- হোম >
- বিস্তারিত >
- শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে ধনীদের হাতে
শেষের পাতা
শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে ধনীদের হাতে
২ শতাংশ শেয়ার সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা
আশরাফুল ইসলাম
নিয়ন্ত্রক সংস'া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন ব্যাংক পরিচালকেরা। এসইসি নীতিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক হতে হলে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে কোম্পানির ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। এক হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের একটি ব্যাংক পরিচালকের নীতিমালা অনুযায়ী ২০ কোটি টাকার শেয়ার ধারণ করতে হবে, যা অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এতে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার চলে যাবে ধনীদের হাতে। মার্কেট শেয়ার হারাবে সাধারণ মানুষ।
অন্য দিকে এ সুবাদে পুঁজিবাজারকে কৃত্রিমভাবে অসি'তিশীল করে কম দামে বাজার থেকে শেয়ার কেনার অভিযোগ উঠেছে একশ্রেণীর পরিচালকদের বিরুদ্ধে। আর এ জন্য বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ অসি'রতার মধ্যে গত এক সপ্তাহে ৫৫০ পয়েন্ট সূচক হারিয়েছে পুঁজিবাজার।
বিশ্লেষকদের মতে, এতে বেশি পরিচালক বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ধনিক শ্রেণীর পরিচালকদের হাতে চলে যাবে। কমে যাবে মার্কেট শেয়ার। অন্য দিকে পরিচালকের পদ ধরে রাখার জন্য পরিচালকেরা কৃত্রিমভাবে হস্তক্ষেপ করবে। এতে বাজার চাঙ্গা হওয়ার পরিবর্তে আরো অবনতি হবে।
জানা গেছে, গত ৯ ডিসেম্বর এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এসইসি। এতে বলা হয়, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির পরিচালকদের বাধ্যতামূলক ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। আর এ জন্য ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এ সময়সীমা যতই ঘনিয়ে আসছে বাজার ততই অসি'তিশীল হয়ে উঠছে; কেননা এখন বেশির ভাগ ব্যাংকের পরিচালক ২০ জনের ওপরে রয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংকের ৩২ জনেরও ওপরে রয়েছে। ব্যাংক অনুমোদনের সময় এক একজন পরিচালকের সর্বোচ্চ শেয়ার মূল্য ছিল এক কোটি টাকা। ১০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকার মধ্যে বেশির ভাগ পরিচালকের শেয়ার ছিল।
বর্তমানে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী একটি ব্যাংকের মূলধন কমপক্ষে ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। তবে কোনো ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ৯ শতাংশ হারে ৪০০ কোটি টাকার বেশি হলে বর্ধিত হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে। এ অনুযায়ী বড় ব্যাংকগুলোর মূলধন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। কারণ বড় ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ অন্য ব্যাংকের তুলনায় বেশি রয়েছে।
এখন এক হাজার কোটি টাকার মূলধনের একটি ব্যাংকের প্রতি পরিচালককে এসইসি নীতিমালা অনুযায়ী কমপক্ষে ২০ কোটি টাকার শেয়ার ধারণ করতে হবে। কিন' বেশির ভাগ ব্যাংক পরিচালকের ২০ কোটি টাকার সক্ষমতা নেই বলে জানান একজন উদ্যোক্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যাংক পরিচালক গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, তারা ব্যাংকের লাইসেন্স নেয়ার সময় সর্বোচ্চ এক কোটি টাকার মূলধন ধারণ করেছিলেন। এখন ব্যাংক পরিচালকের পদ ধরে রাখার জন্য কমপক্ষে তাকে ২০ কোটি টাকার শেয়ার ধারণ করতে হবে, যা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ ছাড়া ব্যাংক পরিচালকও বেড়ে গেছে। সব মিলে পরিচালকদের মধ্যে এক ধরনের অসি'রতা বিরাজ করছে।
যেভাবে বেড়ে যায় ব্যাংক পরিচালক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অধিকতর কার্যকর ও সুস্পষ্ট করতে ২০০৭ সালে সরকার এক অধ্যাদেশ জারি করে। অধ্যাদেশে পরিচালকের মেয়াদ, সংখ্যা ও ব্যাংকের শেয়ার ধারণের ক্ষমতার বিষয়ে আরো স্পষ্ট করা হয়।
