ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২, ১১ ফাল্গুন ১৪১৮, ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
  • হোম >
  • বিস্তারিত >
  • আবাহনী পারলেও পারেনি মোহামেডান

ক্রীড়া দিগন্ত

আবাহনী পারলেও পারেনি মোহামেডান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আবাহনী জয়ে থাকলেও ছন্দপতন ঘটল মোহামেডানের। গতকাল আবাহনী বিমানের সাথে সহজে পার পেলেও ওল্ড ডিওএইচএসে আটকে গেছে মোহামেডান। মিরপুর শেরেবাংলায় কাল হেরে যায় তারা আশরাফুলের ওল্ড ডিওএইচএসের কাছে ৪৯ রানের ব্যবধানে।
আসলে মোহামেডান এ দিন ভেঙে পড়ে নাবিল সামাদের বোলিংয়ে। প্রথম ব্যাটিং করতে নেমে ওল্ড ডিওএইচএস সংগ্রহ করেছিল চ্যালেঞ্জিং ২৬২ রান সাত উইকেটে। দলের সব ব্যাটসম্যানই এ ইনিংসে দারুণ খেলেন। দু’টি হাফ সেঞ্চুরি হলেও অন্যরাও ওয়ানডে ক্রিকেটের যে প্রয়োজন তাই করেছেন; ফলে প্রায় সব ব্যাটসম্যানের সহযোগিতায় দলীয় স্কোর চলে যায় ওই পর্যায়। এর মধ্যে রমিজ পিনজারা ৮১ বলে ৬০ ও আদনান রাজার ৬৩ বলে করা ৫৬ রানের দায়িত্বপূর্ণ স্কোরটা উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও শুভাগত হোমের ৩৮, ফয়সাল হোসেন ডিকেন্সের ৩৫, ওপেনার জিয়াউর রহমানের ২৮ ও মোহাম্মদ আশরাফুল ওপেনিংয়ে নেমে করেন ২৫ রান। বল হাতে মোহামেডানের ইয়াসিম মোর্তুজা দু’টি এ ছাড়া সৈয়দ রাসেল, নয়ন, নাঈম ইসলাম, ইমতিয়াজ লাভ করেন একটি করে উইকেট।
২৬৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর সামনে রেখে খেলতে নেমে মোহামেডানের ওপেনিং জুটি ৪৪ রান করে বিচ্ছিন্ন হয়। এ সময় আউট হন ফর্মে থাকা ইমরুল কায়েস ১৮ রান করে। ইমরুল কায়েস সুবিধা করতে না পারলেও ইমতিয়াজ ঠিকই হাফ সেঞ্চুরি করেন। ৬৫ বলে ৫২ করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া রমিজ রাজা জুনিয়র ৪০ ও সাত নম্বর ব্যাটসম্যান সামাদ বাট্টি করেছিলেন ৪৪ রান। আর কেউই খেলতে পারেননি দায়িত্ব নিয়ে। ফলে শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস ৪৮.১ ওভারে ২১৩ রান সংগ্রহের মধ্য দিয়ে। অবশ্য মোহামেডানকে আটকে দেয়ার পেছনে নাবিল সামাদ রাখেন বড় ভূমিকা। বল হাতে এ বোলার নেন তিনি ৫ উইকেট। ৪৫ রানের বিনিময়ে তিনি নেন ৫ উইকেট। তবে এর আগে সূচনাটা করেন আশরাফুল। দুই ওপেনারকে আউট করেন তিনিই। এরপর নাবিলে ব্যাটসম্যানরা ভেসে গেলে পরাজয় নিশ্চিত হয় মোহামেডানের। জয় নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে অবস'ান করছে এখন ওল্ড ডিওএইচএস ১৪ পয়েন্ট নিয়ে। মোহামেডানের পয়েন্ট সেই ১২।
অন্য দিকে বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত খেলায় আবাহনী জয়লাভ করে ৬৭ রানের বড় ব্যবধানে। প্রথম ব্যাটিং করে আবাহনী সংগ্রহ করেছিল ২৮৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর। দলীয় ২৮ রানে ফজলে রাব্বি আউট হওয়ার পর নেমেই আউট হন পিটার ট্রেগো। এরপর আনামুল ও পুনিত সিং মিলে দলীয় স্কোর নিয়ে যান ১০২-এ। এ সময় আউট হন আনামুল ৪৩ রানে। এরপর পুনিত জুটি বাঁধেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সাথে। এ জুটি ৪৯ রান যোগ করে আউট হন পুনিত ৭৫ বলে ৮২ করে। পরে রিয়াদ অন্যদের নিয়ে দলীয় রান নিয়ে যান ওই স'ানে। রিয়াদ ৭১ বলে করেছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। অন্যদের মধ্যে মার্শাল আইয়ুবের ২৬ ও রাজা ভাটিয়ার ২১ রান উল্লেখযোগ্য। আসিফ তিনটি এবং ৬ ওভার বল করে দুই উইকেট নেন মাশরাফি।
লাঞ্চের পর ২৮৬ রানের জবাবে খেলতে নেমে বিমান সুবিধা করতে পারেনি। ৯ রানে কাশিফ ও ৪৫ রানে অভিষেক আউট হওয়ার পর ৯৯ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন জুনায়েদ। ৪৪ করেছিলেন তিনি। এরপর খালিদ লতিফ কিছুক্ষণ টেনেছিলেন, এই যা। তিনি ৪০ রান করে রান আউট হওয়ার পর আর কেউই দাঁড়াতে পারেননি। শেষ হয়ে যায় বিমানের ইনিংস ২১৮ রানে। মাসুদ শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩৭ রানে। এ জয়ে আবাহনীর পয়েন্ট দাঁড়াল ১২। সমান খেলায় বিমানের ৪।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
মোহামেডান-ওল্ড ডিওএইচএস ম্যাচ
ওল্ড ডিওএইচএস ইনিংস : ২৬২/৭। রমিজ পিনজার ৬০, আদনান রাজা ৫৬, শুভাগত হোম ৩৮, ডিকেন্স ৩৫, জিয়াউর ২৮, আশরাফুল ২৫; ইয়াসিম মোর্তুজা ২/৫৫।
মোহামেডান ইনিংস : ২১৩/১০ (৪৮.১ ওভার)। ইমতিয়াজ ৫২, শরমাত ভাট্টি ৪৪, রমিজ রাজা ৪০; নাবিল সামাদ ৫/৪৫, আশরাফুল ২/২৭।
ফল : ওল্ড ডিওএইচএস ৪৯ রানে জয়ী।
আবাহনী-বিমান ম্যাচ : আবাহনী ইনিংস : ২৮৫/৭। পুনিত সিং ৮২, রিয়াদ ৫১, আনামুল ৪৩, মার্শাল ২৬; আসিফ হোসেন ৩/৪৯, মাশরাফি ২/১৯।
বিমান ইনিংস : ২১৮/৯। জুনায়েদ সিদ্দিকী ৪৪, খালিদ লতিফ ৪০, সেজান ৩৫, ফরিদউদ্দিন মাসুদ ৩৭ অপ:; আবুল হোসেন ২/৪৯।
ফল : আবাহনী ৬৭ রানে জয়ী।

বিস্তারিত মন্তব্য

মন্তব্য করার জন্যে লগইন করুন

সকল সংবাদ