১৫ নভেম্বর ২০১৮

শরীয়তপুরে সরকারি ভবন নির্মাণে অনিয়ম : মামলা, একজন জেলহাজতে

-

শরীয়তপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে (এলজিইডি) সিডিউল বহির্ভূতভাবে পাথরের স্থলে ইটের খোঁয়া দিয়ে ঢালাই কাজ করায় ঠিকাদারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সদর উপজেলা প্রকৌশলী এ এফ এম তৈয়াবুর রহমান। এ সময় কাজের সাইড থেকেই ঠিকাদার প্রতিনিধি আবু আলেমকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠিয়েছে পালং মডেল থানা পুলিশ। মামলার অপর আসামিরা পলাতক রয়েছে।

মামলার এজাহার ও সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণের জন্য নিয়মানুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা ঝিনাইদহ জেলার মেসার্স লিটন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: মিজানুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়। ঠিকাদার মিজানুর রহমান তার বরাদ্দকৃত ভবন নির্মানের জন্য শরীয়তপুর পৌরসভার কাশাভোগ এলাকার আবু আলেম ও আব্দুল মান্নান মনাকে নিয়োগ করেন। গত ২৩ জুন তারিখে ঠিকাদার ও তার প্রতিনিধিরা কাজে নিয়োজিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহাসুদ্দিন খানকে বা উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত না করে গ্রেড বীম ঢালাই করে। সিডিউলবহির্ভূত পাথরের স্থলে ইটের খোঁয়া ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার না করতে উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে ঠিকাদার ও তার প্রতিনিধিদের মৌখিকভাবে জানিয়ে দেয়া হয়। সিডিউল অমান্য করে কাজ করার সংবাদ পেয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাজের সাইডে গিয়ে সিডিউলবহির্ভূত কাজ ভেঙ্গে অপসারণ করান। এ সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়ার উপর চড়াও হয়।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশে উপজেলা প্রকৌশলী এফ এম তৈয়াবুর রহমান তিনজনকে আসামি করে মামলা করে।

দায়িত্বরত উপ-সহকারি প্রকৌশলী শাহাসুদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী একে এম বাদশা মিয়া।

এ ব্যাপারে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাহাব উদ্দিন বলেন, ঈদের ছুটির ফাকে আমাদের না জানিয়ে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া দিয়ে ঢালাই দেয়াতে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা ঠিকাদারের শাস্তি চাই।

শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী এ এফ এম তৈয়াবুর রহমান বলেন, ঠিকাদার ঈদের ছুটির মধ্যে আমাদের না জানিয়ে ঢালাই দেয়। তখন পাথরের পরিবর্তে ইটের খোঁয়া ব্যবহার করে। পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী ও আমি গিয়ে ঢালাই ভেঙ্গে দিয়েছি।

নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বাদশা মিয়া বলেন, আংগারিয়া ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণে অনিয়ম হচ্ছে খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি গ্রেড বীম ঢালাইতে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোঁয়া ব্যবহার ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহার করা নির্মাণ সামগ্রী অপসারণ করায় ঠিকাদার ও তার লোকজন আমাদের উপর চড়াও হয়। বিষয়টি সাথে সাথে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে জানানো হয় এবং ঠিকাদার ও তার প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা করি। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবর প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।


আরো সংবাদ