাকা দিয়েছে কিনা কিংবা কোথায় দিয়েছে তাই তিনি জানেন না।

নগরকান্দা থানার ওসি সৈয়দ লুৎফর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। মুক্তিপণের টাকা লেনদেনের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।

সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মহিউদ্দিন জানান, ৯ জুন অন্তর মোটর সাইকেলে ফরিদপুরে আসে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মুক্তিপণের টাকা লেনদের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি টাকা দিতে না করেছিলাম।


আরো সংবাদ