অধ্যাদেশে বলা হয়, আমানতকারীদের মধ্য থেকে নিযুক্ত পরিচালক ব্যতিরেকে কোনো ব্যাংক কোম্পানিতে ১৩ জনের অধিক পরিচালক থাকবে না। অন্য দিকে কোনো পরিবারের শতকরা ৫ ভাগের অধিক শেয়ারের অধিকারী হলে ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্য থেকে অনধিক দু’জন পরিচালক থাকবেন এবং শেয়ার ৫ শতাংশের কম হলে একজন পরিচালক থাকবেন। আগে উদ্যোক্তা পরিচালকের সংখ্যা পরিচালকদের মোট সংখ্যার অর্ধেক অপেক্ষা কম হলে কোনো পরিচালক দুই মেয়াদে ছয় বছরের পর একাধিকক্রমে তৃতীয় মেয়াদে আরো তিন বছর পরিচালক থাকতে পারতেন; কিন' সংশোধনীতে উল্লেখ করা হয়, একজন পরিচালক একাধিকক্রমে দুই মেয়াদে ছয় বছরের বেশি পরিচালক থাকতে পারবেন না।
সংবিধান অনুযায়ী নব গঠিত সংসদ অধিবেশনের প্রথম এক মাসের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না হলে ওই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা আর থাকবে না। অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত না হওয়ায় ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারায়। নতুন আইন বা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো নির্দেশ না দেয়ায় বিষয়টি এখন ঝুলে রয়েছে। এর পর থেকে যেসব ব্যাংক পরিচালক সংখ্যা ১৩-তে নামিয়ে এনেছিল, তারা আবার পরিচালকের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। এখন ৩২ জনের বেশি পরিচালক রয়েছে কোনো কোনো ব্যাংকের।
কমে যাবে ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার : বিশ্লেষকদের মতে, এসইসির নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হলে সাধারণের মার্কেট শেয়ার কমে যাবে। বাড়বে পরিচালকের শেয়ার। কেননা ৩২ জন পরিচালক বিশিষ্ট একটি ব্যাংকের ২ শতাংশ হারে ৬৪ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা চলে যাবে পরিচালকের হাতে। এতে সাধারণের শেয়ার কমে যাবে। তবে পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কেট শেয়ার কমে গেলেও বাজার অসি'তিশীল হবে না; কারণ ব্যাংক পরিচালকেরা শেয়ারের দাম বেড়ে গেলে তাদের হাতে থাকা সব শেয়ার ছেড়ে দিতে পারবে না। তাদের স্বার্থেই তারা শেয়ার ধরে রাখবেন। বর্তমানে বেশির ভাগ পরিচালকের শেয়ার ১ শতাংশের নিচে রয়েছে। গত ২০১০ সালের ডিসেম্বরের আগে বাজার অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ পরিচালকই তাদের শেয়ার ছেড়ে দিয়েছিলেন। এরও পর বাজার পড়ে যাওয়ার পর তাদের বেশির ভাগই শেয়ার কেনেননি। এরই ভিত্তিতে বাজার আজো আগের অবস'ানে ফিরে যায়নি।
বাজার অসি'তিশীল করার অভিযোগ : এ দিকে বেশির ভাগ পরিচালকের শেয়ার ২ শতাংশের কম থাকায় এসইসি নীতিমালা অনুয়ায়ী আগামী ছয় মাসের মধ্যে পরিচালকের পদ টিকিয়ে রাখার জন্য ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ২ শতাংশের শেয়ার ধারণ করতে হলে বেশি ব্যয় করতে হবে। এ জন্য কৃত্রিমভাবে বাজার অসি'তিশীল করার অভিযোগ করছেন কেউ কেউ। বিশ্লেষকদের মতে, মাঝে মধ্যে একই প্রজ্ঞাপন বিভিন্নভাবে দেয়ার চেষ্টা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো প্রশ্ন ছাড়াই পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ করা যাবে। এখন আবার কালো টাকার নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা চলছে। একবার বলা হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী শেয়ার কিনতে পারবেন না, আবার কিছুক্ষণ পর তা অস্বীকার করা হচ্ছে। কিন' এসব প্রচারণায় বাজার তার সূচক হারাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসই সূচক পাঁচ হাজার পয়েন্টের কোটা থেকে চার হাজার ৪৮৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
বিস্তারিত মন্তব্য
মন্তব্য করার জন্যে লগইন করুন-
- জামিন নাকচ, ৩৩ নেতা জেলে বিস্তারিত
- ফজলুল কাদের চৌধুরীর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল বিস্তারিত
- প্রত্যাবর্তন বিস্তারিত
- মির্জা ফখরুল, খোকাসহ ১৪ বন্দীকে ডিভিশন অন্যরা সাধারণ সেলে বিস্তারিত
- ওসামাকে হত্যা করেনি যুক্তরাষ্ট্র তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বিস্তারিত
- আন্দোলনের কৌশল নিয়ে নেতাদের সাথে খালেদা জিয়ার বৈঠক বিস্তারিত
- বিরোধী নেতাদের নির্যাতন দেশবাসী কখনোই মেনে নেবে না : জামায়াত বিস্তারিত
- রাজধানী হঠাৎ স্থবির বিস্তারিত
- আইএমএফের ঋণ শর্তসাপেক্ষেই হয় বিস্তারিত
- শফিক রেহমানকে আদালতে তলব বিস্তারিত


