- হোম >
- বিস্তারিত >
- রাজপথ দখলের প্রস্তুতি দু’ পক্ষের
প্রথম পাতা
রাজপথ দখলের প্রস'তি দু’পক্ষের
রাজপথ দখলের প্রস্তুতি দু’ পক্ষের
মঈন উদ্দিন খান
রাজপথ দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আগামী দিনে আন্দোলনের রাজনীতি তীব্রতর করার পরিকল্পনা নিয়ে সুসংগঠিতভাবে যাত্রা শুরুর প্রেক্ষাপটেই বিরোধী দলের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে সরকারি দল। বিরোধী দলের আন্দোলন ক্রমান্বয়ে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে অগ্রসর হওয়ায় প্রশাসনকে সঙ্গী করে আওয়ামী লীগ কঠিন অবস'ান নিতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজপথের আন্দোলন বিশেষ করে রাজধানীতে বিরোধী দলকে কোনো সুযোগ না দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে- যার প্রাথমিক প্রস'তি হিসেবে আগামীকাল রোববার ঢাকায় বিএনপির পূর্বঘোষিত ‘গণমিছিল’ কর্মসূচি মোকাবেলায় মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ। থানা ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তারা মিছিল করবে। পাশাপাশি অনেকটা আকস্মিকভাবেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সমাবেশ ডেকেছে তারা। বিরোধী দলের গণমিছিল কর্মসূচির ওপর রাখা হচ্ছে কড়া নজরদারি। মাঠে নেমেছে পুলিশ। নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস'ার সদস্যরাও। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের মামলার তালিকা হাতে নিয়ে তারা ঘুরছে। কয়েক দিন ধরে রাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় পুলিশি তল্লাশি চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলছে গ্রেফতার। আগামী মার্চের আগে দেশে যাতে সরকারবিরোধী বড় কোনো শোডাউন না হতে পারে সে জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বিরোধী দলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির দিনে আওয়ামী লীগের মাঠে নামার ঘোষণা সাংঘর্ষিক রাজনীতি উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তারা মনে করছেন, বর্তমান সরকার গত তিন বছরে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা সব উন্নয়ন কর্মসূচি থামিয়ে দিয়েছে। সরকার এই পরিসি'তি মোকাবেলায় সস্তা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে চলেছে। স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে উসকে দেয়ার মাধ্যমে বিরোধী দলকে কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছে। এখন চূড়ান্তভাবে বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণমিছিল : গত ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলো গ্রাউন্ডে চার দলের জনসভা থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস'া পুনর্বহাল এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে দু’টি বড় কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, যার একটি হচ্ছে আগামীকাল রোববার রাজধানীসহ সারা দেশে গণমিছিল; অন্যটি আগামী ১২ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশ তথা ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি। চারদলীয় জোটসহ সমমনা বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল একত্রে এ কর্মসূচি পালন করবে।
আগামীকালের গণমিছিল সফল করতে দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক প্রস'তি নিচ্ছে বিএনপিসহ শরিক ও সমমনা দলগুলো। দলগুলোর মহাসচিবদের নিয়ে দুই দফা বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর কমিটি আলাদাভাবে প্রস'তি নিয়েছে। ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে চলছে প্রচার-প্রচারণা। গণমিছিল সফলের পুরো প্রস'তি দেখভাল করছেন খালেদা জিয়া নিজে। ঢাকা জেলাসহ দলের প্রতিটি অঙ্গসংগঠনের নেতাদের ডেকে ইতোমধ্যেই সর্বাত্মক প্রস'তির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, গণমিছিল সফল করার ক্ষেত্রে কোনো বাধাই মানবে না বিএনপি। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘শান্তিপূর্ণ’ এই কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হলে ওই দিনই ‘হরতাল’ ডাকা হতে পারে।
জানা গেছে, গণমিছিল নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শানি-নগর কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি বিএনপি মালিবাগ, মৌচাক, মগবাজার হয়ে বাংলামটর জহুরা মার্কেটের সামনে গিয়ে শেষ হবে।
