২০ অক্টোবর ২০১৮

চান্দিনায় প্রতিদিন বিক্রি প্রায় ৬ কোটি টাকা

-

জমে উঠেছে ঈদ বাজার। রাজধানী বা জেলা শহরের শপিং মলের পোশাক ও কসমেটিক মার্কেট থেকে বিকিকিনিতে কোন অংশে পিছিয়ে নেই নেই উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের দোকানগুলোতে। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন অন্তত ৬ কোটি টাকা। যা গত যে কোন বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
দৈনিক অন্তত ৬ কোটি টাকা বিক্রির আওতায় রয়েছে উপজেলার চান্দিনা বাজার, মাধাইয়া বাজার ও নবাবপুর বাজার। এর মধ্যে শুধুমাত্র চান্দিনা বাজারেই প্রতিদিন অন্তত ৫ কোটি টাকারও বেশি কাপড়-চোপড়, জুতা ও প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে চান্দিনা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতা আকর্ষনের জন্য প্রতিটি কাপড়, জুতা ও প্রসাধনীর দোকানে বাড়তি আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। প্রতিদিনের বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে বাজারের কাপড়িয়া পট্টির গলি গুলোর উপরে ত্রিপাল দেওয়া হয়েছে। যাতে করে কাপড় পট্টির ভিতরে এ মার্কেট থেকে ওই মার্কেটে ক্রেতাদের যাতায়াতে বিঘœ না ঘটে।
চান্দিনা বাজারে অন্তত পাঁচ শতাধিক লেডিস, জেন্টস ও চিলড্রেনদের কাপড় দোকান রয়েছে। ওই সব দোকানগুলোতে সর্ব নি¤œ ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রায় ৭০টি জুতা দোকানে গড়ে বিক্রি হচ্ছে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। ৬০টি প্রসাধনী দোকানেও প্রতিদিন অর্ধকোটি বিক্রি হচ্ছে।
চান্দিনা কাপড় বাজারের ব্যবসায়ী সুমন দেবনাথ জানান, কাপড় পট্টিতে যে পরিমান বেচাবিক্রি হচ্ছে এর মধ্যে লেডিস ও চিলড্রেনদের আইটেমই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তুলনা মূলক জেন্টস আইটেম বিক্রি কম। তবে কাপড় পট্টির বাহিরে জেন্টস আইটেম ভাল বিক্রি হচ্ছে।
তবে চান্দিনা কাপড়িয়া পট্টির চেয়ে হাই স্কুল মার্কেটে রয়েছে তরুন ও যুবকদের পছন্দের পোশাকের সমাহার। যারফলে তরুন ও যুবকরা ওই সব দোকানগুলোতেই বেশি ভীড় জমাচ্ছে।
বাজারের সাজ্জাত সুজ এর মালিক সাজ্জাত হোসেন জানান, রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে ক্রেতারা কাপড়-চোপড় কেনাকাটায় বেশি ব্যস্ত থাকে। জুতার চাহিদা সব সময় পড়ে। এখন কেনাকাটা প্রায় শেষের দিকে। যারফলে নিজের পছন্দের পোশাকের সাথে মানিয়ে জুতা কিনতে ভীড় করছে। গত ৪-৫দিন যাবৎ জুতা বিক্রি বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিটি জুতা দোকানে গড়ে ৫০-৬০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের সব চেয়ে বড় প্রসাধনী দোকান টিপু কসমেটিক্স এর মালিক টিপু আহমেদ জানান, বাজারে অন্তত ৬০টিও বেশি প্রসাধনী দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকানে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আশা করি বৃহস্পতি ও শুক্রবার আশাকরি বিক্রি আরও বাড়বে। এখন প্রতিটি নারী-ই তার পছন্দের পোশাকের সাথে মিল রেখে তার প্রসাধনী কিনতে ভীড় জমাচ্ছে।
চান্দিনা বনিক সমিতির সভাপতি এরশাদুল হক ভ‚ইয়া জানান, গত যে কোন বছরের তুলনায় এবছর ঈদের মার্কেট বেশি জমজমাট। তবে বৃষ্টির ধারাবাহিক হানা না থাকলে হয়তো আরও বেশি বৃদ্ধি পেতো।


আরো সংবাদ