এ দিকে শানি-পূর্ণ গণমিছিল করতেও পুলিশের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, আমরা শানি-পূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক এই কর্মসূচি পালনের জন্য ঢাকার পুলিশ কমিশনারের সাথে কথা বলার জন্য বারবার চেষ্টা করেও তার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারিনি। তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আওয়ামী লীগ একই দিন ঢাকায় সমাবেশ করবে। সরকারের এই ফ্যাসিবাদী ও হিংসাত্মক আচরণের পরিণতি শুভ হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, গণমিছিলের প্রচারের অংশ হিসেবে পোস্টার লাগানোর সময় পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এরা হলেন- শাহবাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম স্বপন, বাবুপুরা ইউনিটের সহসভাপতি আলমগীর হোসেন, মফিজুল ইসলাম, আবদুল মোতালেব ও আবুল কালাম।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি সব সময়ই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পক্ষে। এর বহু প্রমাণ এই সরকারের আমলে রেখে চলেছে দলটি। কিন' সরকারের আচরণে মনে হচ্ছে, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পছন্দ করে না। এ জন্যই তারা বিরোধী দলের কর্মসূচি বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে। যদি কর্মসূচি বানচালের ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকে তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বিএনপি বাধ্য হবে।
মাঠে থাকছে আওয়ামী লীগও : বিরোধী দলের কর্মসূচির জবাবে এখন থেকে পাল্টা কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের নীতিনির্ধারকেরা প্রকাশ্যে এই কর্মসূচিকে ‘শান্তির পক্ষে সমাবেশ’ বললেও তাদের মূল টার্গেট বিরোধী দলের রাজপথের আন্দোলন দমিয়ে রাখা। প্রাথমিকভাবে আগামীকাল রোববার বিএনপিসহ চারদলীয় জোট ও সমমনা দলগুলোর গণমিছিলের জবাবে মহানগরীতে ‘শান্তি সমাবেশ’ করবে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এতে অংশ নেবেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নেতারা। কাল বেলা ৩টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এ কর্মসূচিতে ব্যাপক উপসি'তি নিশ্চিত করতে রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও মহানগর নেতাদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।
তিনি বলেছেন, বিরোধী দল রোডমার্চসহ নানা কর্মসূচি দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করছে। তাদের ষড়যন্ত্রের শেষ নেই। তাদের সব কর্মসূচি সন্ত্রাসের পক্ষে। তাই এখন আর বসে থাকার সময় নেই। বিএনপি-জামায়াত জোটের অপতৎপরতার জবাব আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও রাজপথে দেবে। তাদের কর্মসূচির জবাবে আমরাও শান্তির পক্ষে সমাবেশ করব।
এ দিকে আগামী ১২ মার্চ ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ স্লোগানে ঢাকায় চারদলীয় জোটের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত এই কর্মসূচি সফল করতেও বিএনপিসহ জোটের শরিক দলগুলোর প্রস'তি শুরু হয়েছে। আগামীকাল রাজধানীতে গণমিছিলের মধ্য দিয়ে এই প্রস'তি আনুষ্ঠানিক রূপ নেবে। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্মসূচির দিনে একই স'ানে রাজধানীতে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করার প্রস'তি চলছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এ সমাবেশ ডাকতে পারে। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অতিথি করা হতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল দাবিতে পল্টনে মহাসমাবেশ করবে বিএনপি-জামায়াত জোট। আর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের স'ান এখনো নির্ধারণ করা হয়নি তবে সেটা পল্টনেই হবে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপটেন (অব:) এ বি তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবিতে মার্চে ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের বড় ধরনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এর প্রস'তি হিসেবে কয়েক দিনের মধ্যেই ঢাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ ডাকা হবে। তবে দিনক্ষণ এখনো চূড়ান- হয়নি।
পাল্টা কর্মসূচির নেপথ্যে : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপিসহ চারদলীয় জোট বড় কর্মসূচি ডেকে ঢাকায় অবস'ান কিংবা অবরোধ কর্মসূচির দিকে যেতে পারে- এ রকম আশঙ্কা থেকেই মাঠে থাকার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। গোয়েন্দা সংস'ার রিপোর্টেও এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, বিরোধী দলের মহাসমাবেশ ঠেকাতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নিজেদের মধ্যে প্রাথমিক পরামর্শ করেছেন। সেখানে কয়েকজন এমপিও উপসি'ত ছিলেন। ওই বৈঠকে বিরোধী দলের বড় কর্মসূচিগুলো কড়া নজরদারিতে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে আওয়ামী লীগ ও প্রতিটি অঙ্গসংগঠনকে প্রস'তি নিতে বলা হয়েছে।
বিস্তারিত মন্তব্য
মন্তব্য করার জন্যে লগইন করুন-
- জামিন নাকচ, ৩৩ নেতা জেলে বিস্তারিত
- ফজলুল কাদের চৌধুরীর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছিল বিস্তারিত
- প্রত্যাবর্তন বিস্তারিত
- মির্জা ফখরুল, খোকাসহ ১৪ বন্দীকে ডিভিশন অন্যরা সাধারণ সেলে বিস্তারিত
- ওসামাকে হত্যা করেনি যুক্তরাষ্ট্র তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বিস্তারিত
- আন্দোলনের কৌশল নিয়ে নেতাদের সাথে খালেদা জিয়ার বৈঠক বিস্তারিত
- বিরোধী নেতাদের নির্যাতন দেশবাসী কখনোই মেনে নেবে না : জামায়াত বিস্তারিত
- রাজধানী হঠাৎ স্থবির বিস্তারিত
- আইএমএফের ঋণ শর্তসাপেক্ষেই হয় বিস্তারিত
- শফিক রেহমানকে আদালতে তলব বিস্তারিত


